যা করা যাবে না

ভুল কোনো পদক্ষেপ রোগীর অবস্থা আরো খারাপ করতে পারে কিংবা চিকিৎসায় বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

স্ট্রোক একটি জরুরি চিকিৎসা পরিস্থিতি। এ সময় দ্রুত চিকিৎসা সহায়তা নেয়ার পাশাপাশি কিছু কাজ থেকে বিরত থাকাও গুরুত্বপূর্ণ। ভুল কোনো পদক্ষেপ রোগীর অবস্থা আরো খারাপ করতে পারে কিংবা চিকিৎসায় বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

খাবার বা পানীয় দেবেন না

স্ট্রোকের কারণে অনেকের গিলতে সমস্যা হতে পারে। ফলে খাবার বা পানি শ্বাসনালিতে ঢুকে গিয়ে শ্বাসরোধের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই রোগী সচেতন থাকলেও চিকিৎসকের পরামর্শ না পাওয়া পর্যন্ত তাকে কোনো খাবার বা পানীয় দেয়া উচিত নয়। নিজে থেকে কোনো ওষুধও দেয়া যাবে না। বিশেষ করে অ্যাসপিরিন দেয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। কারণ রক্তনালি বন্ধ হয়ে হওয়ার পাশাপাশি মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের কারণেও স্ট্রোক হতে পারে। রক্তক্ষরণজনিত স্ট্রোকে অ্যাসপিরিন পরিস্থিতি আরো জটিল করে তুলতে পারে।

অপ্রয়োজনে রোগীকে নড়াবেন না

রোগীকে অপ্রয়োজনে নড়াচড়া বা এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় সরানো উচিত নয়। তবে তিনি যদি যানবাহন চলাচলের জায়গা বা অন্য কোনো বিপজ্জনক স্থানে থাকেন, নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়ার প্রয়োজন হতে পারে। সম্ভব হলে রোগীর মাথা ও ঘাড় স্থির রাখতে হবে। শ্বাস নিতে সমস্যা না হলে শুয়ে থাকা অবস্থায় অপ্রয়োজনে অবস্থান পরিবর্তন করা উচিত নয়।

চিকিৎসা নিতে দেরি করবেন না

স্ট্রোকের ক্ষেত্রে সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উপসর্গ কিছুক্ষণ পর কমে গেলেও বিষয়টিকে হালকা করে দেখা যাবে না। দ্রুত জরুরি চিকিৎসা সহায়তা নিতে হবে এবং রোগীর উপসর্গ ও অবস্থার বিষয়ে চিকিৎসাকর্মীদের বিস্তারিত জানাতে হবে।

নিজে থেকে রোগ নির্ণয়ের চেষ্টা নয়

মুখের এক পাশ বেঁকে যাওয়া, হাত দুর্বল হয়ে যাওয়া বা কথা জড়িয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে নিজে থেকে এটি কোন ধরনের স্ট্রোক তা নির্ধারণের চেষ্টা করা উচিত নয়। এসব লক্ষণ দেখা মাত্রই জরুরি চিকিৎসাসহায়তা নিতে হবে। স্ট্রোকের ধরন নির্ণয় করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নির্ধারণ করবেন চিকিৎসকরাই।

হৃদরোগের ওষুধ মনে করে কিছু দেবেন না

স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাক দুটোই জরুরি চিকিৎসা পরিস্থিতি হলেও দুটোর চিকিৎসা এক নয়। তাই হার্ট অ্যাটাকের চিকিৎসায় ব্যবহৃত কোনো ওষুধ নিজে থেকে স্ট্রোক আক্রান্ত ব্যক্তিকে দেয়া উচিত নয়। বিশেষ করে রক্তক্ষরণজনিত স্ট্রোক হলে অ্যাসপিরিনের মতো ওষুধ ক্ষতি বাড়াতে পারে।

আরও