অনেকেই মনে করেন, ব্যথা কমে গেলেই রোগ সম্পূর্ণ সেরে গেছে। কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি কিছুটা ভিন্ন।
টেনিস এলবো সাধারণত জীবনহানিকর কোনো রোগ নয় এবং অধিকাংশ রোগী সঠিক চিকিৎসা, বিশ্রাম ও নিয়মিত ব্যায়ামের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে পারেন। তবে এটি এমন একটি সমস্যা, যা অবহেলা করলে বা একই ধরনের চাপের কাজ চালিয়ে গেলে বারবার ফিরে আসতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজের ইচ্ছামতো দীর্ঘদিন ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়া বা বারবার স্টেরয়েড ইনজেকশন নেয়া মোটেও নিরাপদ নয়। এতে সাময়িকভাবে ব্যথা কমলেও টেনডনের আরো ক্ষতি হতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে সমস্যা জটিল আকার ধারণ করতে পারে।
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্দিষ্ট কিছু স্ট্রেচিং ও মাংসপেশি শক্তিশালী করার ব্যায়াম, পর্যাপ্ত বিশ্রাম, কাজের ধরনে পরিবর্তন এবং প্রয়োজনে ব্রেস ব্যবহার করলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ব্যথা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়। পাশাপাশি ফিজিওথেরাপি বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে নিয়মিত থেরাপি গ্রহণ করলে টেনডনের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা দ্রুত ফিরে আসে, ব্যথা কমে এবং পুনরায় এ সমস্যা হওয়ার ঝুঁকিও হ্রাস পায়। খুব অল্পসংখ্যক রোগীর ক্ষেত্রে, যখন দীর্ঘদিন চিকিৎসার পরও উপসর্গ কমে না, তখন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দিতে পারেন।
কনুইয়ের বাইরের অংশে দীর্ঘদিন ব্যথা, কিছু তুলতে গেলে অস্বস্তি, হাতের গ্রিপ দুর্বল হয়ে যাওয়া কিংবা দৈনন্দিন কাজ করতে সমস্যা হলে দেরি না করে একজন অর্থোপেডিক বা ফিজিক্যাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেয়া উচিত। সময়মতো চিকিৎসা শুরু করলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয় না এবং দ্রুত সুস্থ হওয়া সম্ভব।
প্রতিরোধ
টেনিস এলবো একবার হলে ভবিষ্যতে আবারো হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই শুরু থেকেই কিছু নিয়ম মেনে চললে এ সমস্যা অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব।
একই ধরনের কাজ দীর্ঘক্ষণ একটানা করবেন না
বারবার একইভাবে হাত ও কবজি ব্যবহার করতে হয়—এমন কাজ বা খেলাধুলার মাঝে নির্দিষ্ট সময় পরপর বিরতি নিন। প্রয়োজনে কাজের কৌশল পরিবর্তন করুন বা বিকল্প পদ্ধতি অনুসরণ করুন।
সঠিক ভঙ্গিতে কাজ করুন
কম্পিউটারে কাজ, রান্না, কাঠমিস্ত্রির কাজ, রঙ করা বা খেলাধুলার সময় হাত ও কবজির সঠিক অবস্থান বজায় রাখুন। ভুল ভঙ্গিতে দীর্ঘ সময় কাজ করলে টেনডনের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে।
নিয়মিত ব্যায়াম করুন
শরীরকে ফিট রাখতে নিয়মিত ব্যায়ামের পাশাপাশি হাত, কবজি ও কনুইয়ের মাংসপেশি শক্তিশালী করার ব্যায়াম করুন। স্ট্রেচিং ও শক্তিবর্ধক ব্যায়াম টেনডনের ওপর চাপ কমায় এবং আঘাতের ঝুঁকি কমে।
কাজের আগে ওয়ার্ম-আপ করুন
ভারী কাজ বা খেলাধুলা শুরুর আগে কয়েক মিনিট হাত, কবজি ও কাঁধের ওয়ার্ম-আপ এবং স্ট্রেচিং করলে টেনিস এলবো হওয়ার সম্ভাবনা কমে।
অতিরিক্ত চাপ এড়িয়ে চলুন
হঠাৎ করে ভারী জিনিস তোলা বা দীর্ঘ সময় একই কাজ করা থেকে বিরত থাকুন। প্রয়োজনে দুই হাতে ভার বহন করুন, যাতে একটি হাতের ওপর অতিরিক্ত চাপ না পড়ে।
ব্যথা শুরু হলে অবহেলা করবেন না
কনুইয়ে হালকা ব্যথা বা অস্বস্তি অনুভব করলেও সেটিকে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসা শুরু করলে রোগ দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে এবং দীর্ঘমেয়াদি জটিলতা এড়ানো যায়।
সচেতনতা, সঠিক কর্মপদ্ধতি, নিয়মিত ব্যায়াম এবং সময়মতো চিকিৎসা—এ চার বিষয় মেনে চললে টেনিস এলবোর ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব এবং দীর্ঘমেয়াদে হাতের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা বজায় রাখা যায়।