ঝুঁকি বেশি নারীদের

বেশির ভাগ নারী স্ট্রোককে খুব একটা গুরুত্বসহকারে নেন না। তারা মনে করেন স্ট্রোক শুধু পুরুষ মানুষকেই প্রভাবিত করে।

বেশির ভাগ নারী স্ট্রোককে খুব একটা গুরুত্বসহকারে নেন না। তারা মনে করেন স্ট্রোক শুধু পুরুষ মানুষকেই প্রভাবিত করে। বাস্তবে নারীদের মৃত্যুর পঞ্চম কারণ এটি। সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন অনুসারে, ৫৫-৭৫ বছর বয়সী প্রতি পাঁচজনের একজন নারী স্ট্রোকের ঝুঁকিতে রয়েছেন।

প্রতি বছর স্তন ক্যান্সারের তুলনায় স্ট্রোকের কারণে প্রায় দ্বিগুণ সংখ্যক নারী মারা যায়। স্ট্রোক করার পর প্রায় ৬০ শতাংশ নারী মারা যান।

নারীদের ঝুঁকি বেশি হওয়ার কারণ

নারীদের স্ট্রোকের ঝুঁকি বেশি হওয়ার কয়েকটি কারণ রয়েছে। উচ্চ রক্তচাপ স্ট্রোকের জন্য একটি প্রধান ঝুঁকি। প্রায় ৪০ শতাংশ নারীর উচ্চ রক্তচাপ থাকে। আবার যারা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য ওষুধ সেবন করছেন তারাও ঝুঁকিতে থাকেন।

প্রজনন সম্পর্কিত বিষয়গুলোর কারণে পুরুষের তুলনায় নারীদের স্ট্রোকের ঝুঁকির হার বেশি। গর্ভনিরোধক বড়ি, গর্ভাবস্থা ও মেনোপজ-পরবর্তী হরমোন থেরাপি সবই নারীদের স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। যেসব নারীর গর্ভবতী অবস্থায় প্রিক্ল্যাম্পসিয়া, এক্লাম্পসিয়া বা গর্ভকালীন ডায়াবেটিস থাকে তাদেরও স্ট্রোকের ঝুঁকি বেশি থাকে।

হাইপারটেনশন জার্নালে প্রকাশিত গবেষণা অনুসারে রেগে গেলে স্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে যায়। যাদের রাগের প্রবণতা যত বেশি, তাদের স্ট্রোকের ঝুঁকি তত বেশি। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা সহজে রেগে যান ও অন্যের প্রতি আগ্রাসী হন, তাদের ঘাড়ের ধমনির পুরুত্ব সহনশীল মানুষের তুলনায় বেশি। ধমনির অধিক পুরুত্ব স্ট্রোকের ‘রিস্ক ফ্যাক্টর’ হিসেবে বিবেচিত।

তবু নারীদের পুরুষদের তুলনায় গড় আয়ু বেশি। যেহেতু বয়সের সঙ্গে সঙ্গে স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে, তাই নারীদের সারা জীবনে স্ট্রোকের ঝুঁকি বেশি থাকে।

অন্যান্য কারণ যা একজন ব্যক্তির স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায় তার মধ্যে রয়েছে হৃদরোগ, অস্বাভাবিক হার্টের ছন্দ যেমন অ্যাট্রিয়াল ফাইব্রিলেশন, ধূমপান বা তামাক ব্যবহার ও শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা।

স্ট্রোকের লক্ষণগুলো দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া উচিত। সঠিক সময়ে চিকিৎসা না করালে মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে যায়। মস্তিষ্কে রক্ত ও অক্সিজেন চলাচলে ব্যাঘাত ঘটে। যার কারণে কোষগুলো মরে যেতে শুরু করে। তাই সঠিক সময়ে চিকিৎসা করানো হলে মৃত্যুঝুঁকি অনেকটা কমানো সম্ভব।

আরও