বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রন এক্সবিবি। সম্প্রতি বাংলাদেশেও এটি বিস্তার লাভ করেছে। লক্ষণ ও উপসর্গের দিক দিয়ে অতীতের চেয়ে এবারের ধরন বেশ আলাদা। এজন্য স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যাপারে অনেকেই উদাসীন। অথচ এবারেই জনসচেতনতা বেশি প্রয়োজন। কারণ ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের তুলনায় এবারের ধরন পাঁচ গুণ বেশি বিষাক্ত এবং এর মৃত্যুর হারও আগের চেয়ে বেশি।
লক্ষণ
কাশি ও জ্বর নেই কিন্তু শরীরে নানা ধরনের ব্যথা হয়। যেমন—
অস্থিসন্ধিতে ব্যথা
মাথাব্যথা
গলাব্যথা
পিঠে ব্যথা
ক্লান্তি ও ক্ষুধামান্দ্য
হালকা থেকে মাঝারি শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়া
অধিক ঝুঁকিতে রয়েছেন যারা
গর্ভবতী নারী, বয়স্ক ও দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তি এবং দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতা বিশেষ করে ডায়াবেটিস, হৃদ্রোগ, উচ্চ রক্তচাপ কিংবা কিডনি রোগে ভুগছেন এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এটি গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
রোগ নির্ণয়
আগের মতো নাকের সোয়াব (আরটি-পিসিআর বা অ্যান্টিজেন) পরীক্ষার মাধ্যমে সহজেই এবারের ভাইরাস শনাক্ত করা সম্ভব হয় না। এ ধরনের পরীক্ষায় বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ফলস নেগেটিভ রিপোর্ট আসে অর্থাৎ ব্যক্তি সংক্রমিত হলেও রিপোর্টে তা ধরা পড়ে না। এক্ষেত্রে আরো কিছু বাড়তি পরীক্ষা-নিরীক্ষা যেমন বুকের এক্স-রে এবং সিটি স্ক্যানের মতো ইমেজিং পরীক্ষার প্রয়োজন হয়।
সুরক্ষিত থাকতে করণীয়
হাঁচি বা কাশির সময় টিস্যু দিয়ে নাক-মুখ ঢেকে রাখুন।
ব্যবহৃত টিস্যু ঢাকনাযুক্ত ময়লার ঝুড়িতে ফেলুন।
ঘরের বাইরে বের হলে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করুন।
সাবান কিংবা হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহারের মাধ্যমে হাত জীবাণুমুক্ত রাখুন।
অপরিষ্কার হাতে চোখ, নাক বা মুখ স্পর্শ করবেন না।
সংক্রমিত ব্যক্তিদের থেকে অন্তত তিন ফুট দূরত্ব বজায় রাখুন।
যেকোনো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন।
যারা এরই মধ্যে করোনার নতুন ধরনে আক্রান্ত হয়েছেন, তারা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত বাড়ির অন্য সদস্যদের সংস্পর্শ যথাসম্ভব এড়িয়ে চলুন। পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন এবং পুষ্টিকর ও সহজপাচ্য খাবার খান। পর্যাপ্ত পানি পান করুন। নিয়মিত অক্সিমিটারের মাধ্যমে অক্সিজেনের মাত্রা পর্যবেক্ষণ করুন। যদি মাত্রা ৯০ শতাংশের নিচে নেমে যায় এবং অনেক বেশি শ্বাসকষ্ট হয়, তাহলে দ্রুত রোগীকে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যান এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।
লেখক: সিনিয়র কনসালট্যান্ট
মেডিসিন বিভাগ
ল্যাবএইড স্পেশালাইজড হাসপাতাল