বাংলাদেশে টাইফয়েড নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হয়। সেগুলো হলো বিশুদ্ধ পানির অভাব এবং দুর্বল স্বাস্থ্যসেবা কাঠামো। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, দেশের ৯৭ শতাংশ মানুষের কাছে পানি সহজলভ্য। তবে সব উৎসের পানি বিশুদ্ধ নয়। মাত্র ৪০ শতাংশ জনগোষ্ঠী স্বাস্থ্যকর স্যানিটাইজেশন ব্যবহার করছে। মোট জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি বিশুদ্ধ পানি ব্যবহার করে না। অনিরাপদ পানির কারণে টাইফয়েডের মতো পানিবাহিত রোগের সংক্রমণ বাড়ছে।
ঋতুভেদে পানির প্রাপ্যতা ওঠানামা করে। বর্ষাকালে অতিবৃষ্টির কারণে বন্যা সৃষ্টি হয়। যার কারণে নিরাপদ পানির অভাব দেখা দেয়। এছাড়া শীতকালে পানির স্তর নিচে নেমে যায়। তাই পার্বত্য অঞ্চলগুলোয় বিশুদ্ধ খাবার পানির অভাব দেখা দেয়।
২০২০ সালের একটি গবেষণা অনুসারে, খাওয়ার আগে হাত ধোয়া এবং রাস্তার পাশে বিক্রি হুওয়া খাবারের সঙ্গে টাইফয়েড জ্বরের সম্পর্ক রয়েছে। সাধারণত এ ধরনের খাবার খোলামেলা জায়গায় বিক্রি হয়। যার কারণে এগুলোয় বিভিন্ন ধরনের জীবাণু থাকে। খাবার রান্না করার আগে ভালো করে পরিষ্কার করারও প্রয়োজন হয়। সে কারণে খাবার পানি, শাকসবজি এগুলো টাইফয়েড সংক্রমণের একটি বড় উৎস।
বাংলাদেশের গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা একটি বিশাল সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রকাশিত বার্ষিক স্বাস্থ্য বুলেটিনে, ২০১৯ সালে, রেকর্ড করা হয়েছিল যে বাংলাদেশে প্রতি ১০ হাজার জনের জন্য মাত্র ছয়জন ডাক্তার, নার্স ও ধাত্রী নিযুক্ত রয়েছেন। চিকিৎসা কর্মীর অভাব একটি বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে, কারণ সব বাংলাদেশী নাগরিকের জন্য পর্যাপ্ত এবং সময়োপযোগী স্বাস্থ্যসেবার মৌলিক চাহিদা পূরণ হচ্ছে না। সরকারের স্বাস্থ্যসেবা অধিদপ্তরের মতে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স (ইউএইচসি) হলো বাংলাদেশের প্রাথমিক স্তরের যত্নের প্রথম রেফারেল স্বাস্থ্য সুবিধা। বেশির ভাগ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের ঘাটতি রয়েছে।
১৯৪০-এর দশকে যখন টাইফয়েডের জন্য অ্যান্টিবায়োটিক প্রথম চালু করা হয়েছিল, তখন মৃত্যুর হার ২৬ শতাংশ থেকে মাত্র ১ শতাংশে নেমে আসে। পরবর্তী ২০ বছরে, টাইফয়েডের ওষুধের আরো অনেক উন্নতি সাধন হয়। যার ফলে টাইফয়েডের প্রাদুর্ভাব এবং মৃত্যুঝুঁকি অনেকটা কমে আসে। তবে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য এ রোগ নিয়ন্ত্রণ করতে হলে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও জনসচেতনতা জরুরি।