হাইপোক্সিয়ার একটি ধরন হলো নীরব হাইপোক্সিয়া বা সাইলেন্ট হাইপোক্সিয়া। এটি হলে রোগীর শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা অত্যন্ত কমে যায়। কিন্তু কোনো ধরনের বাহ্যিক লক্ষণ প্রকাশ পায় না। কভিড আক্রান্ত অনেক রোগীর মধ্যে এ ধরনের হাইপোক্সিয়া দেখা যায়। সাধারণত রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা কমে গেলে বিভিন্ন ধরনের লক্ষণ প্রকাশ পায়। যেমন অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, শরীরের কোনো অঙ্গ বিকল হয়ে যাওয়া। এ ধরনের কোনো লক্ষণই তাদের মধ্যে দেখা যায় না।
হাইপোক্সিয়ায় আক্রান্ত হলে ব্যক্তির শরীরের টিস্যুগুলোয় পর্যাপ্ত পরিমাণে অক্সিজেন সরবরাহ হয় না। দেহে অক্সিজেনস্বল্পতা দেখা দেয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই মস্তিষ্ক, হার্ট, কিডনি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের ক্ষতি হতে পারে। একজন সুস্থ ব্যক্তির রক্তপ্রবাহে স্বাভাবিক অক্সিজেন স্যাচুরেশন ৯৫ শতাংশ বা তার বেশি। কিন্তু করোনা আক্রান্ত হলে তা ৪০ শতাংশের নিচেও নেমে এসেছে। এ অবস্থায় রোগীর তীব্র শ্বাসকষ্ট হওয়ার কথা। কিন্তু করোনাকালে রোগীদের এমন কিছু হয়নি। রোগীরা অনেকদিন পর বুঝতে পারত তার শ্বাসকষ্ট হচ্ছে। যার কারণে শরীরের ভেতরের জটিলতা বাড়তে থাকে।
কেউ করোনায় আক্রান্ত হলে তার ফুসফুসও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কিন্তু লক্ষণগুলো ধীরে প্রকাশ পায়। এ সময় রোগী জ্বরেও আক্রান্ত থাকে। যার কারণে অনেক ক্ষেত্রে রোগী শ্বাসকষ্টের লক্ষণগুলো দেখা দিলেও তা উপেক্ষা করে। তীব্রভাবে বোঝা যায় না। যার কারণে রোগী অনেক সময় এ বিষয়ে অবগত থাকে না। তবে সাইলেন্ট হাইপোক্সিয়ায় যে ধরনের লক্ষণগুলো দেখা দেয় সেগুলোর মধ্যে রয়েছে লাল বা বেগুনি টোন থেকে ত্বকের বর্ণহীনতা, ঠোঁটের রঙ নীলে পরিবর্তন, কঠিন শারীরিক পরিশ্রম না করলেও প্রচুর ঘাম হওয়া। এ ধরনের লক্ষণগুলো দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত।