এই খাদ্যতালিকায় থাকে প্রচুর শাকসবজি, ফলমূল, পূর্ণ শস্য, মাছ, কম চর্বিযুক্ত দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার, ডাল, বাদাম ও বীজ।
তবে যাদের দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগ (সিকেডি) রয়েছে বা যারা ডায়ালাইসিস নিচ্ছেন, তাদের ক্ষেত্রে এ ডায়েট অনুসরণের আগে অবশ্যই চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেয়া উচিত।
সোডিয়াম বা লবণ কম খান : "খাবারের অতিরিক্ত লবণ শরীরে পানি ধরে রাখে এবং রক্তচাপ বাড়ায়। কিডনি দুর্বল হলে শরীর থেকে অতিরিক্ত সোডিয়াম বের হতে পারে না। ফলে পা ফোলা, শ্বাসকষ্ট, উচ্চ রক্তচাপ এমনকি হৃদযন্ত্র ও ফুসফুসের চারপাশে তরল জমার মতো সমস্যাও হতে পারে।
কিডনি রোগীদের প্রতিদিন প্রায় ২ গ্রামের কম সোডিয়াম গ্রহণের পরামর্শ দেয়া হয়। এজন্য—
ফাস্টফুড, প্রক্রিয়াজাত ও অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন।
রান্নায় অতিরিক্ত লবণের বদলে বিভিন্ন প্রাকৃতিক মসলা ও ভেষজ ব্যবহার করুন।
টিনজাত সবজি, মাংস বা মাছ ব্যবহারের আগে ভালোভাবে পানি দিয়ে ধুয়ে নিন।
বাজার থেকে খাবার কেনার সময় লেবেলে সোডিয়ামের পরিমাণ দেখে নিন।
ফসফরাস ও ক্যালসিয়ামের ভারসাম্য বজায় রাখুন।
সুস্থ কিডনি শরীরের অতিরিক্ত ফসফরাস বের করে দেয়। কিন্তু কিডনি রোগে এ ফসফরাস জমে গেলে হাড় দুর্বল হয়ে যেতে পারে এবং হৃদরোগের ঝুঁকিও বাড়ে। তাই ফসফরাস নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি।
এজন্য—
বেশি করে তাজা ফল ও শাকসবজি খান।
কোমল পানীয়র পরিবর্তে স্বাস্থ্যকর পানীয় বেছে নিন।
অতিরিক্ত দুগ্ধজাত খাবার সীমিত করুন।
প্রয়োজন অনুযায়ী মাংস, মাছ ও হাঁস-মুরগির মাংস পরিমিত পরিমাণে খান।
কম ফসফরাসযুক্ত খাবার বেছে নেয়ার চেষ্টা করুন।
পটাশিয়াম নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
কিডনি দুর্বল হলে শরীরে অতিরিক্ত পটাশিয়াম জমে যেতে পারে, যা হৃৎস্পন্দনের মারাত্মক সমস্যা তৈরি করতে পারে।
কলা, আলু, অ্যাভোকাডো ও তরমুজের মতো কিছু খাবারে পটাশিয়াম বেশি থাকে। সবার ক্ষেত্রে এসব খাবার বাদ দেয়ার প্রয়োজন হয় না, তবে কিডনি রোগীদের চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্যতালিকা সাজানো উচিত।
তুলনামূলকভাবে কম পটাশিয়ামযুক্ত কিছু ফল ও সবজি হলো—আপেল, বরই, আনারস, বাঁধাকপি, সিদ্ধ ফুলকপি, ক্র্যানবেরি, স্ট্রবেরি, রাস্পবেরি ও ব্লুবেরি।
প্রোটিন গ্রহণে সতর্কতা : কিডনি রোগের অগ্রসর পর্যায়ে অতিরিক্ত প্রোটিন কিডনির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তাই এ সময় কতটুকু প্রোটিন প্রয়োজন, তা চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী নির্ধারণ করা উচিত।
তরল গ্রহণ : প্রাথমিক পর্যায়ের দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগে সাধারণত পানি বা অন্যান্য তরল সীমিত করার প্রয়োজন হয় না। তবে রোগের অবস্থা জটিল হলে চিকিৎসক তরল গ্রহণের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণের পরামর্শ দিতে পারেন।
সচেতন থাকুন : কিডনি সুস্থ রাখার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত পানি পান, রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং অপ্রয়োজনে ব্যথানাশক ওষুধ না খাওয়া। পাশাপাশি ধূমপান ও অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবার পরিহার করা জরুরি।
যদি প্রস্রাবে পরিবর্তন, শরীর ফুলে যাওয়া, দীর্ঘদিন উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা কিডনি রোগের অন্য কোনো লক্ষণ দেখা দেয়, তাহলে দেরি না করে নেফ্রোলজিস্ট বা কিডনি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেয়া উচিত। সঠিক সময়ে রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা শুরু করলে কিডনির ক্ষতি অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব।