কাঁধের ব্যথার পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে এবং সঠিক কারণ নির্ণয় না করে এটিকে ফ্রোজেন শোল্ডার বলা ঠিক নয়।
কাঁধ আমাদের শরীরের সবচেয়ে বেশি নড়াচড়া করতে সক্ষম জয়েন্টগুলোর একটি। তাই দৈনন্দিন কাজকর্ম, খেলাধুলা, ভারী জিনিস বহন বা দীর্ঘ সময় একই ভঙ্গিতে কাজ করার কারণে কাঁধের পেশি, টেনডন কিংবা জয়েন্টে সমস্যা দেখা দিতে পারে। এসব কারণেও কাঁধে ব্যথা হতে পারে। এছাড়া রোটেটর কাফ ইনজুরি, কাঁধের টেনডনে প্রদাহ, বুরসাইটিস, আর্থ্রাইটিস, ঘাড়ের স্নায়ুর সমস্যা কিংবা আঘাতের কারণেও কাঁধে ব্যথা হতে পারে।
অন্যদিকে ফ্রোজেন শোল্ডার বা অ্যাডহেসিভ ক্যাপসুলাইটিস হলো এমন একটি অবস্থা, যেখানে কাঁধের জয়েন্টের চারপাশের ক্যাপসুল শক্ত ও মোটা হয়ে যায়। ফলে কাঁধে ব্যথার পাশাপাশি জয়েন্টের নড়াচড়াও ধীরে ধীরে সীমিত হয়ে পড়ে। রোগীরা সাধারণত হাত মাথার ওপর তুলতে, পেছনে নিতে, চুল আঁচড়াতে, জামা পরতে বা পিঠ চুলকাতে অসুবিধা অনুভব করেন।
ফ্রোজেন শোল্ডারের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো এতে শুধু ব্যথা নয়, কাঁধ শক্ত হয়ে যাওয়াও দেখা যায়। শুরুতে ব্যথা বেশি থাকে, পরে ধীরে ধীরে কাঁধের নড়াচড়া কমে যায়। অনেক ক্ষেত্রে রাতে ব্যথা বেড়ে যায় এবং ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়। এ সমস্যা সাধারণত ৪০ থেকে ৬০ বছর বয়সীদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। ডায়াবেটিস, থাইরয়েডের সমস্যা, স্ট্রোক বা দীর্ঘদিন কাঁধ অচল থাকার ইতিহাস থাকলে ঝুঁকি আরো বেড়ে যায়।
তাই কাঁধে ব্যথা হলেই আতঙ্কিত হয়ে ফ্রোজেন শোল্ডার ভেবে নেয়া উচিত নয়। যদি ব্যথার সঙ্গে কাঁধের নড়াচড়া কমে যায়, হাত ওপরে তুলতে বা পেছনে নিতে সমস্যা হয় এবং এ অবস্থা দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকে, তাহলে দ্রুত একজন অর্থোপেডিক বা ফিজিক্যাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেয়া উচিত। সঠিক রোগ নির্ণয় ও সময়মতো চিকিৎসা নিলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কাঁধের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব।