শুধু শরীরের ওপর নয়, মানুষের আবেগ ও আচরণের ওপরও প্রভাব ফেলে স্ট্রোক। মস্তিষ্কে স্ট্রোকজনিত ক্ষতি ও রাসায়নিক পরিবর্তনের কারণে আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে যেতে পারে। ফলে স্ট্রোকের আগে কোনো পরিস্থিতিতে একজন ব্যক্তি যেভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাতেন, পরে একই পরিস্থিতিতে তার আচরণ ভিন্ন হতে পারে।
স্ট্রোকের পর মেজাজ দ্রুত পরিবর্তন, অস্বাভাবিক সময়ে কান্না বা হাসি এবং পরিস্থিতির সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ আবেগ প্রকাশের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। কখনো কান্না বা হাসি স্বাভাবিকের তুলনায় দীর্ঘ সময় ধরে চলতেও পারে।
বিষণ্নতা: স্ট্রোকের পর বিষণ্নতা খুবই সাধারণ। মস্তিষ্কের জৈব রাসায়নিক পরিবর্তনের পাশাপাশি স্ট্রোকের কারণে শারীরিক সক্ষমতা ও স্বাভাবিক জীবনযাপনে পরিবর্তনের মানসিক প্রতিক্রিয়া থেকেও এটি হতে পারে। বিষণ্নতা রোগীর চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে অংশগ্রহণের আগ্রহ ও প্রেরণা কমিয়ে দিতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, স্ট্রোকের পর বিষণ্নতার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
উদ্বেগ: প্রায় ২৫ শতাংশ স্ট্রোক আক্রান্ত ব্যক্তির মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিতে পারে। শারীরিক পরিশ্রম, শারীরিক ঘনিষ্ঠতা, একা থাকা, পড়ে যাওয়ার ভয়, মাথাব্যথা কিংবা আবার স্ট্রোক হওয়ার আশঙ্কা থেকে এ উদ্বেগ তৈরি হতে পারে। এতে পুনর্বাসন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ কমে যাওয়ার পাশাপাশি আনন্দদায়ক স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড থেকেও ব্যক্তি দূরে সরে যেতে পারেন। কোনো নির্দিষ্ট পরিস্থিতি বা বিষয়কে ঘিরে তীব্র ভয় তৈরি হলে তা ফোবিক উদ্বেগ হতে পারে। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অতিরিক্ত ও দীর্ঘস্থায়ী দুশ্চিন্তা থাকলে তা সাধারণীকৃত উদ্বেগের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
রাগ ও হতাশা: স্ট্রোকের পর তথ্য বোঝা ও প্রক্রিয়াজাত করার সক্ষমতায় পরিবর্তন, সহানুভূতির ঘাটতি বা আবেগপ্রবণ আচরণ দেখা দিতে পারে। চলাফেরায় সমস্যা এবং আগে সহজে করা কাজগুলো করতে না পারার হতাশা থেকেও রাগ তৈরি হয়। ক্লান্তি, বিভ্রান্তি, অন্যের আচরণ, নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারানোর অনুভূতি এবং অতিরিক্ত উদ্দীপনাও রাগের কারণ হতে পারে। কখনো মস্তিষ্কের আবেগ নিয়ন্ত্রণকারী অংশে ক্ষতির কারণে পরিস্থিতির সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে হঠাৎ রাগ, কান্না, হাসি বা চিৎকারের মতো প্রতিক্রিয়াও দেখা দিতে পারে।