সর্দি-জ্বরের পর নাক বন্ধ, মাথাব্যথা কিংবা মুখের ভেতর চাপ বা ব্যথা অনুভূত হওয়া অনেক সময় সাইনোসাইটিসের লক্ষণ হতে পারে। তবে সব সাইনোসাইটিসের ধরন ও স্থায়িত্ব এক নয়। উপসর্গ কতদিন ধরে রয়েছে এবং কতবার ফিরে আসছে, তার ওপর নির্ভর করে এর ধরন ও চিকিৎসা পদ্ধতিও ভিন্ন হতে পারে।
সময়ের ভিত্তিতে সাইনোসাইটিসের ধরন
স্থায়িত্ব অনুযায়ী সাইনোসাইটিসকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়। অ্যাকিউট সাইনোসাইটিস এক মাস বা তার কম সময় স্থায়ী হয়। এক থেকে তিন মাস পর্যন্ত থাকলে সেটি সাবঅ্যাকিউট সাইনোসাইটিস, তিন মাসের বেশি স্থায়ী হলে তাকে ক্রনিক সাইনোসাইটিস বলা হয়। ক্রনিক সাইনোসাইটিস কখনো কখনো কয়েক বছরও স্থায়ী হতে পারে। আবার এক বছরে কয়েকবার অ্যাকিউট সাইনোসাইটিসের আক্রমণ হলে সেটিকে রিকারেন্ট বা পুনরাবৃত্ত সাইনোসাইটিস বলা হয়।
অ্যাকিউট সাইনোসাইটিস
অ্যাকিউট সাইনোসাইটিস সাধারণত সর্দি বা ঠাণ্ডাজনিত ভাইরাস সংক্রমণের পর দেখা দেয়। সাধারণ সর্দি ভাইরাসের কারণে হওয়ায় এতে অ্যান্টিবায়োটিক কার্যকর নয়। তবে সর্দির পর নাকের ভেতরের পথ বন্ধ হয়ে মিউকাস জমে গেলে সেখানে ব্যাকটেরিয়ার দ্বিতীয় সংক্রমণ তৈরি হতে পারে। সেক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োজন হতে পারে। রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে খুব কম হলেও ছত্রাকের সংক্রমণ থেকেও সাইনোসাইটিস হতে পারে।
উপসর্গ তীব্র হলে কিংবা এক সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত। সাধারণত উপসর্গের ধরন এবং নাকের ভেতর পরীক্ষা করেই প্রাথমিকভাবে সাইনোসাইটিস শনাক্ত করা যায়। মুখে উষ্ণ সেঁক দিলে ব্যথা বা চাপের অনুভূতি কিছুটা কমতে পারে। বাষ্প গ্রহণও আরাম দিতে পারে। মাথাব্যথা বা জ্বর কমাতে কিছু ওভার দ্য কাউন্টার ব্যথানাশক ব্যবহার করা হয়। তবে বয়স, শারীরিক অবস্থা ও অন্য ওষুধ সেবনের বিষয় বিবেচনায় নিয়ে এসব ওষুধ ব্যবহারের আগে চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টের পরামর্শ নেয়া ভালো।
ক্রনিক সাইনোসাইটিসে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ জরুরি
উপসর্গ দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে বা বারবার ফিরে এলে ক্রনিক সাইনোসাইটিসের সম্ভাবনা থাকে। এক্ষেত্রে কান, নাক ও গলা (ইএনটি) বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেয়া প্রয়োজন। সমস্যার কারণ নির্ণয়ে চিকিৎসক নাক ও সাইনাসের সিটি স্ক্যান, এন্ডোস্কোপির মাধ্যমে নাকের ভেতর পরীক্ষা, রক্ত বা অ্যালার্জি পরীক্ষা এবং প্রয়োজনে ব্যাকটেরিয়ার কালচার করতে পারেন।
ক্রনিক সাইনোসাইটিসের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ডিকনজেস্ট্যান্ট, মিউকাস পাতলা করার ওষুধ কিংবা ন্যাসাল স্টেরয়েড ব্যবহার করা হতে পারে। তবে সমস্যার পেছনে নাকের পলিপ, সেপ্টাম বেঁকে যাওয়া, সাইনাসের পথ জন্মগতভাবে সরু হওয়া কিংবা দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণের কারণে টিস্যু মোটা হয়ে যাওয়ার মতো গঠনগত কারণ থাকলে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে।
অস্ত্রোপচার সবসময় স্থায়ী সমাধান নয়; যেমন নাকের পলিপ আবারো তৈরি হতে পারে। তাই উপসর্গ দীর্ঘস্থায়ী বা পুনরাবৃত্ত হলে নিজে থেকে ওষুধ না নিয়ে ইএনটি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসার ধরন নির্ধারণ করাই নিরাপদ।