বেলজিয়ামে শুরু হবে নিপাহ ভাইরাসের নতুন টিকার পরীক্ষা

টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সের গবেষকরা হামের টিকার একটি পরিবর্তিত সংস্করণ ব্যবহার করে এই নতুন টিকা তৈরি করেছেন।

প্রাণঘাতী নিপাহ ভাইরাস প্রতিরোধে জাপানের টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষকের উদ্ভাবিত টিকার ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল বা মানবদেহে পরীক্ষা আগামী এপ্রিলে বেলজিয়ামে শুরু হতে যাচ্ছে। বর্তমানে এই ভাইরাসের কোনো কার্যকর টিকা বা সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। ভারত ও বাংলাদেশে নতুন করে নিপাহ সংক্রমণ ও প্রাণহানির খবর আসার মধ্যেই এই টিকার ট্রায়াল নিয়ে আশার আলো দেখছেন বিজ্ঞানীরা। খবর নিক্কেই এশিয়া।

টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সের গবেষকরা হামের টিকার একটি পরিবর্তিত সংস্করণ ব্যবহার করে এই নতুন টিকা তৈরি করেছেন। গবেষকরা নিপাহ ভাইরাসের জেনেটিক তথ্যের একটি অংশ হামের ভাইরাসে প্রতিস্থাপন করেছেন। যখন এটি মানুষের শরীরে প্রয়োগ করা হবে, তখন নিপাহ ভাইরাসের প্রোটিনের মতো অ্যান্টিজেন তৈরি হবে। এর ফলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী হবে এবং ভবিষ্যতে আসল নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ রুখে দিতে সাহায্য করবে। যেহেতু বিশ্বজুড়ে হামের টিকা দীর্ঘ সময় ধরে নিরাপদ হিসেবে স্বীকৃত, তাই গবেষকরা এই পদ্ধতি বেছে নিয়েছেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, গত ৬ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের রাজশাহী বিভাগে নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। তিনি নওগাঁ জেলার বাসিন্দা ছিলেন এবং জানুয়ারির শেষে কাঁচা খেজুরের রস পান করে আক্রান্ত হয়েছিলেন। অন্যদিকে, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যেও গত জানুয়ারিতে দুই স্বাস্থ্যকর্মী এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। নিপাহ ভাইরাসে মৃত্যুর হার ৪০ থেকে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত হয়ে থাকে, যা এটিকে অত্যন্ত বিপজ্জনক হিসেবে চিহ্নিত করে।

বেলজিয়ামে অনুষ্ঠেয় প্রথম ধাপের এই ট্রায়ালে ৬০ জন সুস্থ স্বেচ্ছাসেবক অংশ নেবেন। এই পর্যায়ের মূল লক্ষ্য হলো মানুষের শরীরে টিকাটি কতটা নিরাপদ এবং এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কতটুকু উদ্দীপিত করতে পারে তা যাচাই করা। এই পরীক্ষাটি জার্মানিভিত্তিক অলাভজনক সংস্থা ‘ইউরোপিয়ান ভ্যাকসিন ইনিশিয়েটিভ’-এর সহযোগিতায় পরিচালিত হবে। গবেষকরা জানিয়েছেন, এই ধাপ সফল হলে ২০২৭ সালের মাঝামাঝি নাগাদ বাংলাদেশে টিকাটির কার্যকারিতা যাচাইয়ের জন্য আরো বড় পরিসরে ট্রায়াল করার পরিকল্পনা রয়েছে।

মানুষের শরীরে পরীক্ষার আগে গবেষকরা হ্যামস্টারের ওপর এই টিকার সফল পরীক্ষা চালিয়েছেন। প্রাণিদেহে এটি শতভাগ কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়েছে। জাপানি এই টিকার পাশাপাশি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের তৈরি করা আরো একটি নিপাহ টিকার দ্বিতীয় ধাপের ট্রায়াল গত ডিসেম্বর থেকে বাংলাদেশে শুরু হয়েছে। আইসিডিডিআর,বি-র সহযোগিতায় পরিচালিত সেই ট্রায়ালে প্রায় ৩০০ জন অংশ নিচ্ছেন।

নিপাহ একটি প্রাণিবাহিত ভাইরাস, যা মূলত বাদুড়ের লালা বা মূত্র থেকে ছড়ায়। সাধারণত কাঁচা খেজুরের রস পান করলে বা বাদুড়ের খাওয়া ফল খেলে মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়। এছাড়া আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ থেকেও এটি ছড়াতে পারে। প্রতি বছর শীত মৌসুমে বাংলাদেশে এই ভাইরাসের সংক্রমণ দেখা যায়। চিকিৎসকরা এখনো সবাইকে সতর্ক করে বলছেন, কোনোভাবেই যেন কেউ কাঁচা খেজুরের রস পান না করেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে একটি কার্যকর টিকাই হতে পারে এই মরণব্যাধি থেকে বাঁচার স্থায়ী সমাধান।

আরও