অনেকেই শরীরেই ভিটামিন ডির অভাব থাকে। কেউ কেউ এ অভাব পূরণে ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অনেকেই এ সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করে। কিন্তু শরীরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ ভিটামিনের অভাবে যেমন নানা সমস্যা দেখা দেয়, তেমনি না জেনে-বুঝে ইচ্ছেমতো ভিটামিন ডি গ্রহণে উপকারের বদলে অপকারই বেশি।
একটা মানুষের শরীরে কতটুকু ভিটামিন ডি প্রয়োজন, তা নির্ভর করে তার বয়স ও স্বাস্থ্যের ওপর। শরীরে ভিটামিন ডির মাত্রা জানতে রক্ত পরীক্ষা করতে হয়।
অতিরিক্ত ভিটামিন ডি গ্রহণ করলে কী হয়
ভিটামিন ডি চর্বিতে দ্রবণীয়। অর্থাৎ এটি প্রস্রাবের মাধ্যমে শরীর থেকে বেরিয়ে না গিয়ে চর্বিতে জমা হয়। দীর্ঘমেয়াদে প্রতিদিন চার হাজার আইইউয়ের (ইন্টারন্যাশনাল ইউনিট) বেশি ভিটামিন ডি গ্রহণ করলে নানা রকম স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়।
অতিরিক্ত ভিটামিন ডি গ্রহণের সবচেয়ে গুরুতর ঝুঁকিগুলোর মধ্যে একটি হলো হাইপারক্যালসেমিয়া। এটি হলে রক্তে ক্যালসিয়ামের মাত্রা বিপজ্জনকভাবে বেড়ে যায়। এর লক্ষণগুলো হচ্ছে বমি বমি ভাব, দুর্বলতা ও ক্লান্তি, ঘন ঘন প্রস্রাব, তৃষ্ণা, বিভ্রান্তি ও মনোযোগে অসুবিধা। পেশির ব্যথা ও হাড়ের অস্বস্তিও হয়। রক্তে অত্যধিক ক্যালসিয়াম জমলে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে। এথেরোস্ক্লেরোসিস বা ধমনি অনমনীয় হয়ে যায়। তাই বয়স্ক ও হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট নেয়ার আগে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে।
রক্তে অতিরিক্ত ক্যালসিয়াম কিডনিতে চাপ সৃষ্টি করে। ফলে কিডনিতে পাথর বা ক্যালসিয়াম জমা হতে পারে। এতে পেটের দুই পাশে তীব্র ব্যথা, প্রস্রাবে রক্ত, ঘন ঘন মূত্রনালির সংক্রমণ, কিডনির কার্যকারিতা হ্রাস এবং কিডনি সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
শরীরে মাত্রাতিরিক্ত ভিটামিন ডি থাকলে মানসিক বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। মনোযোগের সমস্যার পাশাপাশি বিষণ্নতা ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়। শরীরে ভিটামিন ডি বেড়ে গেলে ঘুম কমে যায়। দীর্ঘদিনের অনিদ্রা মানসিক অশান্তির কারণ। এতে অল্পেই ব্যক্তির মেজাজ খারাপ হতে পারে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি আরো খারাপের দিকে গড়ায়।