লিভারকে সুস্থ রাখার জন্য স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কিছু খাবার বা অভ্যাস এড়িয়ে চললে লিভার সুস্থ রাখা সম্ভব। লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণগুলো হলো—
● লিভারের ক্ষতির একটা কারণ হলো অতিরিক্ত মদ্যপান।
● অতিরিক্ত ওষুধ সেবন করলেও লিভার কর্মক্ষমতা হারায়। যেমন ব্যথানাশক ওষুধ, ঘুমের ওষুধ, সাধারণ ঠাণ্ডা জ্বরের ওষুধ।
● সিগারেটের উপাদানগুলো সরাসরি লিভারের কোষ-কলার ক্ষতি করে।
● রাতে ঘুম কম হলে, স্থূলতা, তারা ডায়াবেটিস, হৃদ্রোগের পাশাপাশি লিভার-সংক্রান্ত সমস্যায়ও ভোগেন।
● পুষ্টিকর খাবারের অভাবেও লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যেমন খারাপ তেল বা অতিরিক্ত তৈলাক্ত খাবার, পোড়া তেলের খাবার, অতিরিক্ত ফাস্ট ফুড, জাংক ফুড খাওয়ায় লিভারের মারাত্মক ক্ষতি হয়। খাবারে অনিয়মও লিভারের ক্ষতি করে।
● কেমিক্যালসমৃদ্ধ যেকোনো খাবারই ক্ষতিকর। প্রিজারভেটিভ, আর্টিফিশিয়াল ফুড কালার, আর্টিফিশিয়াল চিনিযুক্ত খাবারও ক্ষতিকর।
● বিভিন্ন ধরনের ভাইরাস, পরজীবী সংক্রমণ, ইমিউন সিস্টেমের অস্বাভাবিকতা, বংশগত কারণ কিংবা ক্যান্সারের কারণেও ক্ষতিগ্রস্ত হয় লিভার।
লিভার ভালো থাকবে যেভাবে
● লিভারের ফ্যাট কমাতে আগে ওজন কমাতে হবে। এছাড়া উচ্চ ক্যালরিযুক্ত খাবার, স্যাচুরেটেড ফ্যাট, পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট, যেমন সাদা পাউরুটি, পাস্তা ও চিনি এড়িয়ে চলতে হবে।
● কাঁচা ও আধা সেদ্ধ মাছ-মাংস খাওয়া ক্ষতিকর।
● প্রতিদিনের খাবারে তাজা ফল, শাকসবজি, লাল চাল রাখা জরুরি।
● রসুন, জাম্বুরা, গাজর, গ্রিন টি, অ্যাভোকাডো, আপেল, অলিভ অয়েল, লেবু, বাঁধাকপি ও হলুদ লিভারের জন্য বেশ উপকারী।
● নিয়মিত ব্যায়াম বা পরিশ্রম করলে লিভার ভালো থাকবে।
● টক্সিন লিভার কোষ ধ্বংস করে। তাই পোকামাকড়ের ওষুধ, রাসায়নিক সার, কেমিক্যাল ও অ্যাডিটিভের সরাসরি সংস্পর্শ থেকে দূরে থাকুন। মশার ওষুধ ব্যবহারের সময় মাস্ক পরিধান করুন এবং কক্ষের ভেন্টিলেশন–ব্যবস্থা নিশ্চিত করুন।
● ব্যক্তিগত ব্যবহারের জিনিস কারো সঙ্গে শেয়ার করা যাবে না, যেমন রেজর, দাঁতের ব্রাশ, নেইলকাটার ইত্যাদি।
● হেপাটাইটিস এ ও বি’র জন্য টিকা নেয়া উচিত।
● চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবন থেকেও বিরত থাকতে হবে।