কিডনি কার্যকারিতা হঠাৎ করে লোপ পেলে তাকে অ্যাকিউট কিডনি ইনজুরি বলে। এটি লোপ পেতে পেতে কখনো ঘণ্টার পর ঘণ্টা, আবার কখনো মাসের পর মাস লেগে যায়। এর মধ্যে কিছু স্বল্প সময়ে, আবার কিছু দীর্ঘ সময়ে হয়। এটা যদি হঠাৎ করে হয় এবং সঠিক চিকিৎসা দেয়া হয়, সেক্ষেত্রে প্রায় ৮০-৯০ ভাগ ক্ষেত্রে কারণভেদে সম্পূর্ণ নিরাময় হয়ে যেতে পারে। তবে যদি কোনো কারণে চিকিৎসা করার পরও রোগ দেখা যায়, তিন মাসের মধ্যে এটা ভালো হলো না তখন সেটা আবার ক্রনিকে চলে যায়। অ্যাকিউট কিডনি ফেইলিওর দীর্ঘমেয়াদি কিডনি বিকলের দিকে যেতে পারে। তবে সেটা খুব অল্প পরিমাণ। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই যদি সঠিকভাবে চিকিৎসা করা যায়, তবে আকস্মিক কিডনি বিকল সম্পূর্ণ নিরাময় হয়ে যেতে পারে। আর ক্রনিক কিডনি বিকল যদি একবার হয়ে যায়, সেটা নিরাময় হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে যেহেতু এটা ধীরে ধীরে খারাপের দিকে যায়, তাহলে যে গতিতে কিডনি খারাপ হচ্ছে সেটা কমানো সম্ভব। কিন্তু পুরোপুরি ভালো করা যায় না।
কিডনিতে প্রতিনিয়ত রক্ত পরিবাহিত হয়। এর জন্য একটা রক্তচাপের প্রয়োজন পড়ে। কোনো কারণে যদি দেখা যায় এ রক্তচাপ কমে গেল, এ সমস্যা হয়। অধিকাংশ সময়ে শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিলে এ সমস্যা হয়। আমাদের দেশে সাধারণত মানুষের ডায়রিয়া, বমি হলে এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। নারীদের ক্ষেত্রে প্রসবের সময় রক্তক্ষরণ হলে এ সমস্যা দেখা দিতে পারে। অন্য কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে প্যানক্রিয়াটাইটিস অর্থাৎ পেটের যে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ আছে সেগুলোতে কোনো সমস্যা হলে। আবার ডেঙ্গু হলেও এ সমস্যা দেখা দিতে পারে। কারণ জ্বরের সময় শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দেয়। সেই কারণেও তার অ্যাকিউট কিডনি ইনজুরি হতে পারে। তা ছাড়া যেকোনো মারাত্মক সংক্রমণ যদি শরীরে হয় যেটিকে সেপটিসিমিয়া বলে, এ রকম হলে এ অবস্থায় হঠাৎ করে রক্তচাপ কমে যায়, তখন এই সমস্যা হতে পারে। আবার কারো হার্ট অ্যাটাক হয়ে রক্তচাপ কমে যায়, কারো লিভারের রোগ হয়ে রক্তচাপ কমে যায়—এসব কারণেও এ সমস্যা হতে পারে। আরো কিছু কারণ রয়েছে। যেগুলো কিডনির নিজস্ব রোগ, যেমন যখন মুখ ফুলে যায়, প্রস্রাব বন্ধ হয়ে যায় সে কারণে হতে পারে। অনেক সময় ব্যথার ওষুধ বা অ্যান্টিবায়োটিকের কারণেও আকস্মিক কিডনি বিকল হতে পারে। আবার প্রস্রাবের নালিতে বা কিডনির ভেতর যে নালি আছে সেখানে যদি পাথর হয় বা টিউমার হলে তাহলেও আকস্মিক কিডনি বিকল হতে পারে। আবার ভেজাল খাবারের জন্য অনেক ক্ষেত্রে হঠাৎ কিডনি বিকল হতে পারে।
হঠাৎ কিডনি বিকল হওয়ার বেলায় যদি সময়মতো চিকিৎসা নেয়া যায়, তাহলে ৮০-৯০ ভাগ ক্ষেত্রে রোগ সম্পূর্ণ নিরাময় হয়ে যেতে পারে। প্রথমত কোন কারণে এ সমস্যা হয়েছে সেটি বের করতে হবে। সেটির চিকিৎসা নেয়া জরুরি। কিডনির সমস্যা শুনলেই আতঙ্কিত হওয়া যাবে না। সচেতনতা ও সঠিক সময়ে চিকিৎসার মাধ্যমে এ রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।