ফুসফুস ক্যান্সার

ভালো রাখার উপায়

মানবদেহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর মধ্যে ফুসফুস একটি, যা শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে রক্তে অক্সিজেন সরবরাহ করে এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড বের করে দেয়।

মানবদেহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর মধ্যে ফুসফুস একটি, যা শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে রক্তে অক্সিজেন সরবরাহ করে এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড বের করে দেয়। সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য অঙ্গটির গুরুত্ব অপরিসীম। ফুসফুস সুস্থ থাকলে শরীরের সার্বিক কর্মক্ষমতা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গের কার্যকারিতাও বজায় থাকে।

ফুসফুস ভালো রাখার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপায়

  • ধূমপান ও পরোক্ষ ধূমপান থেকে দূরে থাকা। সিগারেটের ধোঁয়ায় ক্ষতিকর রাসায়নিক থাকে, যা ফুসফুসের টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত করে, ফুসফুসের ক্ষমতা কমিয়ে দেয় এবং দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসকষ্টজনিত রোগ (COPD) ও ফুসফুস ক্যান্সারের কারণ হতে পারে। পাশাপাশি পরিবেশ দূষণ, শিল্পের রাসায়নিক পদার্থ ফুসফুসের জন্য ক্ষতিকর। এছাড়া ঘরের ভেতরের ধুলো, ছত্রাক বা জ্বালানির ধোঁয়া ফুসফুসের জন্য ক্ষতিকর। তাই এসব থেকে রক্ষা পেতে ঘরে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল নিশ্চিত এবং প্রয়োজন হলে মাস্ক ব্যবহার করা জরুরি।
  • ক্ষতিকর পদার্থ থেকে দূরে থাকার পাশাপাশি নিয়মিত শারীরিক অনুশীলন ফুসফুসকে শক্তিশালী রাখতে সাহায্য করে। দৌড়ানো, হাঁটা, সাঁতার কাটা বা সাইকেল চালানোর মতো ব্যায়াম গভীর শ্বাস নেয়ার অভ্যাস গড়ে তোলে এবং ফুসফুসের ক্ষমতা বাড়ায়।
  • অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, ভিটামিন ও খনিজসমৃদ্ধ ফল, শাকসবজি, বাদাম, বীজ এবং সম্পূর্ণ শস্য ফুসফুসের কোষকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে। এছাড়া মাছ বা তিসির বীজে পাওয়া ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড শ্বাসনালির প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। পর্যাপ্ত পানি পান করাও জরুরি, কারণ পানি ফুসফুসের শ্লেষ্মা স্তরকে পাতলা রাখে, ফলে ফুসফুস সহজে কাজ করতে পারে এবং অপ্রয়োজনীয় কণাগুলো বের করে দিতে সক্ষম হয়।
  • নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ফুসফুসের কার্যকারিতা পরীক্ষা এবং ইনফ্লুয়েঞ্জা বা নিউমোনিয়ার মতো রোগ প্রতিরোধে ভ্যাকসিন নেয়া গুরুতর ফুসফুসজনিত সমস্যার ঝুঁকি কমাতে পারে। পাশাপাশি নিয়মিত হাত ধোয়া, মৌসুমি ভাইরাসের সময় মাস্ক ব্যবহার এবং সংক্রামক রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির কাছ থেকে দূরে থাকা ফুসফুসকে সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে।
  • যারা ধুলো, অ্যাসবেস্টস বা ক্ষতিকর কণার সংস্পর্শে কাজ করেন তাদের অবশ্যই সুরক্ষার নিয়মগুলো মেনে চলা উচিত। সঠিক ভঙ্গিমায় বসা বা দাঁড়ানো এবং দীর্ঘ সময় ঝুঁকে না থাকা ফুসফুসকে সহজে প্রসারিত হতে সাহায্য করে। পাশাপাশি অতিরিক্ত ওজন না রাখা ফুসফুসের ওপর অপ্রয়োজনীয় চাপ কমায়।
  • মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করাও ফুসফুসের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করার পাশাপাশি শ্বাস নেয়ার ধরনকে প্রভাবিত করে। ধ্যান, প্রকৃতির মাঝে সময় কাটানো বা মাইন্ডফুলনেসের অনুশীলন মানসিক চাপ কমায় এবং শ্বাস-প্রশ্বাসকে স্বাভাবিক রাখে।
  • যাদের এরই মধ্যে হাঁপানি, ব্রঙ্কাইটিস বা অন্যান্য ফুসফুসের রোগ রয়েছে, তাদের চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী মেনে চলা জরুরি। পাশাপাশি নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে হবে।

আরও