ডার্ক চকোলেট কেবল একটি মজার খাবার নয়, এটি উদ্ভিজ্জ পুষ্টিগুণে ভরপুর একটি উৎস। এতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। প্রধানত কোকো বীজ থেকে তৈরি এই চকোলেটে দুধ বা অতিরিক্ত চিনি কম থাকায় অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের কার্যকারিতা বজায় থাকে।
বিজ্ঞানীদের মতে, প্রক্রিয়াজাত না করা কোকো বীজে উচ্চমাত্রার পলিফেনল, ফ্ল্যাভানল ও ক্যাটেচিনের মতো শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। খাদ্যতালিকায় থাকা অন্যান্য ফল বা উপাদানের তুলনায় ডার্ক চকোলেটে এসব উপাদানের ঘনত্ব অনেক বেশি।
অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের ভূমিকা
ডার্ক চকোলেটে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের ক্ষতিকর মুক্ত মৌল বা ফ্রি র্যাডিকেল নিষ্ক্রিয় করতে সাহায্য করে। ফ্রি র্যাডিকেল শরীরের কোষের ক্ষতি করে এবং অকালবার্ধক্যসহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। অন্যদিকে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখতে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে এটি শরীরের ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমায়। ফলে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক থাকে এবং হৃদরোগের ঝুঁকিও কমে।
স্বাস্থ্য উপকারিতা
অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের উপস্থিতির কারণে ডার্ক চকোলেট মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করে। এটি মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তি প্রখর করতে ভূমিকা রাখে।
এছাড়া এতে থাকা ফ্ল্যাভানল ত্বকে সূর্যালোকের অতিবেগুনি রশ্মির ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষা দেয় এবং ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে।
খাওয়ার সঠিক নিয়ম
ডার্ক চকোলেটের পূর্ণ উপকার পেতে অন্তত ৭০ শতাংশ বা তার বেশি কোকোযুক্ত চকোলেট বেছে নেয়া উচিত। তবে এতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকলেও ক্যালোরি ও চর্বি রয়েছে। তাই এটি পরিমিত পরিমাণে গ্রহণ করা প্রয়োজন।
এছাড়া ডার্ক চকোলেটে থাকা বিভিন্ন উপাদান পিরিয়ডের ব্যথা কমাতেও সাহায্য করে:
ম্যাগনেসিয়াম
ডার্ক চকোলেটে প্রচুর পরিমাণে ম্যাগনেসিয়াম থাকে। ম্যাগনেসিয়াম জরায়ুর পেশিকে শিথিল বা রিলাক্স করতে সাহায্য করে, যার ফলে জরায়ুর সংকোচনের কারণে সৃষ্ট তীব্র ব্যথা ও টান ধরা ভাব কমে আসে।
ফ্ল্যাভানল ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট
এতে থাকা উচ্চমাত্রার ফ্ল্যাভানল রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে এবং শরীরের প্রদাহ বা ইনফ্লামেশন কমাতে সাহায্য করে। এটি পিরিয়ডকালীন শারীরিক অস্বস্তি কমাতে ভূমিকা রাখে।
এন্ডোরফিন ও সেরোটোনিন
ডার্ক চকোলেট খেলে মস্তিষ্কে এন্ডোরফিন ও সেরোটোনিন হরমোনের নিঃসরণ বাড়ে। এগুলো প্রাকৃতিক ‘ফিল-গুড’ রাসায়নিক হিসেবে কাজ করে মন-মেজাজ ভালো রাখে এবং ব্যথার অনুভূতি কমাতে সাহায্য করে।
পটাশিয়াম
এতে বিদ্যমান পটাশিয়াম শরীরে পানি জমা বা পেটে অস্বস্তিকর ফোলা ভাব (ব্লোটিং) নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।