নিউমোনিয়া

ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে অন্যান্য অঙ্গও

নিউমোনিয়া মূলত ফুসফুসের একটি সংক্রমণজনিত রোগ, যা ফুসফুসের বায়ুথলি বা অ্যালভিওলাইকে আক্রান্ত করে।

এ সময় বায়ুথলিগুলোয় পুঁজ বা তরল জমে যায়, ফলে অক্সিজেন স্বাভাবিকভাবে শরীরে প্রবেশ করতে পারে না এবং রোগীর শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। রোগটি গুরুতর হলে শুধু ফুসফুসেই সীমাবদ্ধ থাকে না, এটি শরীরের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের কার্যকারিতার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

হৃদযন্ত্র

নিউমোনিয়ার কারণে শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা কমে গেলে হৃদযন্ত্রকে বেশি পরিশ্রম করতে হয়। বিশেষ করে বয়স্ক বা হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে হৃৎস্পন্দনের অনিয়ম, হৃদযন্ত্রের ওপর অতিরিক্ত চাপ বা হার্ট ফেইলিউরের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

মস্তিষ্ক

গুরুতর নিউমোনিয়ায় শরীরে অক্সিজেনের ঘাটতি হলে মস্তিষ্কও প্রভাবিত হতে পারে। বিশেষ করে বয়স্ক রোগীদের মধ্যে বিভ্রান্তি, অস্থিরতা, মনোযোগের ঘাটতি কিংবা আচরণগত পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। কখনো কখনো রোগী অসংলগ্ন কথাবার্তাও বলতে পারেন।

কিডনি

তীব্র সংক্রমণ বা সেপসিসের কারণে কিডনির রক্তপ্রবাহ কমে যেতে পারে, ফলে কিডনির কার্যক্ষমতা কমে যায়। আগে থেকে কিডনি রোগ থাকলে জটিলতার ঝুঁকি আরো বেশি থাকে।

রক্ত ও সারা শরীর

কখনো কখনো সংক্রমণ ফুসফুস থেকে রক্তে ছড়িয়ে পড়ে, যাকে সেপসিস বলা হয়। এটি একটি জীবনহানিকর অবস্থা, যেখানে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ একসঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। দ্রুত চিকিৎসা না পেলে এটি অঙ্গ বিকল হওয়ার কারণ হতে পারে।

ফুসফুসের আবরণী

নিউমোনিয়ার কারণে ফুসফুসের বাইরের আবরণীতে প্রদাহ হতে পারে। এতে বুকে তীব্র ব্যথা অনুভূত হয় এবং কিছু ক্ষেত্রে ফুসফুসের চারপাশে তরল জমতে পারে, যাকে প্লুরাল ইফিউশন বলা হয়।

তাই নিউমোনিয়াকে শুধু একটি ফুসফুসের রোগ হিসেবে দেখলে হবে না। সময়মতো চিকিৎসা না নিলে এটি শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গকে প্রভাবিত করতে পারে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি, ডায়াবেটিস রোগী, হৃদরোগী ও যাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম, তাদের ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া অত্যন্ত জরুরি।

আরও