শিশুদের তুলনায় প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে মাম্পসের জটিলতা বেশি দেখা যায়। ভাইরাসজনিত এ রোগে সাধারণত কানের সামনের দিকে ও চোয়ালের পাশে অবস্থিত প্যারোটিড লালাগ্রন্থি ফুলে যায়। তবে কিছু ক্ষেত্রে সংক্রমণ শরীরের অন্যান্য অঙ্গেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। ফলে মস্তিষ্ক, স্নায়ুতন্ত্র, প্রজনন অঙ্গ ও অগ্ন্যাশয়ে প্রদাহসহ বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিতে পারে।
মাম্পসের অন্যতম গুরুতর জটিলতা মেনিনজাইটিস ও এনসেফালাইটিস। মেনিনজাইটিসের ক্ষেত্রে মস্তিষ্ক ও মেরুরজ্জুর আবরণে এবং এনসেফালাইটিসের ক্ষেত্রে মস্তিষ্কে প্রদাহ হয়। এসব জটিলতায় তীব্র মাথাব্যথা, ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া, বমি ও চেতনার পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে খিঁচুনি, দীর্ঘমেয়াদি স্নায়বিক সমস্যা এমনকি মৃত্যুও হতে পারে।
প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষদের ক্ষেত্রে মাম্পসের কারণে অর্কাইটিস বা অণ্ডকোষের প্রদাহ হতে পারে। এতে একটি বা উভয় অণ্ডকোষ ফুলে যায়, ব্যথা হয় এবং স্পর্শে অস্বস্তি দেখা দেয়। এ জটিলতায় অণ্ডকোষের আকার ছোট হয়ে যেতে পারে এবং শুক্রাণু উৎপাদনের ক্ষমতা কমতে পারে। তবে স্থায়ী বন্ধ্যত্বের ঘটনা বিরল। নারীদের ক্ষেত্রে ওভারাইটিস বা ডিম্বাশয়ে প্রদাহ এবং মাস্টাইটিস বা স্তনগ্রন্থিতে প্রদাহ হতে পারে। তবে এসব জটিলতার কারণে স্থায়ী প্রজনন সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা তুলনামূলক কম।
এছাড়া মাম্পসের সংক্রমণে অগ্ন্যাশয়ে প্রদাহ বা প্যানক্রিয়াটাইটিস হতে পারে। এতে পেটের ওপরের অংশে ব্যথা, বমি বমি ভাব ও বমির মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। রোগটির আরেকটি বিরল কিন্তু গুরুতর জটিলতা শ্রবণশক্তি হ্রাস। কিছু ক্ষেত্রে এক কানে স্থায়ীভাবে শ্রবণশক্তি নষ্ট হতে পারে।
মাম্পসের এসব জটিলতা সবার ক্ষেত্রে দেখা যায় না। তবে তীব্র মাথাব্যথা, ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া, পেটে তীব্র ব্যথা কিংবা অণ্ডকোষে ব্যথা ও ফোলা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া প্রয়োজন।