বিশেষজ্ঞদের মতে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এ ধরনের খিঁচুনি সাময়িক এবং এতে শিশুর দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হয় না।
সাধারণত তিন মাস থেকে ছয় বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে জ্বরের প্রথম দিকে এ খিঁচুনি দেখা যায়। টিকা দেয়ার পর জ্বর এলেও একই ধরনের খিঁচুনির ঝুঁকি থাকতে পারে। পরিবারের অন্য সদস্যদের মধ্যে আগে জ্বরজনিত খিঁচুনির ইতিহাস থাকলে শিশুর ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি হয়। একবার এমন খিঁচুনি হলে ভবিষ্যতে জ্বরের সময় আবারো হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
অভিভাবকদের করণীয়
চিকিৎসকদের পরামর্শ হলো খিঁচুনি শুরু হলে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত শিশুকে নিরাপদ স্থানে শুইয়ে দিতে হবে। শিশুকে একপাশে কাত করে রাখতে হবে, যাতে শ্বাস নিতে সুবিধা হয়। আঁটসাঁট পোশাক থাকলে ঢিলা করে দিতে হবে। মুখে পানি, খাবার বা ওষুধ দেয়া যাবে না এবং দাঁতের ফাঁকে চামচ বা অন্য কিছু ঢোকানোর চেষ্টা করা উচিত নয়।
একই সঙ্গে জ্বর কমানোর ব্যবস্থা নিতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্যারাসিটামল দেয়া যেতে পারে এবং কুসুম গরম পানি দিয়ে শরীর মুছে দেয়া উপকারী।
কখন হাসপাতালে নিতে হবে
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খিঁচুনি যদি ৫ মিনিটের বেশি স্থায়ী হয়, একই দিনে বারবার হয়, অথবা এটি যদি শিশুর প্রথম জ্বরজনিত খিঁচুনি হয়, তাহলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে। এছাড়া খিঁচুনির পর শিশু দীর্ঘ সময় অজ্ঞান থাকলে, ছয় বছরের পরও এমন সমস্যা চলতে থাকলে বা শিশুর স্বাভাবিক বিকাশে ব্যাঘাত দেখা দিলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি।
প্রতিরোধে কী করা যায়
যেসব শিশুর আগে জ্বরজনিত খিঁচুনি হয়েছে, তাদের জ্বর দেখা দিলেই দ্রুত তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে আনার পরামর্শ দেয়া হয়। শরীর স্পঞ্জ করা এবং ওজন অনুযায়ী প্যারাসিটামল দেয়া উপকারী হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শে স্বল্পমেয়াদে ডায়াজিপামজাতীয় ওষুধ ব্যবহার করা হয়, যা পুনরায় খিঁচুনির ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে।