শরীরের ভারসাম্য রক্ষায় চকোলেট: ডার্ক নাকি হোয়াইট— কোনটি সেরা?

বাজারে মূলত তিন ধরণের চকোলেট পাওয়া যায়, ডার্ক, মিল্ক ও হোয়াইট। একেক চকোলেটের প্রভাব শরীরের ওপর একেক রকম। তাই কেউ যদি স্বাস্থ্য সচেতন হন, তবে তার প্রতিদিনের ডায়েটে কোন চকোলেটটি থাকা প্রয়োজন তা বিস্তারিতভাবে জেনে নেয়া উচিৎ।

চকোলেট শুধু স্বাদের জন্যই জনপ্রিয় নয়, এর স্বাস্থ্যগত প্রভাবও অনেকের আগ্রহের বিষয়। তবে সব চকোলেট এক রকম নয়। কোকোর পরিমাণ, চিনি ও দুধের উপস্থিতির ওপর নির্ভর করে শরীরের ওপর এর প্রভাব নির্ভর করে। কোন ধরনের চকোলেট খেলে কি হয়- তা জানা থাকলে পছন্দের সঙ্গে স্বাস্থ্যকেও গুরুত্ব দেয়া সম্ভব হয়।

চকোলেট মূলত কোকো বীজ থেকে তৈরি করা হয়। কোকোতে থাকা ফ্ল্যাভানয়েড, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও খনিজ উপাদান আমাদের শরীরের জন্য উপকারী। তবে প্রক্রিয়াজাতকরণের সময় চিনি ও চর্বির পরিমাণ বেড়ে গেলে সেই উপকার অনেকটাই কমে যায়।

ডার্ক, মিল্ক ও হোয়াইট চকোলেটস

বাজারে মূলত তিন ধরণের চকোলেট পাওয়া যায়, ডার্ক, মিল্ক ও হোয়াইট। একেক চকোলেটের প্রভাব শরীরের ওপর একেক রকম। তাই কেউ যদি স্বাস্থ্য সচেতন হন, তবে তার প্রতিদিনের ডায়েটে কোন চকোলেটটি থাকা প্রয়োজন তা বিস্তারিতভাবে জেনে নেয়া উচিৎ।

ডার্ক চকোলেট
ডার্ক চকোলেটে কোকোর পরিমাণ বেশি থাকে, সাধারণত ৭০ শতাংশ বা তারও বেশি। এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে এবং রক্তনালির কার্যকারিতা ভালো রাখতে ভূমিকা রাখে। নিয়মিত অল্প পরিমাণ ডার্ক চকোলেট খেলে হৃদ্‌স্বাস্থ্যের উপকার হতে পারে। এছাড়া এটি মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ বাড়াতে সাহায্য করে। তাই উচ্চ রক্তচাপ এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি কমে। আবার কোকো বিনস ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বাড়ায়, যা টাইপ-২ ডায়াবেটিস প্রতিরোধে সাহায্য করতে পারে। এছাড়াও ডার্ক চকলেট শরীরে সেরোটোনিন ও এন্ডোরফিনের নিঃসরণ ঘটায়। এ হরমোনগুলো তাৎক্ষণিকভাবে মন ভালো করে ও মানসিক চাপ কমায়।

ডার্ক চকোলেট

তবে বেশি খেলে ক্যালরি ও ক্যাফেইনের কারণে অনিদ্রা বা ওজন বাড়ার ঝুঁকি থাকে।

মিল্ক চকোলেট
মিল্ক চকোলেটে দুধ ও চিনি বেশি থাকে, কোকোর পরিমাণ তুলনামূলক কম। এতে কিছু খনিজ উপাদান থাকলেও অতিরিক্ত চিনি রক্তে গ্লুকোজ বাড়াতে পারে। নিয়মিত বেশি মিল্ক চকোলেট খেলে দাঁতের ক্ষয়, ওজন বৃদ্ধি, ত্বকে ব্রণের সমস্যা দেখা দেয়া ও ইনসুলিনের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তবে মাঝেমধ্যে অল্প পরিমাণে খেলে তাৎক্ষণিক শক্তি ও মেজাজ ভালো করতে পারে।

মিল্ক চকোলেট

হোয়াইট চকোলেট
হোয়াইট চকোলেটে কোকো সলিডস থাকে না, মূলত কোকো বাটার, চিনি ও দুধ দিয়ে তৈরি। ফলে এতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট প্রায় নেই বললেই চলে। এটি স্বাদে মিষ্টি হলেও স্বাস্থ্যগুণ খুব সীমিত। বেশি খেলে ক্যালরি ও চর্বি বাড়ে, কিন্তু উল্লেখযোগ্য পুষ্টিগুণ পাওয়া যায় না।

হোয়াইট চকোলেট

অতিরিক্ত হোয়াইট চকলেট রক্তে শর্করার মাত্রা হুট করে বাড়িয়ে দেয় (Sugar Rush), যা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

ডার্ক-মিল্ক বা ফ্লেভারড চকোলেট
এ ধরনের চকোলেটে ডার্ক ও মিল্কের মিশ্রণ বা ফল, বাদাম বা ক্যারামেল যোগ করা হয়। বাদাম থাকলে কিছু ভালো ফ্যাট ও প্রোটিন পাওয়া যায়। তবে ফ্লেভার বা সিরাপ যোগ হলে চিনির পরিমাণ বেড়ে যায়, যা স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াতে পারে।

ফ্লেভারড চকোলেট

আর এ ধরণের ফ্লেভারড চকোলেটেও শুগার স্পাইকের সম্ভাবনা অনেক বেশি। তাই স্বাভাবিকভাবেই এটিকে ডায়াবেটিস রোগীদের এড়িয়ে চলা উচিৎ।

মিল্ক চকোলেট আর হোয়াইট চকোলেটের পার্থক্য কি?

মূল উপাদানেই মিল্ক চকোলেট ও হোয়াইট চকোলেটের মূল পার্থক্য। মিল্ক চকোলেটে সলিড কোকো থাকে, কিন্তু হোয়াইট চকোলেটে তা থাকে না। হোয়াইট চকোলেটে থাকে শুধুমাত্র কোকো বাটার, দুধ ও চিনি। কোকো বিন না থাকায় এর তিক্ত স্বাদ থাকে না। ফলে এ চকোলেট আরো বেশি মিষ্টি স্বাদের হয়।

কতটা খাওয়া নিরাপদ
স্বাস্থ্য বিবেচনায় দিনে ২০-৩০ গ্রাম উচ্চ কোকোসমৃদ্ধ ডার্ক চকোলেট একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য যথেষ্ট। কেনার সময় কোকোর পারিমাণ, চিনি ও উপাদানের তালিকা দেখে নেয়া গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এতোকিছুর পরেও নিয়মিত চকোলেট খাওয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই আমাদের সতর্ক হওয়া উচিৎ। প্রয়োজনে পুষ্টিবিদের শরণাপন্নও হওয়া যেতে পারে।

সংক্ষেপে বলা যায়, চকোলেট খারাপ নয়। ভুল ধরন ও পরিমাণই সমস্যার কারণ। সঠিক ধরন নির্বাচন করলে চকোলেট স্বাদের পাশাপাশি শরীরের জন্যও উপকারী হতে পারে।

আরও