নারীদের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ মেনোপজ। এটি নারীর স্বাস্থ্যের ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলবে সেটি মূলত নির্ভর করে স্বাস্থ্যের অবস্থা, শারীরিক ও প্রজনন ইতিহাস, জীবনযাপন পদ্ধতি এবং পরিবেশগত উপাদানের ওপর। প্রি-মেনোপজ এবং পোস্টমেনোপজের লক্ষণগুলো ব্যক্তিগত এবং পেশাগত জীবনে প্রভাব ফেলতে পারে। মেনোপজের সঙ্গে সম্পর্কিত পরিবর্তনগুলো নারীর বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তার স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলে।
বিশ্বব্যাপী পোস্টমেনোপজাল নারীর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। ২০২১ সালে ৫০ বছরের ওপরে নারীর সংখ্যা ছিল ২৬ শতাংশ। ২০১১ সালে তা ছিল ২২ শতাংশ। নারীদের আয়ুষ্কালও বেড়েছে। স্বাস্থ্যনীতি, চিকিৎসা ও সামাজিক সহায়তা ব্যবস্থাগুলোকে এখন এ বৃদ্ধিমান পোস্টমেনোপজাল নারীদের চাহিদা অনুযায়ী প্রস্তুত করতে হবে।
মেনোপজ শুধু একটি জৈবিক পরিবর্তন নয়, এটি একটি সামাজিক পরিবর্তনের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। সামাজিকভাবে একজন নারী মেনোপজের অভিজ্ঞতার কারণে নানা ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন। বিশেষ করে ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতিতে নারীর বার্ধক্য ও মেনোপজ কীভাবে দেখা হয়, তার ওপর।
পেরিমেনোপজাল নারীদের প্রয়োজন মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা এবং এমন সম্প্রদায় ও ব্যবস্থা, যা তাদের সহায়তা করতে পারে। দুর্ভাগ্যবশত বেশির ভাগ দেশে মেনোপজ-সম্পর্কিত তথ্য ও সেবায় সচেতনতা এবং প্রবেশাধিকার উভয়ই সীমিত। মেনোপজ বিষয়টি সাধারণত পরিবার, সমাজ, কর্মক্ষেত্র বা স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় আলোচিত হয় না।
অনেক নারী জানেন না যে তারা যে উপসর্গগুলো অনুভব করছেন সেগুলো মেনোপজের সঙ্গে সম্পর্কিত। এ-সংক্রান্ত কাউন্সেলিং ও চিকিৎসা ব্যবস্থা রয়েছে, যা তাদের বিদ্যমান সমস্যাগুলো কমিয়ে আনতে পারে। লক্ষণগুলো নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করতে তারা প্রায়ই বিব্রত বা লজ্জিত বোধ করেন।
দেশের স্বাস্থ্যকর্মীরাও অনেক সময় প্রি-মেনোপজে ও পোস্টমেনোপজ উপসর্গ চিহ্নিত করা, রোগীকে পরামর্শ দেয়া বা মেনোপজ-পরবর্তী সুস্থতার বিষয়ে প্রশিক্ষিত নন। অনেক দেশের স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে মেনোপজ বিষয়টি খুব সামান্যই গুরুত্ব পায়।
বেশির ভাগ দেশে মেনোপজ-পরবর্তী নারীদের যৌন স্বাস্থ্যের দিকটি উপেক্ষিত থাকে। ফলে মেনোপজের সাধারণ গাইনিকোলজিক্যাল প্রভাব যেমন যোনি শুষ্কতা এবং সহবাসে ব্যথা—এ সমস্যাগুলো প্রায়ই অমীমাংসিত থেকে যায়। একইভাবে বয়স্ক নারীরা অনেক সময় নিজেদের যৌনবাহিত সংক্রমণ (যেমন এইচআইভি) ঝুঁকি আছে বলে জানেন না কিংবা স্বাস্থ্যকর্মীরাও তাদের নিরাপদ যৌনচর্চা বা পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দেন না।
অনেক দেশ এখনো তাদের নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবার মধ্যে মেনোপজ-সম্পর্কিত নির্ণয়, পরামর্শ ও চিকিৎসাসেবা অন্তর্ভুক্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় নীতি বা অর্থায়ন নিশ্চিত করতে পারেনি। যার কারণে মেনোপজ-সম্পর্কিত সেবাগুলো প্রদান করা বিশেষভাবে চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সূত্র: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা