হাঁপানি ও শ্বাসকষ্ট এক জিনিস নয়। হাঁপানি একটি দীর্ঘস্থায়ী রোগ, আর শ্বাসকষ্ট হলো একটি উপসর্গ, যা অনেক রোগের কারণে হতে পারে, যার মধ্যে হাঁপানি অন্যতম। অর্থাৎ হাঁপানি হলো একটি নির্দিষ্ট রোগ যা শ্বাসকষ্টের কারণ হয়, কিন্তু শ্বাসকষ্ট কেবল হাঁপানির কারণেই হয় না, অন্যান্য অনেক কারণেও হতে পারে।
হাঁপানি (Asthma)
- এটি একটি দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসযন্ত্রের রোগ, যেখানে শ্বাসনালিগুলো ফুলে যায় এবং সরু হয়ে যায়, যা শ্বাস নেয়াকে কঠিন করে তোলে।
- হাঁপানির অন্যান্য লক্ষণের মধ্যে রয়েছে শ্বাস নেয়ার সময় শাঁ শাঁ শব্দ হওয়া, কাশি এবং বুকে চাপ অনুভব করা।
- এর নির্দিষ্ট কারণ এবং চিকিৎসা রয়েছে, যেমন ইনহেলার ব্যবহার করা।
শ্বাসকষ্ট (Shortness of breath / Dyspnoea)
- এটি একটি অনুভূতি যে আপনি পর্যাপ্ত বাতাস পাচ্ছেন না এবং শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে।
- হাঁপানি ছাড়া শ্বাসকষ্টের অন্যান্য কারণ হতে পারে:
- সর্দি বা শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ
- কার্ডিয়াক অ্যাজমা (হৃদরোগের কারণে শ্বাসকষ্ট)
- স্থূলতা
- ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ (সিওপিডি)
- শ্বাসকষ্ট হঠাৎ বা ধীরে ধীরে হতে পারে
শ্বাসকষ্ট বা শ্বাস টানা রোগীমাত্রই হাঁপানিতে আক্রান্ত তা নয়। শ্বাসকষ্টের একটি বড় কারণ ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ বা সংক্ষেপে সিওপিডি। এটি ফুসফুসের একটি দীর্ঘমেয়াদি রোগ। এতে আক্রান্ত হলে শ্বাসনালির দেয়াল পুরু হয়ে যায় এবং ভেতরে প্রচুর শ্লেষ্মা জমে। ফলে শ্বাসের সঙ্গে ফুসফুসের ভেতর ঠিকমতো বাতাস ঢুকতে পারে না। ফুসফুসের ভেতরকার ক্ষুদ্র বায়ুথলিতে বাতাস আটকে থাকে। এতে শ্বাসকষ্ট ছাড়াও রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা ধীরে ধীরে কমতে থাকে, কার্বন ডাই-অক্সাইড বা বিষাক্ত গ্যাসের মাত্রা বেড়ে যায়। ধীরে ধীরে রোগী মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যায়। অনেক সময় এ রোগকে ক্রনিক ব্রঙ্কাইটিসও বলা হয়।