কী খাবেন, কী এড়িয়ে চলবেন

লিউকেমিয়া (রক্তের ক্যান্সার) বা কেমোথেরাপি চলাকালীন রোগীর জন্য সুষম, নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সঠিক খাদ্যাভ্যাস রোগীর রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বজায় রাখতে, শরীরের ক্ষতিগ্রস্ত কোষ পুনর্গঠনে সহায়তা করতে এবং কেমোথেরাপির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

যা খাবেন

প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার: শরীরের টিস্যু মেরামত এবং শক্তি ধরে রাখতে চর্বিহীন মাছ, মুরগির মাংস, ডিম, ডাল, পনির ও দই নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখুন।

শস্যজাতীয় খাবার: লাল চালের ভাত, ওটস, লাল আটার রুটি ও অন্যান্য পূর্ণ শস্য শরীরকে প্রয়োজনীয় শক্তি ও খাদ্য আঁশ (ফাইবার) সরবরাহ করে।

ফল ও শাকসবজি: ভালোভাবে ধোয়া ও রান্না করা শাকসবজি এবং সহজপাচ্য ফল যেমন পাকা পেঁপে, কলা, মিষ্টিকুমড়া, গাজর ও পালংশাক খেতে পারেন। এগুলোয় থাকা ভিটামিন ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রোগ প্রতিরোধে সহায়ক।

স্বাস্থ্যকর চর্বি: অল্প পরিমাণে অলিভ অয়েল, আখরোট ও কাঠবাদাম খাওয়া উপকারী। এগুলো শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যকর চর্বির উৎস।

যেসব খাবার এড়িয়ে চলবেন

কাঁচা বা আধা সেদ্ধ খাবার: কেমোথেরাপির সময় রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে যায়। তাই কাঁচা সালাদ, কাঁচা বা আধা সেদ্ধ ডিম, আধা সেদ্ধ মাছ ও মাংস খাওয়া উচিত নয়।

অপাস্তুরিত খাবার: অপাস্তুরিত দুধ, দুগ্ধজাত খাবার বা জুস এড়িয়ে চলুন, কারণ এগুলো সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

রাস্তার ও বাসি খাবার: স্ট্রিট ফুড, খোলা খাবার, দীর্ঘ সময় বাইরে রাখা বা বাসি খাবার না খাওয়াই নিরাপদ।

ভাজাপোড়া ও প্রক্রিয়াজাত খাবার: অতিরিক্ত তেল-মসলাযুক্ত, ভাজাপোড়া এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার যতটা সম্ভব কম খাওয়া উচিত।

মনে রাখবেন লিউকেমিয়া রোগীর খাদ্যতালিকা রোগের ধরন, বয়স, কেমোথেরাপির ধাপ এবং অন্যান্য শারীরিক সমস্যার ওপর নির্ভর করে ভিন্ন হতে পারে। তাই চিকিৎসক ও ক্লিনিক্যাল পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যক্তিগত খাদ্য পরিকল্পনা অনুসরণ করাই সবচেয়ে নিরাপদ ও কার্যকর।

আরও