অটিজম

পিতামাতার করণীয়

অটিস্টিক শিশুদের সঠিকভাবে বড় করে তোলা এবং তাদের সম্ভাবনাকে বিকশিত করার ক্ষেত্রে পিতামাতা ও অভিভাবকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এ ধরনের শিশুদের প্রতি বিশেষ যত্ন, ধৈর্য ও সংবেদনশীল আচরণ অপরিহার্য। অটিস্টিক শিশুদের সঙ্গে আচরণ করার সময় তাদের মানসিক অবস্থা ও প্রয়োজনকে গভীরভাবে বোঝার চেষ্টা করতে হবে।

পিতামাতাকে অসীম ধৈর্য ধারণ করতে হবে। অটিস্টিক শিশুরা অনেক সময় তাদের অনুভূতি বা চাহিদা স্পষ্টভাবে প্রকাশ করতে পারে না। ফলে তারা কান্নাকাটি বা চেঁচামেচির মাধ্যমে নিজেদের প্রকাশ করে। এমন পরিস্থিতিতে বিরক্ত না হয়ে শান্তভাবে তাদের সমস্যার কারণ খুঁজে বের করতে হবে এবং যথাসম্ভব দ্রুত তাদের চাহিদা পূরণের চেষ্টা করতে হবে। এতে তারা নিরাপত্তা ও ভালোবাসা অনুভব করে।

তাদের প্রতি আচরণ হতে হবে সহজ, সরল ও আন্তরিক। কঠোরতা বা চাপ প্রয়োগ করলে তারা আরো অস্থির হয়ে উঠতে পারে। তাই সবসময় হাসিমুখে, ভালোবাসা দিয়ে ও বন্ধুসুলভ আচরণের মাধ্যমে তাদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। তাদের খেলাধুলা, চলাফেরা ও স্বাভাবিক বিকাশ যেন বাধাগ্রস্ত না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর রাখতে হবে।

অটিস্টিক শিশুদের স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। তাদের ওপর কোনো কাজ বা সিদ্ধান্ত জোর করে চাপিয়ে দেয়া উচিত নয়। বরং তাদের আগ্রহ ও পছন্দকে গুরুত্ব দিয়ে ধীরে ধীরে বিভিন্ন কাজে উৎসাহিত করতে হবে। এতে তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ে এবং তারা নিজের সক্ষমতা সম্পর্কে সচেতন হতে শেখে।

প্রতিটি অটিস্টিক শিশুর মধ্যেই কিছু না কিছু বিশেষ প্রতিভা লুকিয়ে থাকে। সে সুপ্ত প্রতিভা খুঁজে বের করা এবং তা বিকাশের সুযোগ দেয়া পিতামাতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। কেউ সংগীতে ভালো, কেউ আঁকায়, কেউ আবার প্রযুক্তি বা গণনায় পারদর্শী হতে পারে। যথাযথ প্রশিক্ষণ ও উৎসাহ পেলে তারা অসাধারণ সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম।

এক্ষেত্রে শুধু পরিবার নয়, স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভূমিকাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষকরা যদি সহানুভূতিশীল ও সহায়ক মনোভাব নিয়ে শিক্ষাদান করেন, তাহলে অটিস্টিক শিশুরা সহজেই শেখার প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠে। পরিবার ও বিদ্যালয়ের সমন্বিত প্রচেষ্টা তাদের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

অটিস্টিক শিশুদের অবহেলা না করে তাদের প্রতি ভালোবাসা, সহানুভূতি ও যত্ন প্রদর্শন করা সবার দায়িত্ব। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এ শিশুদের সক্ষম ও কর্মক্ষম নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। তাদের সঠিক পরিচর্যা ও উন্নয়নের মাধ্যমে একটি মানবিক, সহানুভূতিশীল ও উন্নত সমাজ গঠন করা যায়।

আরও