সাইকোজেনিক ফিভার

মানসিক চাপেও জ্বর আসতে পারে

সাধারণত সংক্রমণের কারণে হওয়া জ্বরের মতো এতে শরীর কাঁপানো, মাংসপেশিতে তীব্র ব্যথা বা অতিরিক্ত ঘাম হওয়ার মতো লক্ষণ থাকে না। চিকিৎসকদের মতে, কোনো সংক্রামক ব্যাধি (যেমন ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া) ছাড়া শুধু তীব্র আবেগীয় বা মানসিক উদ্বেগের কারণে শরীরের তাপমাত্রা অস্বাভাবিক বেড়ে গেলে তাকে সাইকোজেনিক ফিভার বলা হয়ে থাকে

কোনো গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা, চাকরির ইন্টারভিউ, সম্পর্কের টানাপোড়েন কিংবা জীবনের বড় কোনো দুশ্চিন্তার মুহূর্তে হঠাৎ জ্বর অনুভব করেছেন কখনো? কিংবা কোনো কারণ ছাড়াই বেশ কিছুদিন ধরে মৃদু জ্বর জ্বর ভাব মনে হচ্ছে! চিকিৎসাবিজ্ঞানে মানসিক উদ্বেগের কারণে হওয়া এ শারীরিক অবস্থাকে বলা হয় ‘সাইকোজেনিক ফিভার’।

সাধারণত সংক্রমণের কারণে হওয়া জ্বরের মতো এতে শরীর কাঁপানো, মাংসপেশিতে তীব্র ব্যথা বা অতিরিক্ত ঘাম হওয়ার মতো লক্ষণ থাকে না। চিকিৎসকদের মতে, কোনো সংক্রামক ব্যাধি (যেমন ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া) ছাড়া শুধু তীব্র আবেগীয় বা মানসিক উদ্বেগের কারণে শরীরের তাপমাত্রা অস্বাভাবিক বেড়ে গেলে তাকে সাইকোজেনিক ফিভার বলা হয়ে থাকে।

সাইকোজেনিক ফিভার ও সাধারণ জ্বরের পার্থক্য

সাধারণত প্রাপ্তবয়স্কদের শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ৯৭ থেকে ৯৯ ডিগ্রি ফারেনহাইটের মধ্যে থাকে এবং ১০০ দশমিক ৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা তার বেশি হলে তাকে জ্বর ধরা হয়।

  • সাধারণ জ্বর: এটি মূলত কোনো ইনফেকশন বা প্রদাহের কারণে হয়। এতে প্যারাসিটামল বা প্রদাহবিরোধী ওষুধ কাজ করে।
  • সাইকোজেনিক ফিভার: এটি মানসিক চাপের সরাসরি বা পরোক্ষ প্রতিক্রিয়ায় ঘটে। অনেক সময় তীব্র দুশ্চিন্তায় শরীরের তাপমাত্রা হঠাৎ ১০৫ ডিগ্রি পর্যন্ত উঠে যেতে পারে, আবার কারো ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের কাছাকাছি মৃদু জ্বর বজায় থাকতে পারে। তবে এ জ্বরে সাধারণ জ্বর কমানোর ওষুধগুলো তেমন কার্যকর হয় না।

মানসিক চাপ কীভাবে জ্বর আনে?

বিশেষজ্ঞদের মতে, মানসিক চাপ শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে (ইমিউন সিস্টেম) সাময়িকভাবে দুর্বল করে ফেলে। নিউইয়র্কের ওয়েল কর্নেল মেডিসিনের সহকারী অধ্যাপক ড. আলকা গুপ্তা জানান, অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে নামিয়ে আনে, ফলে শরীর সহজেই বিভিন্ন ভাইরাস বা অন্যান্য সংক্রমণের শিকার হয় এবং পরোক্ষভাবে জ্বর চলে আসে। এছাড়া মস্তিষ্কের মেজাজ ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণকারী অংশে মানসিক চাপের যে প্রভাব পড়ে, তাও শরীরের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে।

মুক্তির উপায়

সাইকোজেনিক ফিভার থেকে মুক্ত হতে হলে মূল কারণ অর্থাৎ মানসিক চাপ সামলানোই সবচেয়ে বড় সমাধান। এর জন্য কিছু কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে—

  • ক্যারিয়ারের অনিশ্চয়তা, আর্থিক সংকট, পারিবারিক শোক, কিংবা সম্পর্কে টানাপোড়েনের মতো কারণগুলো খুঁজে বের করে তা মোকাবেলার চেষ্টা করা।
  • শরীর সুস্থ রাখতে সঠিক পুষ্টিকর খাবার এবং প্রতি রাতে নির্দিষ্ট সময় ঘুমানো জরুরি। বই পড়া, গান শোনা বা প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটানো মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে।
  • নিয়মিত যোগব্যায়াম ও ধ্যান, দীর্ঘ শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম, পেশি শিথিল ব্যায়াম করলে স্ট্রেস হরমোন নিঃসরণের হার কমে এবং মন মেজাজ ভালো থাকে।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

যদি শরীরের তাপমাত্রা অতিরিক্ত বেড়ে যায়, কিংবা জ্বরের সঙ্গে কাশি, শ্বাসকষ্ট বা অন্য কোনো শারীরিক উপসর্গ দেখা দেয়, তবে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত। এছাড়া দীর্ঘদিনের দুশ্চিন্তা বা মানসিক চাপের কারণে যদি ঘুম বা খাবারে অরুচি আসে এবং দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হয়, তবে কোনো মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সহায়তা নেয়া প্রয়োজন।

সূত্র: হাভার্ড হেলথ

আরও