তারামন বিবি বীরপ্রতীক

স্বাধীনতার পর ২৪ বছর ছিলেন নিখোঁজ, জানতেন না খেতাবের কথাও

মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর গেজেটের মাধ্যমে খেতাবপ্রাপ্ত মোট ৬৭৬ জন শহীদ ও জীবিত মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গে তারামন বিবির নামটি ঘোষিত হয়। কিন্তু গ্রামের অজপাড়াগাঁয়ের এই নারীর কাছে সে খবরটি দুর্ভাগ্যজনকভাবে পৌঁছায়নি! ঘটনার এখানেই শেষ নয়। ১৯৯২ সালে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের সেই খেতাব প্রদান করেন। সেই খবরও তারামন বিবি পাননি!

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে অসীম সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ৭ জনকে বীরশ্রেষ্ঠ, ৬৮ জনকে বীরউত্তম, ১৭৫ জনকে বীরবিক্রম এবং ৪২৬ জনকে বীরপ্রতীক খেতাব প্রদান করা হয়। এরমধ্যে মাত্র দুজন নারী বীরত্বসূচক এ খেতাবে ভূষিত হন। তারা হলেন, তারামন বিবি ও ক্যাপ্টেন সিতারা বেগম। দুইজনকেই বীরপ্রতীক খেতাব প্রদান করা হয়।

ক্যাপ্টেন সিতারা ছিলেন আর্মি কোরের ডাক্তার। তিনি মুক্তিযুদ্ধকালে দুই নম্বর সেক্টরের আওতাধীন ভারতের ত্রিপুরার বিশ্রামগঞ্জে স্থাপিত ‘বাংলাদেশে ফিল্ড হাসপাতালে’ আহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা সেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। আর তারামন বিবি গ্রামের গরীব পরিবারের খুবই সাধারণ এক নারী। কিস্তু এই সাধারণ নারীই একাত্তরে অসাধারণ ভূমিকা রাখেন। যুদ্ধে তিনি গুপ্তচর সেজে একাধিকবার পাকিস্তানি ক্যাম্পে গিয়ে দরকারি তথ্য সংগ্রহ করে মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে পৌঁছে দেন। চুলে জটা ধরা পাগল, কখনো সারা শরীরে কাদা মাথা ভবঘুরে ও পঙ্গুর ছদ্মবেশে শত্র ঘাঁটি রেকি করে এনেছেন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। পাশাপাশি পুরুষ সহযোদ্ধাদের সঙ্গে সম্মুখযুদ্ধে লড়াই করেছেন।

কিন্তু অবিশ্বাস্য হলেও সত্য— স্বাধীনতার ২৪ বছর পরও তারামন বিবি জানতেন যে তিনি বীরপ্রতীক খেতাপপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা। বিজয়ের দুই যুগ পর ১৯৯৫ সালে এক গবেষকের প্রচেষ্টায় অকুতোভয় এই নারীর খোঁজ পাওয়া যায়। স্বাধীন দেশে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাটিকে ১৯৯৫ সালের ২২ ডিসেম্বর ‘সাপ্তাহিক বিচিত্রা’র প্রচ্ছদ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে এভাবে, ‘তারামন যেন আবিষ্কৃত হলেন। আবিষ্কৃত হলো এদেশে স্বাধীনতা যুদ্ধের একটি প্রতীক : নারী যোদ্ধা। যুদ্ধেই তাকে চিহ্নিত করা হয়েছিল। কিন্তু চিনে রাখা হয়নি। তারামন হারিয়ে গিয়েছিলেন।’

তারামন বিবি বীরপ্রতীককে নিয়ে সাপ্তাহিক বিচিত্রার প্রচ্ছদ। (২২ ডিসেম্বর, ১৯৯৫)

মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর গেজেটের মাধ্যমে খেতাবপ্রাপ্ত মোট ৬৭৬ জন শহীদ ও জীবিত মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গে তারামন বিবির নামটি ঘোষিত হয়। কিন্তু গ্রামের অজপাড়াগাঁয়ের এই নারীর কাছে সে খবরটি তখন দুর্ভাগ্যজনকভাবে পৌঁছায়নি! ঘটনার এখানেই শেষ নয়। ১৯৯২ সালে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের সেই খেতাব প্রদান করেন। সেই খবরও তারামন বিবি পাননি! তখনো তার ঠিকানা কারো জানা ছিল না। ফলে তার বীরপ্রতীক খেতাব থেকে যায় কাগজে-কলমে।

তারামনের খোঁজে অধ্যাপক বিমল কান্তি দে

১৯৯৫ সালের অক্টোবর মাস। ময়মনসিংহের আনন্দ মোহন কলেজের অধ্যাপক বিমল কান্তি দে তারামন বিবির অনুসন্ধান করছিলেন বেশ কিছুদিন ধরে। খুঁজতে খুঁজতে চলে যান উত্তরের জেলা কুড়িগ্রামে। একগ্রামে পেয়ে সেই তারামন বিবিকে। গ্রামটির নাম মাধবপুর। এক ভাঙ্গা ঘরে থাকেন এই বীর নারী। অনাদর-অনাহারে কাটছিল দিন। দুই বেলা খাবার জোটে না। চেহারায় মাংস নেই, চোয়াল ভাঙ্গা।

বিমল কান্তি দের মাধ্যমেই ভাঙ্গা ঘরে পড়ে থাকা তারামন জানতে পারেন তিনি খেতাবপ্রাপ্ত বীর ‍মুক্তিযোদ্ধা। বাংলাদেশের গৌরব, আলো। মানিক-রতন। অহংকারের প্রতীক।
অধ্যাপক বিমল কান্দি দে স্মৃতিচারণে বণিক বার্তাকে জানান, ১৯৮৭ সালে ময়মনসিংহ জেলার শতবার্ষিকী উৎসব হয়েছিল। তখন তিনি প্রস্তাব করেন যে ময়মনসিংহের ইতিহাস যেহেতু লেখা হবে, যেখানে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়টি থাকুক। তার প্রস্তাবটি গৃহীত হয়। এরপর শতবার্ষিকী উদযাপন কমিটি মুক্তিযুদ্ধ পর্বটি লেখার জন্য বিমল কান্তি দায়িত্ব দেন। বৃহত্তর ময়মনসিংহের নানা জায়গায় ঘুরে মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে অনেক তথ্য সংগ্রহ করেন বিমল কান্দি। এসব তথ্য নিয়ে ‘বৃহত্তর ময়মনসিংহের মুক্তিযুদ্ধ ১৯৭১’ নামে বড় একটি গবেষণাধর্মী প্রবন্ধ লিখেন তিনি।

এ বিষয়ে বিমল কান্দি দে বলেন, ‘সে সময় খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা অসম্পূর্ণ ছিল। অনেকের ঠিকানা ঠিকঠাক পাওয়া যেত না। আমি মহিলা মুক্তিযোদ্ধাদের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে দেখি, ১১ নম্বর সেক্টরে মাত্র একজন মহিলা— তারামন বিবি খেতাব পেয়েছেন। তাই তাকে খুঁজতে শুরু করি। খোঁজ করতে করতে চার-পাঁচ বছর লেগে যায়। মুক্তিযুদ্ধের আগে তারামন বিবির একটি বিয়ে হয় (সেই বিয়ে যুদ্ধের আগেই ভেঙ্গে যায়) এবং পরে দুটি বিয়ে হয়। তাই খেতাবের গ্যাজেটে প্রকাশিত স্বামীর নামের সঙ্গে তার সবশেষ স্বামীর নাম মিলেনি। এ কারণে তারামন বিবিকে সনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত ১৯৯৫ সালের অক্টোবরের দিকে তার সন্ধান পাই কুড়িগ্রামের রাজিবপুরে— ব্রহ্মপুত্র নদের পূর্ব পারে, শংকর মাধবপুর গ্রামে। যখন আমি প্রথম তার সঙ্গে দেখা করি, তিনি খুব অসুস্থ, কাশছিলেন। কথা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল না। আমি তার কথা রেকর্ড করেছিলাম। তবে রেকর্ডের অনেকটাই নষ্ট হয়ে যায়। তিনি খেতাবের মর্যাদা সম্পর্কে তেমন বুঝতেন না। তার নিজের জীবনের নানা দুঃখ-কষ্ট, তিনবার বিয়ে, স্বামীর সঙ্গে সমস্যা— এসব কারণে তিনি আর নিজের কথা প্রকাশ করতেও চাইতেন না। তারপর তারামন বিবির বীরত্ব এবং এত বছর তার বিস্মৃত থাকা নিয়ে চিঠির মাধ্যমে পত্রিকায় লেখা পাঠাই। তারও কিছুদিন পর এ নিয়ে জাতীয়ভাবে আলোচনা শুরু হয়।‘

অধ্যাপক বিমল কান্তি দে ছবি : ফেসবুক থেকে নেয়া

এভাবেই তারামন বিবি বীরপ্রতীক উঠে আসেন জাতীয় দৈনিক সংবাদপত্রের পাতায়। অধ্যাপক বিমল কান্তির প্রচেষ্টায় জাতি জানতে পারে মুক্তিযুদ্ধকালে অকুতোভয় এক নারীর বীরত্বগাঁথা এবং তার যুদ্ধ পরবর্তী জীবনযুদ্ধ। এ নিয়ে অনুভূতি জানতে চাওয়া হলে বিমল কান্তি বলেন, ‘আমার অনুভূতি প্রকাশ করার মত না। আমি সন্তুষ্ট— কারণ বাংলাদেশে সবচেয়ে অসহায়, অশিক্ষিত, দরিদ্র এক নারী মুক্তিযোদ্ধা তার যোগ্য মর্যাদা পেয়েছেন। তার ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয়—স্বাধীনতার জন্য সাধারণ মানুষের গভীর ত্যাগ আছে। কিন্তু আর আমরা তা কত কম মূল্যায়ন করি।’

ঢাকায় তারামন বিবি বীরপ্রতীক

১৯৯৫ সালের ডিসেম্বর মাসে ঢাকার বিভিন্ন অনুষ্ঠানের হন মূল আকর্ষণ তারামন বিবি। সাপ্তাহিক বিচিত্রার প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ১৯৯৫ সালের ৭ ডিসেম্বর সম্মিলিত নারী সমাজের আমন্ত্রণে ঢাকা আসেন তারামন বিবি। জাতীয় প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলনে নিজের দুঃখগাঁথার গল্প ও খেতাবপ্রাপ্তির অনুভূতির কথা বলেন। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের আয়োজনে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানমালা উদ্বোধন করেন। চারুকলা মহাবিদ্যালয়ে নারী আন্দোলনের আলোকচিত্র প্রদর্শনী এবং মহিলা মুক্তিযোদ্ধাদের সমাবেশের উদ্বোধন করেন। তখন তিনি যক্ষ্মায় আক্রান্ত ও দুর্বল। কিন্তু প্রাণশক্তি তার প্রবল। তিনি যে মুক্তিযোদ্ধা। যুদ্ধ শেষে অস্ত্র জমা দিয়েছেন। কিন্তু দেশপ্রেম ও মনোবলকে জমা দেননি।

স্মৃতিচারণে বিচিত্রাকে তারামন বিবি বলেন, ‘বয়স যহন কম ছিল, ফড়িংয়ের মত নড়াচড়া করতাম।’ এই চঞ্চল ও উড়ন্ত বয়স যখন, তখন একাত্তর সাল। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী তারামন বিবির এলাকায় প্রবেশ করে। গ্রামবাসী ঘরবাড়ি ছেড়ে চলে যান সীমান্তের ওপারে, ভারতে। তবে তারামন ভারতে যাননি। স্থানীয় রাজীবপুর গিয়ে মুক্তিযোদ্ধা আজিজ মাস্টারের বাড়িতে আশ্রয় নেন। তারমনের বাবা নেই। চার ভাইবোন। মা মানুষের বাড়িতে কাজ করেন। কাজ না পেলে ভিক্ষাও করেন।

অযত্ন, অবহেলা ও রোগাক্রান্ত তারামন বিবি বীরপ্রতীক। সূত্র: বিচিত্রা, ২২ ডিসেম্বর, ১৯৯৫

আজিজ মাস্টারের বাড়ির পাশে নদীর পাড়ে ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্প। ক্যাম্পের কমান্ডার ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের হাবিলদার মুহিব। স্মৃতিচারণে তারামন বলেন, ‘মুহিব হালদার আমাকে কইলেন, “তুমি ক্যাম্পে কাজ করবার পারবা না?” ... তখন বাবা আমারে ক্যাম্পে আনলেন। মাইনকার চরের হাট থিকা কাপড়-চোপড় আইন্যা দিলেন। ক্যাম্পে একমাস রান্না-বান্না করলাম। ... বাবা আমার জন্য আলাদা রুম কইরা দিছিল। ...বাবা বলল, “আমি তোমারে অস্ত্র চালাইতে শিখাইতে চাই।” আমি খুশিতে রাজি হইলাম। তারপর বাবা যখন অবসর পাইছে, আমারে রাইফেল চালানো শিখাইছে, সেন্টও (স্টেনগান) শিখাইছে।’

তারামন বিবি যুদ্ধ ও গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ- দুটোই করেছেন। হাবিলদার মুহিবের নেতৃত্বে কোদালকাঠি, রাজীবপুর, তারাবর, সাজাই ও গাইবান্ধা অঞ্চলে আট থেকে দশটি সম্মুখযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন।

১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১, পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর আনুষ্ঠানিক আত্মসমর্পণের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়। স্বাধীনতার খবর প্রথম দলনেতার কাছেই জানতে পারেন তারামন বিবি। কয়েকদিন পর তিনি হাবিলদার ‍মুহিবের সঙ্গে ঢাকায় আসেন। একবছর থাকার পর গ্রাম থেকে তার মা চিঠিতে লেখেন, তারামন যেন বাড়ি যান। তখন তিনি গ্রামে মায়ের কাছে ফিরে যান। হালিদার মুহিব তারামনকে খরচের জন্য এক হাজার টাকা ও কিছু কাপড় কিনে দেন।

গ্রামে গেলে তারামনের দ্বিতীয় বিয়ে হয় একজন মানসিক প্রতিবন্ধীর সঙ্গে। এ কারণে এবারও সংসার করা হয়নি তার। পরে তৃতীয় বিয়ে হয় আবদুল মজিদ নামে ভূমিহীন এক দিনমজুরের সঙ্গে। স্বামীর যেহেতু বাড়িঘর নেই, তাই তাকে তারামনের নিজের বাড়িতে ঘরজামাই রেখেই দাম্পত্য জীবন শুরু করেন। মজিদ-তারামনের সংসারে এক মেয়ে ও এক ছেলে হয়। অভাব-অনটন ছিল নিত্যসঙ্গী। এভাবেই স্বাধীনতার ২৪ বছর কেটে যায় দারিদ্রপীড়িত বীর নারী তারামনের।

স্বামী পরের জমিতে দিনমজুরের কাজ করতেন। তারামন বিবিও দিনমুজরের কাজ করেছেন। কাজ করতে পেলে খাবার জুটতো। অন্যথায় না খেয়ে থাকতেন। বিচিত্রার প্রতিবেদনে উল্লেখ, এ নিয়ে তারামনের মন্তব্য হলো, ‘...দেশ স্বাধীন কইরা যদি এত দুঃখ-কষ্ট করি, দেশ স্বাধীন করলাম কি লাইগ্যা? আমি একা না, আমার মত অনেক মুক্তিযোদ্ধা কষ্ট করতাছে। ... স্বাধীনতা ২৪ বছর খুব কষ্ট কইরা কাটাইছি। ... কেউ আমার খোঁজ নেয় নাই। ...সুখে-শান্তিতে থাকার জন্য দেশ স্বাধীন করেছি। কেউ একা দেশটা স্বাধীন করে নাই। সবাই মিলে স্বাধীন করেছি। বাংলাদেশটাকে আপনারা ধইরা রাইখেন।’

বীরপ্রতীক খেতাব গ্রহণ

১৯৯৫ সালের ১৯ ডিসেম্বর তারামন বিবিকে তখনকার প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বীরপ্রতীক মেডেল পরিয়ে দেন। এ নিয়ে পরদিন বাংলাদেশে সব জাতীয় দৈনিক সংবাদপত্রের প্রথম পাতায় ছবিসহ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ২০ ডিসেম্বর দৈনিক ইত্তেফাকের শিরোনাম ছিল, ‘প্রধানমন্ত্রী তারামন বিবিকে আনুষ্ঠানিকভাবে বীরপ্রতীক পদক প্রদান করিলেন।’ দি ডেইলি স্টারের শিরোনাম ছিল, ‘পিএম ডেকোরেইটস তারামন’। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনি আমাদের গর্ব।’ এসময় অসুস্থ তারামন বিবির সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করতে কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। একইসঙ্গে তাকে আর্থিক অনুদান প্রদান করেন। (ইত্তেফাক, ২০ ডিসেম্বর ১৯৯৫)

বিচিত্রার প্রতিবেদনে উল্লেখ, তারামন বিবি সেদিন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে দুটি কথা বলেছিলেন। এক. ‘আমার মত অনেক মুক্তিযোদ্ধা আছে, যারা হারাইয়া গেছে, তাদেরকে খুঁইজা বাইর করেন।’ দুই. ‘আমার আরেকটা চাওয়া আছে। আপনার সন্তান আছে। দেশটারে আপনি সন্তানের মত দেইখেন।’

বীর ‍মুক্তিযোদ্ধা তারামন বিবি বীরপ্রতীক ২০১৮ সালের ১ ডিসেম্বর মারা যান। তার জীবনের ইতিহাস গল্প-উপন্যাসের চেয়েও করুন। মুক্তিযুদ্ধে তিনি জয়ী হন। কিন্তু স্বাধীনতা পরবর্তী ২৪ বছরের জীবনযুদ্ধে ছিলেন অযত্ন-অবহেলায়। এই বঞ্চনা রাষ্ট্রীয় দায়িত্ববোধকে স্পষ্টভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করে। অনেক দুঃখকষ্টের পর তারামন বিবি প্রাপ্য সম্মান ফিরে পান। তবু তার ঘটনা মনে করিয়ে দেয়— স্বাধীনতা অর্জনের পর তা রক্ষা করার দায়িত্বও অনেক বড়।

আরও