ছুটির ধাঁচ বদলালেই কি বদলাবে জীবন?

ভ্রমণ, পরিবার আর অর্থনীতিতে নতুন হিসাব চীনের

সম্প্রতি জাতীয় আইনসভা ও শীর্ষ রাজনৈতিক পরামর্শক সংস্থার বৈঠকে উঠে এসেছে নতুন কিছু ভাবনা। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের জন্য বসন্ত ও শরৎকালীন ছুটি চালুর প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি কর্মজীবীদের জন্য থাকছে ‘ধাপে ধাপে বেতনসহ ছুটি’, যাতে সবাই একই সময়ে ছুটি না নিয়ে সারা বছর জুড়ে ভাগ করে নিতে পারে অবসর।

ছুটি মানেই শুধু বিশ্রাম এমন ধারণা বদলাতে চাইছে চীন। দেশটিতে এখন ছুটি হয়ে উঠছে অর্থনীতি চাঙ্গা করার নতুন এক কৌশল। নতুন প্রস্তাব বলছে, কাজ আর জীবনের ভারসাম্য ঠিক করতে ছুটির ধরনই পাল্টে দিতে হবে।

সম্প্রতি জাতীয় আইনসভা ও শীর্ষ রাজনৈতিক পরামর্শক সংস্থার বৈঠকে উঠে এসেছে নতুন কিছু ভাবনা। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের জন্য বসন্ত ও শরৎকালীন ছুটি চালুর প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি কর্মজীবীদের জন্য থাকছে ‘ধাপে ধাপে বেতনসহ ছুটি’, যাতে সবাই একই সময়ে ছুটি না নিয়ে সারা বছর জুড়ে ভাগ করে নিতে পারে অবসর।

এমন ভাবনার পেছনে যুক্তি পরিষ্কার। বেশি অবসর মানে মানুষ বেশি ঘুরবে, খরচ করবে, আর তাতে চাঙ্গা হবে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজার। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির জন্য এটি বড় এক চাল হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আগে যেখানে ছুটির বিষয়টি ছিল শুধু শ্রমিকদের অধিকার, এখন তা অর্থনীতির অংশ। বিশেষ করে অক্টোবরের ‘গোল্ডেন উইক’ এর মতো সময়ে অতিরিক্ত ভিড় কমিয়ে সারা বছর ভ্রমণ ও ব্যয়ের প্রবণতা ছড়িয়ে দেয়াই লক্ষ্য। এতে বছরের নির্দিষ্ট সময়ে পর্যটনকেন্দ্রের চাপ কমবে, আর ভ্রমণও হবে আরামদায়ক।

চীনের একটি পর্যটন কেন্দ্রে পর্যটকদের সরিষা ফুলের ক্ষেত দেখার এই দৃশ্যটি ড্রোন থেকে ক্যামেরাবন্দী করা হয়েছে। ছবি: জিনহুয়া

এ পরিকল্পনার একটি নমুনা দেখা গেছে সিচুয়ান প্রদেশে। ২০২৫ সালে পাঁচ দিনের শরৎকালীন ছুটিতে পর্যটনস্থলের টিকিট বুকিং আগের বছরের তুলনায় চার গুণের বেশি বেড়েছে। একই সময়ে চেংদু থেকে ফ্লাইট বুকিংও বেড়েছে ২২ শতাংশ।

তবে প্রশ্নও আছে। যদি শিশুদের ছুটি থাকে, কিন্তু বাবা-মায়ের না থাকে, তাহলে পরিবার একসঙ্গে সময় কাটাবে কীভাবে? এজন্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্কুল ছুটির সঙ্গে মিলিয়ে অভিভাবকদের ছুটির ব্যবস্থাও করতে হবে। কর্মক্ষেত্রে নমনীয়তা বাড়াতে হবে, যাতে পরিবার একসঙ্গে ভ্রমণ বা সময় কাটাতে পারে।

যদি তা সম্ভব না হয়, তাহলে স্কুল বা স্থানীয় সংগঠনগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে— শিক্ষা সফর, আগ্রহভিত্তিক ক্লাস বা বিনোদনমূলক কার্যক্রম আয়োজন করে। এতে একদিকে যেমন শিশুদের সময়ও ভালো কাটবে, অন্যদিকে তাদের মানসিক বিকাশেও এটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো কর্মসংস্কৃতি। অনেক প্রতিষ্ঠানে এখনো ছুটি নেয়াকে গুরুত্বহীনতা হিসেবে দেখা হয়। ফলে কর্মীরা প্রাপ্য ছুটি নিয়েও দ্বিধায় থাকেন। এ মানসিকতা বদলাতে আইনি সুরক্ষা ও প্রণোদনার প্রয়োজন হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিকভাবে পরিকল্পনা করা ছুটির ব্যবস্থা শুধু ব্যক্তিগত জীবনেই স্বস্তি আনে না, এটি পর্যটন, পরিবহন, খাবারসহ নানা খাতেও গতি আনে। অর্থাৎ ছুটি বাড়লে শুধু মানুষই নয়, চাঙ্গা হয় পুরো অর্থনীতিও।

সব মিলিয়ে, চীনের এ উদ্যোগ একটি বড় পরীক্ষার মতো। যদি সফল হয়, তবে কাজ আর জীবনের ভারসাম্য নিয়ে বিশ্বজুড়ে নতুন আলোচনার পথ খুলে দিতে পারে।

সূত্র—জিনহুয়া

আরও