উড়োজাহাজে চড়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যাত্রা, অথচ শৌচাগার বন্ধ। এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়েছে ভার্জিন অস্ট্রেলিয়ার একদল যাত্রীকে। যাত্রাপথের সময়টিতে মারাত্মক দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে তাদের।
ইন্দোনেশিয়ার বালি থেকে অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেনগামী এক ফ্লাইটে গত বৃহস্পতিবার এ ঘটনা ঘটে। বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স ৮ উড়োজাহাজটি ডেনপাসার থেকে ব্রিসবেনের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। শুরু থেকেই একটি শৌচাগার অকেজো ছিল। যাত্রা শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই একে একে সবগুলো শৌচাগার বিকল হয়ে পড়ে। ছয় ঘণ্টার যাত্রার শেষ তিন ঘণ্টায় ভয়াবহ এক পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হয়েছে যাত্রীদের।
এক যাত্রী বলেন, ‘প্রথমে ভেবেছিলাম হয়তো সাময়িক সমস্যা। কিন্তু যখন ক্রুরা জানালেন সব শৌচাগার বন্ধ, তখন বোতল ব্যবহার করা করা ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না। কারো কারো কাছে এ অভিজ্ঞতা ছিল ‘লজ্জাজনক’, ‘অপমানজনক’ ও ‘অসহনীয়’। দুর্গন্ধে পুরো কেবিন অসহ্য হয়ে উঠেছিল।’
তিনি আরো জানান, সবচেয়ে হৃদয়বিদারক দৃশ্য ছিল এক প্রবীণ নারীর কষ্ট। তিনি নিয়ন্ত্রণ রাখতে না পেরে সবার সামনেই পোশাক ভিজিয়ে ফেলেন। এ নিয়ে যাত্রীদের চোখেমুখে অসহায়ত্ব আর ক্ষোভ স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
এ পরিস্থিতির জন্য এয়ারলাইন কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের কাছে ক্ষমা চেয়েছে। এমন চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতিতেও ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি সামাল দেয়ায় ক্রুদের প্রশংসা করেছে তারা। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের ফ্লাইট ক্রেডিট দেয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে এয়ারলাইনটি।
ঘটনাটি নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ট্রান্সপোর্ট ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, এমন পরিস্থিতি শুধু যাত্রীদের জন্য নয়, ক্রুদের জন্যও মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।
সূত্র: এনডিটিভি