ঝমঝম বৃষ্টি কিংবা স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়া আমাদের কাছে রোমান্টিক মনে হলেও, আদরের বিড়ালটির জন্য কিন্তু এই সময়টা একই অনুভূতির নাও হতে পারে। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি হবার কারণে বর্ষাকালে বিড়ালের নানা রকম ফাঙ্গাল ইনফেকশন, ত্বকে সমস্যা ও পরজীবীর আক্রমণ দেখা দেয়। একটু বেখেয়ালি হলেই আপনার চঞ্চল পোষ্যটি হয়ে পড়তে পারে অসুস্থ ও নিস্তেজ। তাই এই মেঘ-বৃষ্টির দিনগুলোতে তাকে সুস্থ, চনমনে ও সুরক্ষিত রাখতে খাওয়াদাওয়া থেকে শুরু করে দৈনন্দিন রুটিনে কিছু বিশেষ পরিবর্তন আনা জরুরি।
নিয়মিত ভ্যাকসিন, ডিওয়ার্মিং ও পরজীবী প্রতিরোধের ওষুধ সময়মতো দিলে বর্ষাকালে অনেক রোগের ঝুঁকি কমানো যায়
১. সুষম ও পুষ্টিকর খাওয়াদাওয়া
- বিশুদ্ধ পানি: বর্ষায় পানিবাহিত রোগের প্রকোপ বাড়ে। তাই বিড়ালকে সবসময় ফোটানো বা ফিল্টার করা বিশুদ্ধ পানি দিতে হবে। কিন্তু তারপরও কোনোভাবে পেটে যদি অস্বস্তি হয়েই যায় তবে কাচা কলা সেদ্ধ করে সেই পানি কিংবা সেদ্ধ কাচা কলা চটকে খাওয়ানো যেতে পারে।
- শুকনো খাবারকে প্রাধান্য: আর্দ্র আবহাওয়ার কারণে ভেজা খাবার (Wet food) দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। তাই এই সময়ে ভালো মানের শুকনো খাবার (Dry food) দেয়া যেতে পারে। তবে সব থেকে ভালো হচ্ছে বিড়ালকে নিয়মিত নিয়মিত সেদ্ধ মুরগি নরম করে খেতে দেয়া। দোকানের ‘প্রসেসড ফুড’ যতটা এড়িয়ে চলা যায় ততোই ভালো।
- খাবারের পাত্র পরিষ্কার: বিড়ালের খাবারের বাটি প্রতিদিন ভালোভাবে ধুয়ে শুকিয়ে নিতে হবে, যাতে কোনো ছত্রাক বা ব্যাকটেরিয়া না জন্মাতে পারে।
২. বাসস্থান ও পরিচ্ছন্নতা
- শুকনো ও উষ্ণ জায়গা: বিড়ালের থাকা বা ঘুমানোর জায়গাটি যেন স্যাঁতসেঁতে না হয়। ঘরের একটি নির্দিষ্ট শুকনো ও আরামদায়ক কোণে তার বিছানা তৈরি করে দিতে হবে।
- গোসল ও লোম শুকানো: বর্ষায় বিড়ালকে ঘন ঘন গোসল করানোর প্রয়োজন নেই। শরীর নোংরা হলে ভেজা তোয়ালে দিয়ে মুছে সঙ্গে সঙ্গে শুকনো কাপড় দিয়ে মুছে দিতে
- লিটার বক্সের যত্ন: বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় লিটার দ্রুত নষ্ট হয় এবং দুর্গন্ধ ছড়ায়। তাই লিটার বক্স নিয়মিত পরিষ্কার রাখা জরুরি।
৩. স্বাস্থ্য সচেতনতা ও টিকাদান
- প্যারাসাইট বা পরজীবী নিয়ন্ত্রণ: বছরের এই সময়ে বিড়ালের শরীরে ফ্লি বা অন্যান্য পরজীবীর আক্রমণ বাড়তে পারে। তাই নিয়মিত ভেটের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যান্টি-প্যারাসাইট ওষুধ ব্যবহার করুন।
- ফাঙ্গাল ইনফেকশন প্রতিরোধ ও ত্বকের যত্ন: বর্ষার স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায় বিড়ালের ত্বকে ফাঙ্গাল ডিজিজ বা ছত্রাকজনিত সংক্রমণের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। এর ফলে লোম উঠে যাওয়া, চুলকানি বা ত্বকে ঘা দেখা দিতে পারে। তাই বিড়ালের শরীর সবসময় শুকনো রাখতে হবে। শরীর নোংরা হলে ভেজা তোয়ালে দিয়ে মুছে সঙ্গে সঙ্গে শুকনো কাপড় বা ড্রায়ার দিয়ে লোম ভালোভাবে শুকিয়ে নিতে হবে।
ফাঙ্গাল ইনফেকশন হলে এরকম গোল চাকতির মতো ক্ষত ছড়িয়ে পড়ে
মনে রাখতে হবে, মেঘের ডাক বা বজ্রপাতের শব্দে অনেক বিড়াল ভয় পেয়ে লুকিয়ে থাকে। এমন পরিস্থিতিতে তাকে জোর করে বের না করে আশ্বস্ত করুন এবং ঘরের জানালা বন্ধ রাখুন কিংবা নেট দিয়ে ‘ক্যাট প্রুফ’ করুন। কোনো ধরনের শারীরিক অসুস্থতা বা ঝিমুনি দেখলে দ্রুত পশু চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। তবে অযথা দুশ্চিন্তারও কোনো কারণ নেই, বর্ষাকাল কিংবা বৃষ্টির দিনে বিড়াল এমনিতেও বেশিই ঘুমায়!