অস্ট্রেলিয়ার ক্যাঙ্গারু দ্বীপের ঘন জঙ্গল। তীব্র গরম, বিষধর সাপ, অনিশ্চিত পথ—সবকিছু পেরিয়ে অবশেষে হারিয়ে যাওয়া মিনিয়েচার ড্যাকসান্ড কুকুর ভ্যালেরি ফিরল তার মালিকের কাছে। হারিয়ে যাওয়ার ৫২৯ দিন পর ফিরে পাওয়া এ গল্প ছুঁয়ে গেছে অনেক পশুপ্রেমীর হৃদয়।
২০২৩ সালের নভেম্বরে ক্যাম্পিং ট্রিপে গিয়ে সাময়িকভাবে ভ্যালেরিকে একটি খোলা প্লেপেনে রেখে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন মালিকেরা। ফিরে এসে দেখেন, প্লেপেন ফাঁকা। শুরু হয় দুশ্চিন্তা আর খোঁজাখুঁজি। কাংগালা ওয়াইল্ডলাইফ রেসকিউ নামের একটি উদ্ধারকারী দল পুরো সময় ধরে চেষ্টা চালিয়ে যায়।
ভ্যালেরিকে খুঁজে পেতে উদ্ধারকারী দলটি ব্যয় করে ১ হাজার ঘণ্টারও বেশি সময়, পাড়ি দেয় ৫ হাজার কিলোমিটারের মতো পথ। নজরদারি ক্যামেরা, খাবার ভর্তি ফাঁদ, মালিকের পোশাক আর প্রিয় খেলনার গন্ধে তৈরি করা হয় ভ্যালেরির জন্য ফেরার পথ। একপর্যায়ে মালিকের পুরনো টি-শার্টের গন্ধ চিনতে সক্ষম হয় ভ্যালেরি। যদিও তখনো সে আতঙ্কগ্রস্তই ছিল।
এছাড়া ভ্যালেরির উদ্ধারের গল্পটাও কম নাটকীয় নয়। স্থানীয়দের চোখে পড়েছিল ভ্যালেরির গলায় পড়ানো গোলাপি কলার। পরিচিত সে চিহ্ন দেখে আরো জোরালো হয় উদ্ধার অভিযান। ধৈর্যের প্রতীক্ষা যেন শেষ হয় অবশেষে! কাংগালার সদস্য জেরেড কাররান ধীরে ধীরে ভ্যালেরিকে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে আসেন।
ভ্যালেরির মালিক জর্জিয়া গার্ডনার
ভ্যালেরির ফিরে আসার খবর ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক মাধ্যমে। মালিক জর্জিয়া গার্ডনার আবেগঘন পোস্টে লেখেন, যারা কখনো তাদের পোষা প্রাণী হারিয়েছেন, তারা জানেন এ কষ্ট কতটা গভীর।
কাংগালা জানিয়েছে, এখন ভ্যালেরি সুস্থ আছে। সে এখন তার আসল পরিবারের কাছে ফেরত যাওয়ার জন্য প্রস্তুত। ভ্যালেরির ফিরে আসা শুধু একটি প্রাণীর বেঁচে ফেরা নয়। বরং হার না মানা ভালোবাসার একটি দুর্লভ উদাহরণ হয়ে থাকল।
—বিবিসি ও রয়টার্স