রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে এশিয়ার মহাসাগরগুলোয় সঞ্চিত তাপ

এশিয়ার মহাসাগরগুলোয় সঞ্চিত তাপের পরিমাণ গত বছর রেকর্ড সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে ওয়ার্ল্ড মিটিওরোলজিকাল অর্গানাইজেশন (ডব্লিউএমও)। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, নব্বইয়ের দশক থেকে এ অঞ্চলের মহাসাগরগুলোয় তাপের পরিমাণ দ্রুত বেড়েছে। ক্রমবর্ধমান এ তাপমাত্রা সমুদ্রস্রোত ও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যকে অস্থিতিশীল করে তুলছে এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে।

এশিয়ার মহাসাগরগুলোয় সঞ্চিত তাপের পরিমাণ গত বছর রেকর্ড সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে ওয়ার্ল্ড মিটিওরোলজিকাল অর্গানাইজেশন (ডব্লিউএমও)। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, নব্বইয়ের দশক থেকে এ অঞ্চলের মহাসাগরগুলোয় তাপের পরিমাণ দ্রুত বেড়েছে। ক্রমবর্ধমান এ তাপমাত্রা সমুদ্রস্রোত ও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যকে অস্থিতিশীল করে তুলছে এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে।

‘স্টেট অব দ্য ক্লাইমেট ইন এশিয়া’ শীর্ষক গত সপ্তাহে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে সমুদ্রের ৭০০ মিটার গভীরতা পর্যন্ত প্রতি বর্গমিটারে সঞ্চিত তাপের পরিমাণ (ওশান হিট কন্টেন্ট) ছিল ১৯৯১ থেকে ২০২০ সময়কালের গড়ের তুলনায় প্রায় ৭০০ মিলিয়ন জুল বেশি।

গত বছর এশিয়ার প্রায় সব সমুদ্রাঞ্চল— ভারত মহাসাগর, পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগর, আর্কটিক মহাসাগরের কিছু অংশ এবং স্থলবেষ্টিত কাস্পিয়ান সাগর— সামুদ্রিক তাপপ্রবাহের শিকার হয়। অস্ট্রেলিয়ার জেমস কুক ইউনিভার্সিটির মেরিন বায়োলজিস্ট জোডি রামার বলেন, উদ্বেগের বিষয় হলো এশিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে একই সময়ে এ ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে গিয়েছে।

সমুদ্রের উষ্ণায়ন এবং হিমবাহ, বরফস্তূপ ও বরফচাদর গলে যাওয়ার যৌথ প্রভাবে গত বছর সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতাও রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে। উত্তর ভারত মহাসাগরের উপকূলীয় অঞ্চল এবং ফিলিপাইন থেকে জাপান পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় দ্রুত বেড়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার ইউএনএসডব্লিউ সিডনির সমুদ্রবিজ্ঞানী ম্যাথিউ ইংল্যান্ডের ভাষ্যমতে, প্রশান্ত মহাসাগরের ওপর দিয়ে আমেরিকা মহাদেশ থেকে প্রবাহিত বাণিজ্য বায়ু (ট্রেড উইন্ড) উষ্ণ পানি এশিয়ার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ফলে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে উষ্ণ পানি জমা হচ্ছে। এতে একই সঙ্গে পানির তাপমাত্রা ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে যাচ্ছে। প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবেই উঠে এসেছে যে, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষেত্রে এশিয়া এখন বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলগুলোর একটি।

প্রতিবেদনের লেখকদের মতে, গত বছরের জলবায়ু পরিস্থিতিতে বড় ভূমিকা রেখেছিল লা নিনা। এ সময় এশিয়ার সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে গিয়েছিল। একই সঙ্গে বাণিজ্য বায়ুও শক্তিশালী হয়ে আরো বেশি উষ্ণ পানি এশিয়ার দিকে ঠেলে দিয়েছিল।

তবে এখন পরিস্থিতি বদলাচ্ছে। এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে এল নিনো। অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব মেলবোর্নের জলবায়ুবিজ্ঞানী অ্যান্ড্রু কিংয়ের ভাষ্যমতে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এল নিনোর প্রভাবে সাধারণত শুষ্ক আবহাওয়া দেখা দেয়। এর ফলে খরা ও দাবানলের ঝুঁকি বাড়ে। জলবায়ু পরিবর্তন ও এল নিনোর সম্মিলিত প্রভাবে এশিয়ায় আগামী এক বছরে আরো চরম আবহাওয়াজনিত ঘটনা ঘটতে পারে।

জোডি রামারের মতে, সাগরে এরই মধ্যে যে উষ্ণায়ন ঘটেছে, তা পুরোপুরি উল্টে দেয়া সম্ভব নয়। তবে বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমিয়ে ভবিষ্যতের উষ্ণায়ন সীমিত করা সম্ভব।

(নেচার অবলম্বনে)

আরও