মানুষের সঙ্গে কুকুরের জীবনচক্র ও বার্ধক্যে এত মিল কেন?

গবেষকেরা দেখেছেন, কিছু মেটাবোলাইটের উপস্থিতি কুকুরের অপেক্ষাকৃত দ্রুত বা দেরিতে মৃত্যু হবার সঙ্গে সম্পর্কিত। অর্থাৎ শরীরের এসব রাসায়নিক পরিবর্তন থেকে কুকুরের দীর্ঘমেয়াদি সুস্বাস্থ্য বা আয়ুর ইঙ্গিত পাওয়া যেতে পারে।

মানুষের বয়স বাড়ার সঙ্গে শরীরে যে পরিবর্তনগুলো ঘটে, কুকুরের শরীরেও তার কিছুটা যেন একই গল্প। এবার গবেষণায় মিলেছে আরও চমকপ্রদ তথ্য। কুকুর ও মানুষের আয়ু কমা-বাড়ার সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু বিপাকীয় সংকেত বা মেটাবোলাইটের ধরন আশ্চর্যজনকভাবে একই। জীবনচক্র ও বার্ধক্য কীভাবে কাজ করে, তা বুঝতে এই মিল বিজ্ঞানীদের নতুন দরজা খুলে দিয়েছে।

সম্প্রতি ‘দ্য জার্নালস অব জেরোন্টোলজি’ সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, মানুষ ও কুকুরের রক্তে থাকা এমন কিছু নির্দিষ্ট জৈবিক উপাদান রয়েছে যা এই দুই প্রজাতির আয়ুর দীর্ঘতা বা দ্রুত বার্ধক্যের সংকেত দেয়। আর অবাক করার মতো বিষয় হলো, এই উপাদানগুলোর কার্যপ্রণালি দুইয়ের ক্ষেত্রেই একই রকমভাবে কাজ করে।

রক্তে লুকিয়ে থাকা বার্ধক্যের ছাপ

গবেষণাটি করেছে ডগ এজিং প্রজেক্টের একটি গবেষক দল। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন পরিবারের সঙ্গে থাকা কুকুরদের রক্তের নমুনা বিশ্লেষণ করে তারা হাজার রকমের মেটাবোলাইটের ধরন খুঁজে বের করেছেন। মেটাবোলাইট হলো শরীরের স্বাভাবিক জৈবিক কার্যক্রমের সময় তৈরি হওয়া ছোট ছোট রাসায়নিক পদার্থ।

গবেষকেরা দেখেছেন, কিছু মেটাবোলাইটের উপস্থিতি কুকুরের অপেক্ষাকৃত দ্রুত বা দেরিতে মৃত্যু হবার সঙ্গে সম্পর্কিত। অর্থাৎ শরীরের এসব রাসায়নিক পরিবর্তন থেকে কুকুরের দীর্ঘমেয়াদি সুস্বাস্থ্য বা আয়ুর ইঙ্গিত পাওয়া যেতে পারে।

গবেষণাটির প্রধান গবেষক কেট ক্রিভির ভাষায়, মানুষের ক্ষেত্রে আগে শনাক্ত হওয়া আয়ু-সম্পর্কিত বিপাকীয় সংকেতের সঙ্গে কুকুরের সংকেতের উল্লেখযোগ্য মিল রয়েছে। তবে কোনো মেটাবোলাইট সরাসরি মৃত্যুর কারণ এমন সিদ্ধান্ত এখনই দেয়া যাচ্ছে না।

একই কেমিক্যাল রয়েছে মানুষের শরীরেও

গবেষকরা কুকুরের পাওয়া ফলাফল মানুষের মৃত্যুহার নিয়ে করা পাঁচটি বড় গবেষণার ফলাফলের সঙ্গে তুলনা করেন। পাঁচটি গবেষণাতেই কুকুর ও মানুষের বিপাকীয় সংকেতের মধ্যে মিল পাওয়া যায়।

গবেষকদের কাছে এটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ এর মাধ্যমে বোঝা যাচ্ছে, বিবর্তনের দিক থেকে আলাদা হলেও মানুষ ও কুকুরের বার্ধক্যের কিছু জৈবিক প্রক্রিয়া একই পথে এগোতে পারে।

এ গবেষণায় কুকুরকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে এদের জীবনযাপনও। এরা মানুষের সঙ্গেই থাকে, একই পরিবেশে বাস করে এবং অনেক ক্ষেত্রে মালিকের মতোই খাবার, চলাফেরা ও দৈনন্দিন অভ্যাসের মাধ্যমে প্রভাবিত হয়।

আবার মানুষের তুলনায় কুকুরের আয়ু অনেক কম, সাধারণত ১২ থেকে ১৩ বছর। ফলে মানুষের কয়েক দশকের বার্ধক্যপ্রক্রিয়া তুলনামূলক কম সময়ের মধ্যে কুকুরের ক্ষেত্রে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব।

কুকুরের জীবনচক্র বনাম মানুষের বার্ধক্য

গবেষণায় অংশ নেয়া কুকুরগুলোর মালিকেরা নিয়মিত তাদের জীবনযাপন সম্পর্কে তথ্য দিয়েছেন। কেউ কেউ প্রতিবছর রক্তসহ বিভিন্ন জৈবিক নমুনাও দিয়েছেন। গবেষকদের মতে, এসব মালিকের দীর্ঘদিনের অংশগ্রহণ ছাড়া এমন গবেষণা সম্ভব হতো না।

এখন বিজ্ঞানীদের লক্ষ্য শুধু কোন মেটাবোলাইট আয়ুর সঙ্গে সম্পর্কিত, তা জানা নয়। বরং কেন এই সম্পর্ক তৈরি হয়, সেটিও বোঝা। এতে বার্ধক্যের পেছনে বিপাকক্রিয়া, প্রদাহ ও কোষের চাপ মোকাবেলার মতো প্রক্রিয়াগুলো সম্পর্কে নতুন ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

আর কুকুরের মালিকদের জন্য গবেষকের বার্তাটি বেশ পরিচিত। স্বাস্থ্যকর খাবার, সঠিক ওজন, চলাফেরার সক্ষমতা এবং সুস্বাস্থ্যের মতো বিষয়গুলো মানুষের মতো কুকুরের দীর্ঘ ও সুস্থ জীবনের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।

—সাইটেক ডেইলি থেকে তথ্য নিয়ে অনূদিত ও পরিমার্জিত

আরও