আমেরিকা আবিষ্কার হলো যেভাবে

কলম্বাস ১৪৯২ খ্রিস্টাব্দের ১২ অক্টোবর একটি দ্বীপে গিয়ে পৌঁছেন। দ্বীপটি বাহামা দ্বীপপুঞ্জের অন্তর্গত, নাম ছিল সান সালভেদর। এ দ্বীপের বর্তমান নাম ওয়াটলিং আইল্যান্ড। কলম্বাস এই দ্বীপকে ভারত বলে ভেবেছিলেন।

আমেরিকা কে আবিষ্কার করেছেন, এ নিয়ে কিছু বিতর্ক আছে। তবে মোটামুটিভাবে কলম্বাসকেই আমেরিকার আবিষ্কারক হিসেবে ধরা হয়। আজকে আমরা কলম্বাসের আমেরিকা আবিষ্কারের গল্প জানবো।

চৌদ্দ পনেরো শতকে ভারতবর্ষের ঐশ্বর্যের কথা ইউরোপে কিংবদন্তি হয়ে দাঁড়িয়েছিল। সুলতানি আমলে ভারতের ঐশ্বর্যের কমতি ছিল না। ইউরোপের অনেকেরই ইচ্ছা ছিল সমুদ্রপথের সন্ধান করবে যেন ভারতবর্ষে যাওয়া যায়। অভিযানপ্রিয় কলম্বাস জাহাজ নিয়ে ভারতবর্ষের খোঁজে বের হন। ক্রিস্টোফার কলম্বাস তরুণ বয়সে সমুদ্রযাত্রা করেন। ১৪৭৭ সালের দিকে তিনি পর্তুগালের লিসবনে চলে যান। সেখান থেকে তিনি ভূমধ্যসাগর এবং আটলান্টিক মহাসাগরীয় বাণিজ্যিক বন্দরগুলোতে নৌ অভিযান পরিচালনা করেন।

ভারতে যাওয়ার সমুদ্রপথ আবিষ্কারের আশায় ১৪৮৩ সালে পর্তুগালের রাজা জন দ্বিতীয়র কাছে তিনি তার পরিকল্পনা জমা দেন। তাতে আটলান্টিক হয়ে পশ্চিমের দিকে এশিয়া যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। রাজা তার পরিকল্পনায় রাজি হলেন না। তখন কলম্বাস স্পেনের রাজা ও রানীর কাছে দেন দরবার করেন। স্পেনের রাজদরবার তার অভিযান অনুমোদন করে।

কলম্বাস ১৪৯২ খ্রিস্টাব্দের ১২ অক্টোবর একটি দ্বীপে গিয়ে পৌঁছেন। দ্বীপটি বাহামা দ্বীপপুঞ্জের অন্তর্গত, নাম ছিল সান সালভেদর। এ দ্বীপের বর্তমান নাম ওয়াটলিং আইল্যান্ড। কলম্বাস এই দ্বীপকে ভারত বলে ভেবেছিলেন। তার ভুল পরবর্তীতে ধরা পড়ে এবং আটলান্টিক মহাসাগরের এই তাবৎ দ্বীপপুঞ্জকে বলা হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

এরপর কলম্বাস জাপানের পথে পাড়ি দিতে গিয়ে সান সালভেদরের দক্ষিণে হিসপানিয়োলা আর তারপর কিউবায় গিয়ে পৌঁছেন। ভারতবর্ষ জলপথে আবিষ্কার করতে না পেরে ব্যর্থ মনোরথে কলম্বাস ১৪৯৩ খ্রিস্টাব্দের ১৩ মার্চ আবার স্পেনে পৌঁছেন। ১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দের ২৪ সেপ্টেম্বর আরম্ভ হলো কলম্বাসের দ্বিতীয় নৌযাত্রা। সেবারও তিনি ভারতবর্ষ খুঁজে পাননি। ১৪৯৮ খ্রিস্টাব্দে তৃতীয় নৌ-যাত্রায় কলম্বাস প্রথমে ত্রিনিদাদ এবং তারপর গিয়ে পৌঁছান দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের বর্তমান ভেনিজুয়েলাতে।

ভারতে যাওয়ার সমুদ্রপথ আবিষ্কারেরর এতো চেষ্টা যখন চলছে তখন এক স্পেনীয় নাবিক ঘোষণা করেন যে, দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের মূল ভূখণ্ড পূর্বেই তিনি ১৪৯৭ খ্রিস্টাব্দের ১৬ জুন আবিষ্কার করে এসেছেন। এই নাবিকের নাম ছিল আমেরিগো ভেসপুচ্চি। কিন্তু অনেক বিশেষজ্ঞের মত হলো, তিনি ১৪৯৯ খ্রিস্টাব্দের আগে সমুদ্রযাত্রাই করেননি।

কলম্বাস আমেরিকা পৌঁছেছিলেন, কিন্তু বুঝতে পারেননি। কিন্তু, ভেসপুচ্চির নিজের সমুদ্রযাত্রার বিষয়ের উপর লেখা এতই জনপ্রিয়তা লাভ করে যে, তাকেই দক্ষিণ আমেরিকার আবিষ্কারক হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়। জার্মানির ভূগোলবিদ ভাল্ডয়ে মুলার ব্রাজিলের নাম আমেরিগোর সম্মানার্থে আমেরিকা দেন। আমেরিকা নামটা এতই প্রচলিত হয়ে পড়ে যে, ব্রাজিল থেকে উত্তর আমেরিকা আর দক্ষিণ আমেরিকা দুই মহাদেশেরই নামকরণ হয় আমেরিকা।

আরও