মহাকাশ শুধু রহস্যে ঘেরা নয়, গন্ধেও ভরা বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। কেউ ভাবতেই পারেন না, যেখানকার শূন্যতা প্রাণহীন বলে মনে হয়, সেখানে লুকিয়ে আছে গন্ধের এত বৈচিত্র্য! আর এই বিস্ময়কর গন্ধগুলোই মহাকাশের রসায়ন ও সম্ভাব্য প্রাণের অস্তিত্ব নিয়ে ইঙ্গিত দিচ্ছে গবেষকদের।
এই অনন্য গবেষণার নায়িকা মারিনা বারসেনিলা। তিনি মহাকাশ বিজ্ঞানী, সুগন্ধি প্রস্তুতকারক ও অ্যাস্ট্রোবায়োলজির গবেষক। তিনি বলেন, প্রতিটা গ্রহ, উপগ্রহ, ধূমকেতু কিংবা গ্যাসীয় মেঘের নিজস্ব একেকটা গন্ধ আছে। বৃহস্পতির উপরের মেঘে রয়েছে অ্যামোনিয়া বরফ, যার গন্ধ অনেকটা বিড়ালের প্রস্রাবের মতো তীব্র ও তীক্ষ্ণ। একটু নিচে নামলে আছে অ্যামোনিয়াম সালফাইড—যার গন্ধ সালফার আর অ্যামোনিয়ার মিশ্রণে, অনেকটা পচা ডিমের মতো দুর্গন্ধময়। আরো গভীরে গেলে পাওয়া যায় থলিনস নামের জৈব যৌগ, যার ঘ্রাণ পেট্রোল আর রসুনের ঝাঁজ মেশানো—এক কথায়, তীব্র ও বিরক্তিকর।
এই গন্ধগুলো শুধু কল্পনার বিষয় নয়। বারসেনিলা তার ল্যাবে এই উপাদানগুলোর রাসায়নিক সংস্করণ তৈরি করে ‘মহাকাশের ঘ্রাণ’ বাস্তবে তুলে ধরেছেন। তার তৈরি এসব ঘ্রাণ এখন প্রদর্শিত হচ্ছে লন্ডনের ন্যাচারাল হিস্টোরি মিউজিয়ামের প্রদর্শনী ‘স্পেস: ক্যুড লাইফ এক্সিস্ট বিয়ন্ড আর্থ?’-এ।
বারসেনিলা জানান, প্রথম দিকে শুধু কৌতূহল থেকেই তিনি ভাবতেন—‘এর গন্ধ কেমন?’ পরে বুঝতে পারেন, এসব তৈরির উপাদান তো ল্যাবেই আছে! তখনই শুরু করেন গবেষণার পাশাপাশি ঘ্রাণ তৈরি। তিনি বলেন, ‘মহাকাশে এমন কিছু অঞ্চল আছে যেগুলো বাদামের মতো মিষ্টি ঘ্রাণ ছড়াতে পারে, আবার কিছু জায়গার গন্ধ এমন যে, আপনি নাক চেপে ধরতে বাধ্য হবেন।
এই গবেষণা শুধু এক অভিনব অভিজ্ঞতা নয়। বরং মহাবিশ্বের গঠন, রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য ও প্রাণের সম্ভাবনা সম্পর্কেও বিজ্ঞানীদের নতুন করে ভাবতে সাহায্য করছে। মহাকাশের গন্ধ এখন কল্পনা নয়—এটা বাস্তবের কাছাকাছি এক অনুভূতি, যা মানুষকে মহাবিশ্বের প্রতি আরো বেশি আগ্রহী করে তুলছে।
— বিবিসি