এজোগেলিন চোরবা

শাশুড়ির মন জিততে বানানো স্যুপ, আজ তুরস্কের জনপ্রিয় খাবার

প্রথমে লাল মসুর ডাল ভালোভাবে ধুয়ে নিন। একটি হাঁড়িতে ডাল, কুচি করা পেঁয়াজ, টমেটো পেস্ট ও টাটকা টমেটো দিয়ে পরিমাণমতো পানি দিন। এরপর সব উপকরণ ভালোভাবে সেদ্ধ হওয়া পর্যন্ত রান্না করুন

বিয়ের পর শাশুড়ির মন জয় করা—নতুন বউয়ের জন্য পৃথিবীর অনেক সংস্কৃতিতেই এটি এক চিরচেনা চ্যালেঞ্জ। নতুন সংসারে পা রাখার পর শুধু স্বামীর নয়, শ্বশুরবাড়ির সবার মন জয়েরও যেন অদৃশ্য পরীক্ষায় বসতে হয় তাকে। কেমন রান্না করেন, কীভাবে সংসার সামলান, এমনকি শাশুড়ির পছন্দ-অপছন্দ কতটা বুঝতে পারেন—এসবও হয়ে ওঠে সেই পরীক্ষার অংশ।

তুরস্কের একটি জনপ্রিয় স্যুপের গল্পের আড়ালেও দেখা মেলে এ চেনা সামাজিক প্রত্যাশার। কথিত আছে, এক তরুণী বউ তার শাশুড়ির মন জয় করতে তৈরি করেছিলেন বিশেষ এক স্যুপ। সেই তরুণীর নাম ছিল এজো। আর তার নাম থেকেই স্যুপটির নাম—এজোগেলিন চোরবা, অর্থাৎ ‘কনে এজোর স্যুপ’।

তবে গল্পটি শুনতে যতটা সরল মনে হয়, এর আড়ালে রয়েছে গভীর সামাজিক বাস্তবতা। কারণ একজন নতুন বউকেই কেন শাশুড়ির মন জয়ের পরীক্ষায় নামতে হবে—এ প্রশ্ন থেকেই যায়। সংসারে মানিয়ে নেয়ার দায়িত্ব কেন এত বেশি করে বউয়ের কাঁধেই পড়ে? এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে খাবারের গল্পটি কেবল রান্নার গল্প থাকে না; এর সঙ্গে জড়িয়ে যায় পরিবার, নারীর ভূমিকা আর পুরুষতান্ত্রিক সামাজিক প্রত্যাশার কথাও।

তবে এজোগেলিন চোরবার গল্পে সবকিছুকে ছাপিয়ে খাবারটাই শেষ পর্যন্ত বেশি আকর্ষণীয়। লাল মসুর ডাল, টমেটো, পেঁয়াজ, রসুন, পুদিনা আর মরিচ দিয়ে তৈরি এ স্যুপ আজ তুরস্কের পরিচিত খাবারগুলোর একটি। যদিও শাশুড়ির মন জয় করতে এটি সত্যিই কতটা কাজে দিয়েছিল, তার কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায় না। এখানে আরেকটি বিষয়ও মনে রাখা জরুরি। এজো নিজেই এ স্যুপ আবিষ্কার করেছিলেন কিনা এমন নিশ্চিত ঐতিহাসিক প্রমাণ পাওয়া যায় নি। এজোর জীবন ও স্যুপটির সম্পর্ক মূলত লোককাহিনি ও পরবর্তী খাদ্য-ঐতিহ্যের গল্পের অংশ। তাই এজোর গল্পকে কিংবদন্তি হিসেবেই দেখা হয়।

গল্প তো জানা হলো, এবার জেনে নেয়া যাক এজোগেলিন চোরবা তৈরি হয় কী দিয়ে:

উপকরণ:

এজোগেলিন চোরবা তৈরির মূল উপকরণ খুবই সাধারণ। এটি তৈরিতে প্রয়োজন লাল মসুর ডাল, টমেটো পেস্ট, কুচি করা টাটকা টমেটো, পেঁয়াজ, শুকনো পুদিনা, পুল বিবার (তুরস্কের রান্নায় ব্যবহৃত এক ধরনের শুকনো ঝাল মরিচের গুঁড়া) ও লবণ।

প্রস্তুত প্রণালি:

প্রথমে লাল মসুর ডাল ভালোভাবে ধুয়ে নিন। একটি হাঁড়িতে ডাল, কুচি করা পেঁয়াজ, টমেটো পেস্ট ও টাটকা টমেটো দিয়ে পরিমাণমতো পানি দিন। এরপর সব উপকরণ ভালোভাবে সেদ্ধ হওয়া পর্যন্ত রান্না করুন।

ডাল ও সবজি নরম হয়ে এলে স্যুপের মতো ঘন একটি মিশ্রণ তৈরি হবে। প্রয়োজন হলে আরো কিছুটা পানি দিয়ে ঘনত্ব ঠিক করে নিন। এরপর স্বাদ অনুযায়ী লবণ, শুকনো পুদিনা ও পুল বিবার দিয়ে আরো কিছুক্ষণ রান্না করুন।

সবশেষে গরম গরম পরিবেশন করুন এজোগেলিন চোরবা।

তবে এই স্যুপ বানাতে তুরস্কের সব উপকরণ হাতের কাছে থাকা জরুরি নয়। দেশে সহজে পাওয়া যায় এমন উপকরণ দিয়ে এই স্যুপের কাছাকাছি একটি ঘরোয়া সংস্করণ বানিয়ে নিতে পারেন। লাল মসুর ডাল, পেঁয়াজ, টমেটো, টমেটো পেস্ট ও শুকনা পুদিনা পাওয়া যায় প্রায় সব বাজারেই। এক্ষেত্রে পুল বিবারের বদলে ব্যবহার করতে পারেন শুকনা মরিচের গুঁড়া। তবে এভাবে তৈরি করলে তুরস্কের এজোগেলিন চোরবার আসল স্বাদ পুরোপুরি নাও পাওয়া যেতে পারে।

আরও