বিড়ালের ভ্যাকসিন না ডিওয়ার্মিং, কোনটা আগে?

সাধারণত বিড়ালছানার বয়স ৩০ থেকে ৪৫ দিন (৪ থেকে ৬ সপ্তাহ) হলেই প্রথম ডিওয়ার্মিং করানো উচিত। অন্যদিকে বিড়ালকে প্রথম প্রতিষেধক টিকা বা ভ্যাকসিন দেয়া যায় তার বয়স ৬ থেকে ৮ সপ্তাহের মধ্যেই।

নতুন বিড়াল পোষা শুরু করলে বা বাড়িতে নতুন বিড়ালের ছানা আনলে তার স্বাস্থ্য নিয়ে ক্যাট প্যারেন্টদের অনেক চিন্তা থাকে। বিশেষ করে বিড়ালের প্রাথমিক চিকিৎসার ক্ষেত্রে ডিওয়ার্মিং (কৃমিমুক্তকরণ) আগে করাবেন নাকি ভ্যাকসিন (প্রতিষেধক টিকা) দেবেন, তা নিয়ে প্রায়ই বিভ্রান্তি তৈরি হয়। আর মনে আসে নানা রকম প্রশ্ন। কোনটি আগে করাতে হবে, কতদিন পর ভ্যাকসিন দেয়া যাবে, কিংবা দুটো কি একই দিনে করা যায়, এসব নিয়ে বিভ্রান্তির শেষ নেই। বিড়ালের বয়স, শারীরিক অবস্থা ও আগের চিকিৎসার ইতিহাস অনুযায়ী পরিকল্পনা করা সবচেয়ে নিরাপদ। সহজ উত্তর হলো— বিড়ালকে সুস্থ ও নিরাপদ রাখতে ডিওয়ার্মিং আগে করাতে হয়, তারপর ভ্যাকসিন দিতে হয়।

সাধারণত বিড়ালছানার বয়স ৩০ থেকে ৪৫ দিন (৪ থেকে ৬ সপ্তাহ) হলেই প্রথম ডিওয়ার্মিং করানো উচিত। অন্যদিকে বিড়ালকে প্রথম প্রতিষেধক টিকা বা ভ্যাকসিন দেয়া যায় তার বয়স ৬ থেকে ৮ সপ্তাহের মধ্যেই।

ভ্যাকসিন দেয়ার আগে ডিওয়ার্মিং কেন জরুরি, তার প্রধান কারণগুলো নিচে দেয়া হলো:

রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা ঠিক রাখা

বিড়ালের শরীরে কৃমির উপস্থিতি তার ইমিউনিটি বা রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করে দেয়। দুর্বল শরীরে ভ্যাকসিন দিলে বিড়ালের ভ্যাকসিন অকার্যকর হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা বৃদ্ধি

কৃমিমুক্ত ও সম্পূর্ণ সুস্থ শরীরে ভ্যাকসিন দেয়া হলে তা বিড়ালের শরীরে সঠিকভাবে কাজ করে এবং উপযুক্ত অ্যান্টিবডি তৈরি করতে পারে। বিড়াল পেটে কৃমি নিয়ে ভ্যাকসিন গ্রহণ করলে সেই ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা অনেকাংশে কমে যায়। এজন্য আগে ডিওয়ার্মিং আর পরে ভ্যাকসিন দিতে উৎসাহিত করা হয়।

নতুন ক্যাট প্যারেন্টদের জন্য কিছু সহজ পরামর্শ:

  • রেজিস্টার্ড পশু চিকিৎসকের (ভেটেরিনারিয়ান) পরামর্শ নিয়ে বিড়ালের ওজন অনুযায়ী সঠিক মাত্রার কৃমির ওষুধ খাওয়াতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে কোনো ভাবেই যেন বিড়ালের ওজনের সঙ্গে ওষুধের ওভারডোজ না হয়। অন্যথায় বিড়াল মৃত্যুও হতে পারে।
  • ডিওয়ার্মিং করানোর অন্তত ৭ থেকে ১০ দিন পর বিড়াল প্রাণবন্ত ও সুস্থ থাকলে তার ভ্যাকসিনেশন সম্পন্ন করুন। ।
  • বিড়াল অসুস্থ থাকলে, ঘন ঘন বমি বা ডায়রিয়া হলে অথবা ঝিমালে সেই মুহূর্তে ডিওয়ার্মিং বা ভ্যাকসিন কোনোটিই দেয়া যাবে না।

বিশেষ সতর্কতা

বিড়াল যদি অসুস্থ থাকে বা ঝিমায়, তবে সেই মুহূর্তে ডিওয়ার্মিং বা ভ্যাকসিন কোনোটিই দেওয়া উচিত নয়। আগে চিকিৎসকের পরামর্শে কোনো রোগ থাকলে সে অনুযায়ী তার চিকিৎসা করানো প্রয়োজন।

সঠিক সময়ে সঠিক নিয়মে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে ডিওয়ার্মিং ও ভ্যাকসিন নিশ্চিত করলে পোষা বিড়ালটি থাকবে দীর্ঘমেয়াদে সংক্রমণমুক্ত ও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল।

আরও