যুক্তরাষ্ট্র কেন আকাশ থেকে লাখ লাখ মাছি ফেলছে

এই ভয়ঙ্কর মাছির স্ত্রী সদস্যরা অন্য প্রাণীর শরীরে সামান্য ক্ষতের ওপর ২০০ থেকে ৩০০টি ডিম পাড়ে। মাত্র ১২ থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সেই ডিম ফুটে জন্ম নেয় ছোট ছোট লার্ভা বা কীট, যারা কিছুক্ষণের মধ্যেই খেতে শুরু করে প্রাণীর জীবন্ত মাংস।

গরু, ঘোড়া, হরিণসহ বিভিন্ন গৃহপালিত ও বন্যপ্রাণীর দেহে ডিম পেড়ে, জীবন্ত অবস্থায় মাংস খাওয়া এক মারাত্মক মাছি ছড়িয়ে পড়ছে মধ্য আমেরিকা হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তে। এই ভয়াবহ সংক্রমণ ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র আকাশপথে কোটি কোটি জীবাণুমুক্ত মাছি ছেড়ে প্রাণঘাতী সংক্রমণ ঠেকাতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে।

এই ভয়ঙ্কর মাছির স্ত্রী সদস্যরা অন্য প্রাণীর শরীরে সামান্য ক্ষতের ওপর ২০০ থেকে ৩০০টি ডিম পাড়ে। মাত্র ১২ থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সেই ডিম ফুটে জন্ম নেয় ছোট ছোট লার্ভা বা কীট, যারা কিছুক্ষণের মধ্যেই খেতে শুরু করে প্রাণীর জীবন্ত মাংস। একেকটি কীট কয়েকদিন শরীরের ভেতরে থেকে গিলতে থাকে পেশি ও কোষ। এরপর তারা শরীর থেকে মাটিতে পড়ে পূর্ণবয়স্ক মাছিতে পরিণত হয়।

চিকিৎসা না হলে আক্রান্ত প্রাণী মাত্র এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যেই মারা যায়। গরু, ছাগল, হরিণ থেকে শুরু করে পোষা কুকুর, বিড়ালও এই রোগে আক্রান্ত হতে পারে।

নিউ ওয়ার্ল্ড স্ক্রুওয়ার্মের মাংসখেকো লার্ভা। ছবি: সিএনএন 

২০২৩ সাল থেকে মধ্য আমেরিকার সাতটি দেশে এই মাছির সংক্রমণ দেখা গেছে। সর্বশেষ মেক্সিকোর দক্ষিণাঞ্চলেও এর প্রমাণ মিলেছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে গবাদিপশু বাণিজ্য সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়।

মেক্সিকোর আঞ্চলিক পশুসম্পদ ইউনিয়নে একটি গরুর ক্ষতস্থানে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। ছবি: সিএনএন

এই মাছি ঠেকাতে কোনো প্রতিষেধক বা ভ্যাকসিন নেই। ফলে ১৯৫০ এর দশকে আবিষ্কৃত এক কৌশল আবারো কাজে লাগাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মরুভূমির আকাশে জীবাণুমুক্ত পুরুষ মাছি ছাড়ার মাধ্যমে স্ত্রী মাছিদের প্রজনন ব্যাহত করা। এই পুরুষ মাছিরা প্রজননের ক্ষমতা হারিয়ে ফেলায় তাদের মাধ্যমে স্ত্রী মাছি থেকে নতুন ডিম আর ফুটতে পারে না।

পানামায় স্থাপিত একটি কেন্দ্রে প্রতি সপ্তাহে তৈরি করা হচ্ছে ১০ কোটি জীবাণুমুক্ত পুরুষ মাছি। সেগুলো উড়োজাহাজে করে ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে আক্রান্ত অঞ্চলের আকাশে। তবে চাহিদা অনুযায়ী মাছির সরবরাহ সম্ভব না হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র নতুন উদ্যোগ নিয়েছে।

পানামার পাকোরায় একটি জীবাণুমুক্ত মাছি প্রজনন কেন্দ্রে এক কর্মী ট্রেতে নিউ ওয়ার্ল্ড স্ক্রুওয়ার্ম মাছির লার্ভা ফেলছেন। ছবি: সিএনএন

টেক্সাস-মেক্সিকো সীমান্তের কাছাকাছি একটি শহরে নির্মাণ হচ্ছে নতুন মাছি উৎপাদন কেন্দ্র। প্রাথমিক ব্যয়ে ৩০ কোটি মার্কিন ডলার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি মেক্সিকোর পুরনো একটি কেন্দ্রও সংস্কারের জন্য আরো ২১ মিলিয়ন ডলার দেয়া হচ্ছে।

মাছির এপাশ-ওপাশ যুদ্ধ শেষ হলেই সীমান্ত অঞ্চলের গবাদিপশু বাণিজ্য আবারো সচল হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি দপ্তর। এরই মধ্যে কয়েকটি সীমান্ত বন্দর আংশিকভাবে খুলে দেয়াও হয়েছে।

—সিএনএন

আরও