কোথায় ঘুরতে যাবেন ২০২৬ সালে?

কিছু মৌসুমে এখানে আপনি দেখতে পাবেন জলকচ্ছপের মিছিল। তখন তারা বালিতে ডিম পাড়ে। এটি একেবারেই বিরল অভিজ্ঞতা হতে পারে আপনার জন্য। এখানে ভ্রমণের সেরা সময় ফেব্রুয়ারি থেকে আগস্ট ।

মানুষ কেন ঘুরতে যায়? শুধুই শখে? বিজ্ঞান তা বলে না। প্রতিদিনের জীবনের একঘেয়েমি আমাদের কর্মস্পৃহাকে কমিয়ে দেয়। একটু হাওয়া বদল সেখান থেকে বের করে আনতে পারে নিমিষেই। তাই ট্রাভেলিং শুধুই শখ না, নিজেকে সৃজনশীল করে তোলার একটি যাত্রা। চলুন জেনে নেয়া যাক এই বছর ঘুরতে যাওয়ার জন্য সবচেয়ে সেরা জায়গা কোনটা হতে পারে যা এখনও অনেকেই জানে না।

১. কাও বাং, ভিয়েতনাম

উত্তর ভিয়েতনামের সীমান্তবর্তী এক প্রান্তে অবস্থিত কাও বাং- এক অদ্ভুত পাহাড়, বন, নদী এবং ঝর্ণার দেশ। এখানকার বান জিয়ক ঝর্ণা, প্রকৃতির এক বিস্ময়কর ছন্দ। ভোরবেলায় বাঁশের ভেলায় করে নদীর ওপর দিয়ে ভ্রমণ মুহুর্তেই মুছে দিতে পারে আপনার সকল ক্লান্তি। কাও বাং এর আরেকটু ভেতরে গেলে মেলে নগোঙ নাাও গুহা। যেখানে প্রবেশ করলেই আদিম যুগের গন্ধ পাওয়া যায়। এখানকার গ্রামগুলোতে হিল‑ট্রাইব সম্প্রদায়ের জীবনধারা, আচার‑অনুষ্ঠান, খাবারের স্বাদ, সবকিছুই আপনাকে এক ভিন্ন অনূভূতি দেবে। এখানে ঘুরতে যাওয়ার সেরা সময় সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর। এই সময়টা সেখানে থাকে পরিষ্কার আকাশ আর স্বস্তিদায়ক আবহাওয়া।

২. সি ফান দন, লাওস

দক্ষিণ লাওসের বিস্তৃত মেকং নদী ধীরে ধীরে প্রসারিত হয়ে একটি অলস দ্বীপপুঞ্জে রূপ নিয়েছে যা সি ফান দন নামে পরিচিত ।এর অর্থ “চার হাজার দ্বীপ।” বিস্তীর্ণ জলের মধ্য দিয়ে ঝলমল করে চোখে পড়ে একের পর এক দ্বীপ।

সবচেয়ে বড় দ্বীপ ডন খং’এ মাটির পথ ধরে সাইকেল চালালে চোখে পড়বে মহিষের পাল। নদীর ধারে ছোট ক্যাফেগুলোতে ‘লাও কফি’ র এক চুমুকেই মুছে যাবে ক্লান্তি। এছাড়াও রয়েছে জন্য ডন ডেট এবং ডন খোন, যেখানে এক ফরাসি ঔপনিবেশিক ব্রিজের ওপর হাঁততে হাঁটতে অনুভব করতে পারবেন হাজার বছরের ইতিহাস। আর নদীর প্রবাহে ডলফিনদের নাচের ছন্দ কাছ থেকে উপভোগ করা যায়।ভোরের সাইকেল যাত্রা, স্থানীয়দের সঙ্গে ক্যাফেতে গল্পগল্প সবই দেবে নির্মল আনন্দ। এখানে যাওয়ার সবচেয়ে উপযোগী সময় নভেম্বর থেকে এপ্রিল। শুষ্ক ঋতু, কম পানি স্রোত, আবহাওয়া মানানসই।

৩. ম্রাউক উ, মিয়ানমার

পশ্চিম মিয়ানমারের এই অল্প পরিচিত পুরাতাত্ত্বিক অঞ্চলটি যেন শিল্পীর আঁইকা কোন ছবি। পুরোনো আর্কিটেক্টের র মন্দিরগুলো ধানের ক্ষেত ও তালবাগানের মধ্যে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে।ভোরবেলা ধূলিমাখা পথ দিয়ে এখানে গেলে দেখা যায় কিভাবে সকালের আলো প্রতিটি মন্দিরকে স্পর্শ করছে। মনে হয় মন্দিরের প্রতিটি কাঠামোই ভোরের এই আলোর সাথে সাথে ইতিহাসের গল্প বলছে। এখানে নীরবতা হলো সবচেয়ে ভালো সঙ্গী।

এ অঞ্চলের সবচেয়ে সুন্দর অভিজ্ঞতার একটি হলো লেই মায়ো নদীতে ধীর নৌকা ভ্রমণ। অফুরন্ত নীলে চোখ জুড়িয়ে যাবে সেখানে। এখানে নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত শীতল ও শুষ্ক মাসগুলো হাঁটা বা সাইকেল চালানোর জন্য সেরা সময়, তাপমাত্রা সহনীয় থাকে এবং আকাশও পরিষ্কার থাকে।

৪. উত্তর সিয়াগাও, ফিলিপাইন্স

সিয়াগাও নামে একটি ছোট দ্বীপ যখন সারা বিশ্বে ‘ক্লাউড ৯’ সার্ফ স্পট হিসেবে পরিচিত, তখন তার উত্তর দিকে ছায়া রয়েছে একটি ভিন্ন, অব্যক্ত সৌন্দর্যের উত্তরাধিকার। এখানে আপনি যদি কেবল সমুদ্রের তীরে পা রাখেন, তা হলে প্রথমেই মিলবে সাদা বালির বিস্তীর্ণতা। এমন এক সৈকত যা দেখে আপনি মুগ্ধ হতে বাধ্য।

এখানে ম্যানগ্রোভ ইকো‑ট্যুর উপায়ে আপনি নৌকায় করে প্রবেশ করলে দেখতে পাবেন, জলের ভেতর লুকিয়ে থাকা প্রাণী, ঝোপের নিচে ঘুমিয়ে থাকা অচেনা পাখি, আরও নাম না জানা প্রাণীদের। মার্চ থেকে অক্টোবর, এ কয়মাস এখানে ভ্রমণ করা সেরা সময়।

৫. কন ডাও দ্বীপপুঞ্জ, ভিয়েতনাম

বিশ্বের সবচেয়ে পরিচিত সমুদ্র সৈকতের ঠিক পাশেই লুকিয়ে আছে কন ডাও । একটি এমন দ্বীপপুঞ্জ যা সত্যিই প্রশান্তি খুঁজে পেতে চায় এমন ভ্রমণকারীদের জন্য সেরা ডেস্টিনেশন। । প্রবালপ্রাচীরগুলো এত পরিষ্কার এবং জীবন্ত যে, পানির নিচে ডুব দিলেই মনে হয়, সমুদ্র নিজেই আপনাকে স্বাগত জানাচ্ছে।

কিছু মৌসুমে এখানে আপনি দেখতে পাবেন জলকচ্ছপের মিছিল। তখন তারা বালিতে ডিম পাড়ে। এটি একেবারেই বিরল অভিজ্ঞতা হতে পারে আপনার জন্য। এখানে ভ্রমণের সেরা সময় ফেব্রুয়ারি থেকে আগস্ট । পরিষ্কার জল, দারুণ ডাইভিং এবং শীতল বাতাস।

৬. কিসো উপত্যকা, জাপান

জাপানের অত্যাধুনিক জীবনের একেবারে বিপরীত কিসো উপত্যকা। এখানে নাকাসেন্দো নামে এক পথ আছে, যা একসময় ছিল কিয়োটো থেকে এডো (বর্তমান টোকিও) পর্যন্ত পায়ে হেঁটে যাওয়ার ঐতিহাসিক রাস্তা। আজও সেই সরু, পাথরের টানা পথ ধরে হাঁটলে মনে হবে আপনি ইতিহাসের ভেতর দিয়ে হাঁটছেন।

এ পথের দুই পাশে আছে বিশাল সেদার বন, সাজানো গোছানো গড়াম আর কয়েকশ বছর পুরোনো চায়ের দোকান। যেখানে বসে আপনি চায়ে চুমুক দেয়ার সাথে সাথে অন্য এক ভালোলাগার অনুভূতি পাবেন।

শরতের দিকে যদি যান, তখন এই উপত্যকা ভিন্ন সৌন্দর্য দেখতে পাবেন। পাতা বদলে যাওয়া গাছে লাল‑সর্ষে রঙের মিশেলে সেখানে শরতের রঙ হয় একেবারেই নজরকাড়া।

আরও