বিজ্ঞানীদের পরামর্শ

ভেনিসে ডলফিন নয়, মানুষের আচরণ নিয়ন্ত্রণ জরুরি

মিমো নামে পরিচিত একটি দলছুট ডলফিন গত বছর জুনে ভেনিসের লেগুন বা উপসাগরীয় হ্রদে প্রথমবার নজরে আসে। জলপথে স্তন্যপায়ী প্রাণিটির অবাধ সাঁতার পর্যটক ও স্থানীয়দের মুগ্ধ করেছে। তবে নৌকার প্রপেলারে আহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়ায় প্রাণি ও পরিবেশ সচেতনতা কর্মীরা শুরু করেছেন ‘সেভ মিমো’ প্রচারণা

ভেনিসের জলাভূমিতে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় একাধিক বটলনোজ ডলফিন হয়ে উঠেছে পর্যটন আকর্ষণ। যা কি-না মানুষের সঙ্গে প্রাণিটির সহাবস্থানের সম্ভাবনা ও ঝুঁকির বিষয়কে নতুনভাবে সামনে এনেছে। এ বিষয়ে ইতালির বিজ্ঞানীরা বলছেন, অঞ্চলটিতে বন্যপ্রাণিকে নিয়ন্ত্রণের চেয়ে মানুষের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। খবর দ্য গার্ডিয়ান।

মিমো নামে পরিচিত একটি দলছুট ডলফিন গত বছর জুনে ভেনিসের লেগুন বা উপসাগরীয় হ্রদে প্রথমবার নজরে আসে। জলপথে স্তন্যপায়ী প্রাণিটির অবাধ সাঁতার পর্যটক ও স্থানীয়দের মুগ্ধ করেছে। তবে নৌকার প্রপেলারে আহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়ায় প্রাণি ও পরিবেশ সচেতনতা কর্মীরা শুরু করেছেন ‘সেভ মিমো’ প্রচারণা।

ইউনিভার্সিটি অব পাডোভার কম্পারেটিভ বায়োমেডিসিন অ্যান্ড ফুড সায়েন্স বিভাগের কনজারভেশন ভেটেরিনারি প্যাথলজিস্ট গুইডো পিয়েট্রোলুওঙ্গো বলেন, ‘মিমো অসাধারণ একটি উদাহরণ হিসেবে আমাদের দেখাচ্ছে, শহুরে পরিবেশে ডলফিন কতটা অভিযোজনক্ষম। তবে মানুষের দায়িত্বহীন আচরণ থেকে আসে প্রকৃত ঝুঁকি।’

বটলনোজ ডলফিন সাধারণত দলে ঘুরে বেড়ায়। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোয় আড্রিয়াটিক সমুদ্রে নিসঙ্গ ডলফিনের উপস্থিতি বেড়েছে, যারা শহুরে বা উপকূলীয় এলাকায় চলে আসছে। মিমোকে নিয়মিত মাছ খেতে দেখা যাচ্ছে এবং সম্পূর্ণভাবে সুস্থ বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, জলাভূমির ব্যস্ত নৌপথে ডলফিনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নৌকার গতি নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার ব্যবস্থা অপরিহার্য।

চার দশক ধরে আড্রিয়াটিক ডলফিন নিয়ে গবেষণা করছেন জিওভানি বেয়ারজি। তিনি বলেন, ‘বন্যপ্রাণীর সঙ্গে সহাবস্থানের সুযোগকে স্বাগত জানানো উচিত আমাদের। মিমোর মতো উদাহরণ দেখাচ্ছে যে, সমস্যা ডলফিন নয়, মানুষ। আমরা প্রাচীনকাল থেকে সমুদ্র ও ডলফিনের সঙ্গে একত্রে বাঁচি, কিন্তু এখনো সম্মানজনকভাবে সহাবস্থানে ব্যর্থ হচ্ছি।’

বিশ্বজুড়ে শহুরে জলপথ ও উপকূলীয় এলাকায় ডলফিনের উপস্থিতি ক্রমবর্ধমান হারে বাড়ছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে বিজ্ঞানীরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, বন্যপ্রাণীর সঙ্গে সমন্বিতভাবে সহাবস্থান করার মূল চাবিকাঠি হলো মানুষের সচেতন ও দায়িত্বশীল আচরণ।

আরও