নাশতায় ফল নেই? আছে স্থুলতার ভয়!

দীর্ঘদিন ঘর থেকেই অফিস ও ক্লাস করায় আমাদের রোজকার রুটিনে নানা পরিবর্তন এসেছে, বিশেষ করে দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসে। অনেকের মাঝেই ব্যস্ততার অজুহাতে সকালের নাশতাটা বাদ দেয়ার প্রবণতা দেখা যায়, যা একেবারেই উচিত নয়। এতে পরবর্তী সময়ে বেশি ক্ষুধা লাগা বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই ব্যস্ততা থাকলেও হালকা কিছু খেয়ে নেয়া ভালো। স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে একজন ব্যক্তির প্রতিদিন ২০০০ থেকে ২৫০০ ক্যালোরি খাবার খাওয়া প্রয়োজন। সেই সঙ্গে সঠিক সময় মেনে খাওয়াটাও জরুরি।

দীর্ঘদিন ঘর থেকেই অফিস ও ক্লাস করায় আমাদের রোজকার রুটিনে নানা পরিবর্তন এসেছে, বিশেষ করে দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসে। অনেকের মাঝেই ব্যস্ততার অজুহাতে সকালের নাশতাটা বাদ দেয়ার প্রবণতা দেখা যায়, যা একেবারেই উচিত নয়। এতে পরবর্তী সময়ে বেশি ক্ষুধা লাগা বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই ব্যস্ততা থাকলেও হালকা কিছু খেয়ে নেয়া ভালো। স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে একজন ব্যক্তির প্রতিদিন ২০০০ থেকে ২৫০০ ক্যালোরি খাবার খাওয়া প্রয়োজন। সেই সঙ্গে সঠিক সময় মেনে খাওয়াটাও জরুরি।

আটার রুটি, ব্রাউন ব্রেড, ব্রেকফাস্ট সিরিয়াল ইত্যাদি শক্তির একটি ভালো উৎস হতে পারে। আমাদের দেশে সাধারণত নাশতায় ডাল ও সবজির সঙ্গে রুটি খাওয়া হয়। অনেকেই সকালের নাশতার সঙ্গে পছন্দের একটি ফল খেতে পছন্দ করেন। সাধারণ খাবারের পাশাপাশি নাশতায় হালকা ফল খাওয়া বেশ উপকারি। কিন্তু কখনো কখনো সময়স্বল্পতার কারণে ফল খাওয়া হয়ে ওঠে না। সেক্ষেত্রে এক-দেড় গ্লাস জুস হতে পারে সারা দিনের প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও পুষ্টির রসদ। ফলের জুসে থাকা ভিটামিন অনেকটা সময় আপনাকে রিফ্রেশড রেখে কাজ করার এনার্জি দেবে। সকালের নাশতার পর থেকে লাঞ্চ পর্যন্ত লম্বা সময় না খেয়ে থাকলে ব্লাড-সুগার লেভেল কমে শরীরে ক্লান্তি চলে আসে। এক্ষেত্রে নিয়মিত নাশতা খাওয়া সম্ভব না হলেও ফলের রস ব্লাড-সুগার লেভেল ঠিক রাখতে সাহায্য করবে। ফলে পরবর্তী সময়ে ভাজাপোড়া, ভারী ও অস্বাস্থ্যকর খাবার বা অতিরিক্ত খেয়ে ফেলার প্রবণতাও অনেক কমে যায়।

এ বিষয়ে পুষ্টিবিদ সামিনা জামান কাজরী বলেন, শুধু সকালের নাশতায় ফল নয়, আমরা বলি সারা দিনের খাবারের পরিকল্পনায় ফল থাকতে হবে। প্রতিদিন সকাল, বিকাল ও রাতের মধ্যে কতটুকু করে খাবেন এ প্রয়োজনটা ভাগ করে নেয়া যেতে পারে। সকালের নাশতার সঙ্গে যদি এক গ্লাস ফলের জুস পান করা যায়, তাহলে ভালো হয়।

কেবল বড়দের জন্য নয়, এমনকি শিশুদের বেড়ে ওঠার জন্যও ফলের রস অনেক উপকারী। অনেক শিশুই ফল খেতে চায় না। বিশেষ করে স্কুলে যাওয়ার আগে তাড়াহুড়ার সময় তাদের জোর করে ফল খাওয়ানো যায় না। সেজন্য তাদের পুষ্টির চাহিদার কথা চিন্তা করে বিকল্প হিসেবে মায়েরা চিনি ছাড়া কোনো কৃত্রিম রং ও প্রিজারভেটিভ মুক্ত জুস খুঁজে থাকেন।

এ সমস্যার কথা জানালেন ছয় বছরের ঋদ্ধের মা শাহনাজ সুলতানা। তিনি বলেন, ছেলেকে রোজ অন্তত একটা ফল খাওয়াতে চাই। কিন্তু স্কুলে যাওয়ার আগে তাকে কিছু খাওয়ানোই কঠিন হয়ে পড়ে। আবার সে সময় ফল কেটে জুস করে দেয়ারও সময় থাকে না। বাজারে জুসে এত ভেজাল, এত কৃত্রিম রং ব্যবহারের কথা শুনি যে কেনা জুস দিতেও ভরসা পাই না। ফলে দেখা যায়, ফল থেকে যে পুষ্টিটা পাওয়ার কথা সেটা হয়তো পুরোপুরি ঋদ্ধ পাচ্ছে না।

স্থানীয় বাজার এবং ই-কমার্স সাইট ঘুরে, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের জুস দেখা যায়। তবে এর গুণ ও মান নিয়ে নানা সন্দেহ থেকেই যায়। দেশীয় আস্থাশীল ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে স্কয়ারের ‘আরাম’ স্বাদ ও মানের কারণে দ্রুত ভোক্তাপ্রিয় হচ্ছে। আম, আপেল ও কমলার স্বাদে এক লিটারের প্যাকে জুসটি পাবেন আপনার নিকটই সুপারশপগুলোতে। চিনিমুক্ত, আর্টিফিশিয়াল রং ও কোনো প্রিজারভেটিভ ব্যবহার হয় না বলে, পরিবারের সুস্বাস্থ্যে অনেকেই বেছে নিচ্ছেন এ জুস।

পুষ্টিবিদরা বলছেন, প্রতিদিনের সুস্থতায়, সুষম খাবারের তালিকায় একটি ফল রাখা উচিত। তবে ফল না হলেও প্রয়োজনীয় পুষ্টিগুণ সম্পন্ন ফলের রস হতে পারে এর একটি আদর্শ পরিপূরক।ফল বা ফলের রস যেহেতু দীর্ঘসময় শক্তি দেয়, তাই ভাজাপোড়া বা অতিরিক্ত খাবার খেয়ে মুটিয়ে যাওয়ার ভয় থাকে না।

-বিজ্ঞপ্তি

আরও