দাবানল

ধনী দেশে ক্ষয়ক্ষতি বাড়লেও কমেছে পুড়ে যাওয়া জমি

গবেষণা অনুযায়ী, গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া, কানাডা, ইউরোপ ও দক্ষিণ কোরিয়ায় দাবানলে অনেক মানুষের প্রাণহানি ঘটে, ধ্বংস হয় হাজার হাজার বাড়ি এবং অসংখ্য মানুষ জীবিকা হারায়। তবে বিশ্বব্যাপী সম্মিলিতভাবে আগুনে পোড়া জমির পরিমাণ ছিল ৩৩ কোটি ৫০ লাখ হেক্টর জমি, যা ২০০২ সালের পর দ্বিতীয় সর্বনিম্ন

বিশ্বের তুলনামূলকভাবে ধনী অঞ্চলে গত বছর ‘বিধ্বংসী’ দাবানল ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ডেকে আনে। তবে একই সময়ে সামগ্রিক হিসাবে বৈশ্বিকভাবে আগুনে পুড়ে যাওয়া জমির পরিমাণ কমেছে। এমন তথ্য উঠে এসেছে এক নতুন গবেষণায়। খবর দ্য গার্ডিয়ান।

গবেষণা অনুযায়ী, গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া, কানাডা, ইউরোপ ও দক্ষিণ কোরিয়ায় দাবানলে অনেক মানুষের প্রাণহানি ঘটে, ধ্বংস হয় হাজার হাজার বাড়ি এবং অসংখ্য মানুষ জীবিকা হারায়। তবে বিশ্বব্যাপী সম্মিলিতভাবে আগুনে পোড়া জমির পরিমাণ ছিল ৩৩ কোটি ৫০ লাখ হেক্টর জমি, যা ২০০২ সালের পর দ্বিতীয় সর্বনিম্ন।

জমি পুড়ে যাওয়া কমার একাধিক কারণ উল্লেখ করেছেন গবেষকরা। তাদের মতে, আফ্রিকায় কৃষিজমি বৃদ্ধির কারণে বড় প্রাকৃতিক ঘাসভূমি ও বনাঞ্চল ছোট ছোট অংশে ভাগ হয়ে গেছে। এটি বড় আকারের সাভানা অঞ্চলে আগুন ছড়িয়ে পড়া বাধাগ্রস্ত করেছে।

২০২৫ সালের উল্লেখযোগ্য দাবানলের মধ্যে ছিল স্কটল্যান্ডের একটি ‘মেগাফায়ার’। ওই অগ্নিকাণ্ড ১ লাখ হেক্টরেরও বেশি এলাকা পুড়িয়ে দেয়। আবার লস অ্যাঞ্জেলেসের প্যালিসেডস ও ইটন দাবানল যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের অন্যতম ধ্বংসাত্মক অগ্নিকাণ্ড হিসেবে চিহ্নিত হয়।

এছাড়া স্পেন ও পর্তুগালে রেকর্ড পরিমাণ দাবানলে ৫ লাখ হেক্টরের বেশি এলাকা পুড়ে যায়। দক্ষিণ কোরিয়াও দেশটির ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এবং প্রাণঘাতী দাবানল মৌসুমের মুখোমুখি হয়।

গবেষণায় আরো দেখা গেছে, ২০২৫ সালে আবহাওয়াজনিত দুর্যোগে বীমাকৃত মোট ক্ষতির ৩৮ শতাংশের বেশি দাবানলের কারণে হয়েছে।

ক্যালিফোর্নিয়ার বিধ্বংসী দাবানল। ছবি: এপি

গবেষণার প্রধান লেখক ও ইউনিভার্সিটি অব ইস্ট অ্যাংলিয়ার জলবায়ু বিজ্ঞানী ম্যাথিউ জোনস বলেন, ‘২০২৫ সাল দেখিয়ে দিয়েছে, বৈশ্বিকভাবে “শান্ত” একটি দাবানলের বছরও কতটা বিধ্বংসী হতে পারে।’

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমি ব্যবহারের পরিবর্তনের কারণে বর্তমানে অতীতের তুলনায় পৃথিবীর কম অংশ দাবানলে আক্রান্ত হচ্ছে। তবে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন এমন পরিবেশ তৈরি করছে, যেখানে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে।

গবেষণায় আরো দেখা গেছে, দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ায় তীব্র বাতাস এবং শুষ্ক গাছপালা আগুনকে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে দেয়। ফলে ব্যাপক প্রাণহানি, গণ-উচ্ছেদ এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর বড় ধরনের ক্ষতি হয়।

অন্যদিকে ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে খরা ও তীব্র তাপপ্রবাহ পর্তুগাল থেকে তুরস্ক পর্যন্ত দাবানলকে ভয়াবহ করে তোলে।

স্পেনের আলিকান্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিতবিদ ডেভিড গার্সিয়া বলেন, ‘আগুনের সরাসরি কারণ নয় এসব। কিন্তু আগুন লাগলে শুষ্কতার কারণে উদ্ভিদ অনেক বেশি দাহ্য হয়ে ওঠে এবং প্রবল বাতাস আগুনকে আরো উসকে দেয়। ফলে বড় দাবানলের সম্ভাবনা বেড়ে যায়।’

তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘পৃথিবীর উষ্ণতা বাড়তে থাকলে বৃহৎ আকারের দাবানলও বাড়তেই থাকবে।’

দাবানলের ধোঁয়া শুধু পৃথিবীর উষ্ণতা বাড়ায় না, বরং শ্বাস নেয়ার কারণে বিপুল সংখ্যক মানুষের মৃত্যুর কারণ হতে পারে। গত সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত এক গবেষণা অনুযায়ী, ২০২৩ সালে কানাডার দাবানলের ধোঁয়ার কারণে প্রায় ৮২ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়।

স্পেনের গ্যালিসিয়ার বায়োলজিক্যাল মিশনের ল্যান্ডস্কেপ ইকোলজিস্ট আদ্রিয়ান রেগোস বলেন, ‘মোট পুড়ে যাওয়া এলাকার পরিমাণ বছরে বছরে ওঠানামা করলেও জলবায়ু পরিবর্তন চরম উত্তপ্ত আবহাওয়ার আশঙ্কা বাড়াচ্ছে। এখন চ্যালেঞ্জ শুধু দাবানলের সংখ্যা কমানো নয়; অঞ্চলগুলোকে চরম দুর্যোগ মোকাবেলায় সহনশীল করে তোলা।’

আরও