কমেডি ইকোনমি: নাইজেরিয়ার অনলাইন ‘স্কিট’ শিল্পে মিলিয়ন ডলারের ব্যবসা

নাইজেরিয়ার ‘স্কিট ইকোনমি’ বা অনলাইন কমেডি শিল্পের আর্থিক মূল্য এখন ৩১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি।

বিনোদন খাত বর্তমানে নাইজেরিয়ার তরুণদের দ্বিতীয় বৃহত্তম কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র, কৃষির পরই এর অবস্থান। নাইজেরিয়ার মোট জনসংখ্যার প্রায় ৬৩ শতাংশের বয়স ২৫ বছরের নিচে। এ বিপুল তরুণ সমাজ ও স্মার্টফোন–নির্ভর ব্যবহারকারীরাই এ শিল্পের মূল চালিকাশক্তি।

নাইজেরিয়ার অর্থনীতির বিশাল অংশ দখল করেছে কয়েক মিনিটের ছোট ছোট কমেডি ভিডিও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এসব হাস্যরসাত্মক ভিডিও স্থানীয়ভাবে ‘স্কিট’ নামে পরিচিত। যা এখন শুধু বিনোদনের জায়গায় নেই বরং হাজারো তরুণের জীবিকার উৎস হয়ে উঠেছে।

ইউটিউব থেকে ইনস্টাগ্রাম, বিনোদনের সব মাধ্যমে নাইজেরিয়ান কমেডিয়ানদের জয়যাত্রা। এ প্রজন্মের তরুণ শিল্পীরা ইউটিউব, টিকটক ও ইনস্টাগ্রামের মতো প্ল্যাটফর্মে তাদের স্কিট প্রকাশ করেন। ভিডিওগুলো জনপ্রিয় হতে না হতেই তারা পেয়ে যান লাখো ফলোয়ার। এরপরই শুরু হয় ব্র্যান্ড প্রমোশন, বিজ্ঞাপন, ইনফ্লুয়েন্সার মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে আয়। এভাবে গড়ে উঠেছে নাইজেরিয়ার ‘স্কিট ইকোনমি’ বা অনলাইন কমেডি শিল্প। যার আর্থিক মূল্য এখন ৩১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি।

তেলনির্ভর অর্থনীতি থেকে সৃজনশীল অর্থনীতির পথে এগুচ্ছে নাইজেরিয়া। গবেষক ও লেখক বেল ইহুয়া তার গবেষণাধর্মী লেখায় দেখিয়েছেন, কীভাবে এ শিল্প নাইজেরিয়ার অর্থনীতিকে বৈচিত্র্যময় করছে।

তার গবেষণা অনুযায়ী, বিনোদন খাত বর্তমানে নাইজেরিয়ার তরুণদের দ্বিতীয় বৃহত্তম কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র, কৃষির পরই এর অবস্থান। নাইজেরিয়ার মোট জনসংখ্যার প্রায় ৬৩ শতাংশের বয়স ২৫ বছরের নিচে। এ বিপুল তরুণ সমাজ ও স্মার্টফোন–নির্ভর ব্যবহারকারীরাই এ শিল্পের মূল চালিকাশক্তি।

ইহুয়ার বিশ্লেষণ বলছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কেবল স্কিটের পরিসর বাড়ায়নি, এটি সংস্কৃতি, ভাষা ও স্থানীয় গল্প বিশ্ব দরবারে তুলে ধরছে।

অনলাইন কমেডিয়ানরা একদিকে যেমন মানুষকে হাসাচ্ছেন, অন্যদিকে তেমনি আফ্রিকার সাংস্কৃতিক পরিচয় বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরছেন। এটিকে ‘কালচারাল ডিপ্লোমেসি’ বলেই মনে করেন গবেষকরা।

২০২০ সালে কভিড-১৯ মহামারির লকডাউনের সময় স্কিট কমেডির যাত্রা শুরু হয়। ঘরে বসে ঘরে থাকা মানুষদের বিনোদন দিতে শুরু হয় স্কিট। সে সময় এ ভিডিওগুলো ছিল মানুষের হাসির খোরাক ও মানসিক স্বস্তির উৎস। সময়ের সঙ্গে বেড়েছে এর জনপ্রিয়তা। বর্তমানে দুই-তৃতীয়াংশ নাইজেরিয়ান নিয়মিত স্কিট দেখে। অনেকের কাছে এগুলো শুধু মজার ভিডিও নয়, বরং সমাজের দর্পণ।

স্কিট শিল্প শুধু কমেডিয়ানদের নয়; ভিডিও এডিটর, সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজার, ব্র্যান্ড পরামর্শকসহ আরো অনেকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। ইউটিউবের বিজ্ঞাপন রাজস্ব, ব্র্যান্ডের সঙ্গে চুক্তি, পার্টনারশিপ ও প্রচারণা ক্যাম্পেইন এ আয়ের উৎস।

দ্য কনভারসেশন অবলম্বনে

আরও