সিয়েরা নেভাদার নিচে পৃথিবীর ভূত্বক ধসে পড়ছে

নতুন এ আবিষ্কার পৃথিবীর গঠন ও ভূমিকম্পের কারণ বুঝতে নতুন পথ দেখাচ্ছে। যেমনটা জানিয়েছেন একজন গবেষক। তিনি বলেন, এই ভূতাত্ত্বিক নাটক পৃথিবীতে মহাদেশের জন্ম ও বিবর্তনের গল্প বলে।

মাটির গভীরে ঘটছে এক আশ্চর্য প্রক্রিয়া। ক্যালিফোর্নিয়ার সিয়েরা নেভাদা পর্বতমালার নিচে ধীরে ধীরে ধসে পড়ছে পৃথিবীর ভূত্বক। এই বিরল ঘটনাকে বিজ্ঞানীরা বলছেন—‘লিথোসফেরিক ফাউন্ডারিং’।

চার দশকের ভূমিকম্পের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সিয়েরা নেভাদার মাঝামাঝি এলাকায় ২০ থেকে ৪০ কিলোমিটার গভীরে ভূমিকম্পের অস্বাভাবিক গতিপথের পরিবর্তন। কিন্তু সম্পূর্ণ ব্যাপারটিকে অস্বাভাবিক বা রহস্যময় বলার কারণ হলো ভূত্বক এত উষ্ণ আর চাপে থাকার কথা যে সেখানে কম্পন হওয়ারই কথা নয়!

এ জায়গার ভূগর্ভের ছবি নেয়ার পর দেখা যায়, ওই অঞ্চলের ঘন ও ভারী ভূত্বক নিচের দিকে নেমে যাচ্ছে। আর তার জায়গা নিচ্ছে হালকা অংশ।

এই ধসের কারণে ভূত্বক ঠাণ্ডা ও ঘন হয়ে গভীরে চলে যাচ্ছে, যা ভূমিকম্প ডেকে আনছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, দক্ষিণ অংশে প্রক্রিয়াটি এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। আর মাঝের অংশে ভূমিকম্পটি এখনো চলমান রয়েছে। আর উত্তরে এখনো প্রক্রিয়াটি শুরু হয়নি।

নতুন এ আবিষ্কার পৃথিবীর গঠন ও ভূমিকম্পের কারণ বুঝতে নতুন পথ দেখাচ্ছে। যেমনটা জানিয়েছেন একজন গবেষক। তিনি বলেন, এই ভূতাত্ত্বিক নাটক পৃথিবীতে মহাদেশের জন্ম ও বিবর্তনের গল্প বলে।

ভাবুন তো, পায়ের তলার মাটি কেমন যেন একটু একটু করে সরে যাচ্ছে! তবে ভয় নেই, এ প্রক্রিয়া খুবই ধীরগতির। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, লাখ লাখ বছর ধরেই এমনটা ঘটছে। এ ধসের ফলে ভূগর্ভের উষ্ণ ম্যান্টেল ঠাণ্ডা ও ভারী ভূত্বককে টেনে নামাচ্ছে, যা ওই গভীর ভূমিকম্পগুলোর কারণ হতে পারে।

এই আবিষ্কার শুধু সিয়েরা নেভাদার রহস্যই উন্মোচন করছে না, বরং মহাদেশগুলো কীভাবে তৈরি হয়েছে— সে পুরনো প্রশ্নেরও নতুন উত্তর দিতে পারে। হয়তো এভাবেই কোনো একদিন আমাদের এ বাসযোগ্য পৃথিবীটাও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছিল উত্তাল সমুদ্রের বুকে। প্রকৃতির এই নীরব অথচ শক্তিশালী খেলা হয়তো আমাদের গ্রহের জন্ম আর বিবর্তনের অনেক অজানা কথাই বলতে পারবে।

—সিএনএন

আরও