এ রকম একটি দৃশ্য
কল্পনা করুন, যা ঘটেছিল ১৬ কোটি ৬০ লাখ বছর আগে। বিশাল প্রাণীখেকো ডাইনোসর বিশ্রাম
নিচ্ছিল অথবা অন্য কোনো কারণে হাঁটু ভাজ করে বসেছিল। আর সেই ছাপ যুক্তরাজ্যের ডাইনোসর
কোস্টে থেকে যায় ভবিষ্যতের জন্য।
আসলে তা-ই ঘটেছে।
উত্তর ইংল্যান্ডের ইয়র্কশায়ার উপকূলে সম্প্রতি ডাইনোসরের সেই পদচিহ্ন আবিষ্কার করেছেন
একদল গবেষক। সৈকতে হাঁটতে গিয়ে হঠাৎ-ই চিহ্নটি চোখের সামনে এসে পড়ে।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে
বলা হয়, তিন আঙুল বিশিষ্ট পদচিহ্নটি প্রায় এক মিটার বা ৩ দশমিক ৩ ফুট দীর্ঘ। ছাপটি
ওই এলাকায় পাওয়া নিদর্শনের মধ্যে সবচেয়ে বড়।
ইয়র্কশায়ার উপকূল ডাইনোসর পদচিহ্ন ও জীবাশ্মের জন্য বিখ্যাত। এখানে বছরের পর বছর হাজার হাজার ডাইনোসের চিহ্ন আবিষ্কৃত হয়েছে।
ছবি: বিবিসি
২০২১ সালের এপ্রিলে
স্থানীয় প্রত্নতাত্ত্বিক মারি উডস ইয়র্কশায়ারের সমুদ্র সৈকতের পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার
সময় নতুন ছাপটি দেখতে পান।
তিনি বলছেন, আমি
যা দেখছিলাম তা বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। আমাকে এটা কয়েকবার দেখতে হয়েছিল। এর আগে
বন্ধুদের সঙ্গে ভ্রমণের সময় আমি ছোট ছোট কিছু ছাপ দেখেছি। কিন্তু এরকম কিছু আগে দেখিনি।
মারি উডস দীর্ঘদিন
প্রকৃতিতে সংরক্ষিত পদচিহ্ন নিয়ে গবেষণা করে আসছেন। ইয়র্কশায়ার ভূতাত্ত্বিক সংস্থার
পত্রিকায় এ বিষয়ে লিখিত সাম্প্রতিক এক প্রবন্ধের সহলেখক তিনি।
মারি উডসের আবিষ্কার
নিয়ে মন্তব্য করেছেন ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবাশ্মবিদ ড. ডিন লোমাক্স। তিনি
বলেন, মারি যখন সমুদ্র সৈকতে ছিলেন, তখনই আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সত্যি বলতে প্রথমে
আমি ভেবেছিলাম, এটা কোনো ধরনের কৌতুক। এটা অসম্ভব মনে হয়েছিল। তাছাড়া, মারি একজন প্রত্নতাত্ত্বিক।
তিনি জীবাশ্ম নিদর্শন আবিষ্কার করবেন এটা কে ভেবেছিল।
ইয়র্কশায়ার উপকূলে
এর আগে তিন আঙুল বিশিষ্ট পদচিহ্ন পাওয়ার রেকর্ড মাত্র ছয়টি। প্রথমটি পাওয়া যায় ১৯৩৪
সালে।
ভূতত্ত্ববিদ জন
হাডসন বলেন, গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারটি প্রমাণ করে যে প্রাণীখেকো দৈত্যরা একসময় এই অঞ্চলে
ঘোরাফেরা করত। পদচিহ্নের ধরন ও বয়সের হিসাবে একে ভয়ঙ্কর মেগালোসরাসের মতো ডাইনোসর
বলে মনে হয়েছে। যার সম্ভাব্য উচ্চতা হবে আড়াই থেকে তিনি মিটার বা ৮ দশমিক ২ থেকে ৯
দশমিক ৮ ফুট।
জীবাশ্মবিদ ডিন
লোম্যাক্স বলেন, মেগালোসরাস ছিল বিশ্বের প্রথম দিককার স্বীকৃত ডাইনোসর। যার নাম ১৮২৪
সালে ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ডশায়ার কাউন্টিতে আবিষ্কৃত হাড়ের নামে রাখা হয়েছিল। প্রাণীখেকো
ডাইনোসরটি ওই সময়ের বৃহত্তম শিকারীদের অন্যতম। এর বড় আকৃতির তীক্ষ্ণ বাহু, ফলাযুক্ত
দাঁত এবং ৮-৯ মিটার বা ২৬ দশমিক ২ থেকে ২৯ দশমিক ৫ ফুট দীর্ঘ শরীর ছিল।
সাম্প্রতিক আবিষ্কারটি
ইংল্যান্ডের জাদুঘর ও গ্যালারিতে প্রদর্শন করা হয়েছে।