ইন্দোনেশিয়ার বন্যায় বিলুপ্তির পথে টাপানুলি ওরাংওটাং

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এই দুর্যোগে ৩৩ থেকে ৫৪টি টাপানুলি ওরাংওটাং মারা গেছে। বন্যার আগে বনে এই প্রজাতির সংখ্যা ছিল ৮০০টিরও কম।

ইন্দোনেশিয়ার উত্তর সুমাত্রা প্রদেশে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে বিশ্বের সবচেয়ে দুর্লভ প্রজাতির টাপানুলি ওরাংওটাংয়ের আবাসস্থল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন, এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রজাতিটিকে বিলুপ্তির আরো কাছাকাছি নিয়ে গেছে। খবর দ্য গার্ডিয়ান।

গত নভেম্বরের শেষ দিকে টানা চার দিনে উত্তর সুমাত্রায় এক হাজার মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত হয়। এতে বাতাং তোরু বনে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধস দেখা দেয়। এই বনাঞ্চলই পৃথিবীতে একমাত্র স্থান, যেখানে টাপানুলি ওরাংওটাং (বৈজ্ঞানিক নাম পঙ্গো টাপানুলিয়েনসিস) এখনো টিকে আছে।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এই দুর্যোগে ৩৩ থেকে ৫৪টি টাপানুলি ওরাংওটাং মারা গেছে। বন্যার আগে বনে এই প্রজাতির সংখ্যা ছিল ৮০০টিরও কম। জীববিজ্ঞানীরা বলছেন, প্রতি বছর মাত্র ১ শতাংশ হারে প্রাণীটি মারা গেলেও এই প্রজাতি ধীরে ধীরে নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতে পারে। কারণ, একটি স্ত্রী ওরাংওটাং ছয় থেকে নয় বছরে মাত্র একবার সন্তান জন্ম দেয়।

প্রজাতিটির অন্যতম আবিষ্কারক জীববৈজ্ঞানিক নৃতত্ত্ববিদ এরিক মেইয়ার্ড বলেন, ‘এটি একটি সম্পূর্ণ বিপর্যয় অবস্থা। এই ধাক্কার পর টাপানুলি ওরাংওটাং টিকে থাকার পথ আরো কঠিন হয়ে গেছে।’

স্যাটেলাইটের চিত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রায় ৪ হাজার হেক্টর অক্ষত বনভূমি ভূমিধস ও বন্যায় সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে। মেঘের কারণে আরো অন্তত ২ হাজার ৫০০ হেক্টর এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাহাড়ি এলাকাজুড়ে এক কিলোমিটারের বেশি লম্বা ও প্রায় ১০০ মিটার চওড়া গভীর বিশাল ক্ষতচিহ্ন তৈরি হয়েছে। কাদা, গাছ ও পানির প্রবল স্রোতে হাতিসহ অন্যান্য বন্যপ্রাণীও ভেসে গেছে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, বন ধ্বংস হওয়ায় বেঁচে থাকা ওরাংওটাংয়ের খাবার ও আশ্রয় সংকট দেখা দেবে। এই অঞ্চলটি আগে থেকেই খনন, পাম তেল বাগান ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কারণে চাপের মুখে ছিল।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বৃষ্টিপাতের তীব্রতা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি বন উজাড় ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়িয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় ইন্দোনেশিয়ার পরিবেশ মন্ত্রণালয় বাতাং তোরু এলাকায় সব বেসরকারি কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে।

সংরক্ষণকর্মীরা অবিলম্বে সব ধরনের ক্ষতিকর উন্নয়ন কার্যক্রম বন্ধ, জরুরি জরিপ এবং সংরক্ষিত বনাঞ্চল সম্প্রসারণের দাবি জানিয়েছেন, যাতে টাপানুলি ওরাংওটাংকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করা যায়।

আরও