সুইমস্যুটে নার্গিস— বলিউডে আধুনিকতা ও পুরুষতান্ত্রিক দ্বৈততার ক্লাসিক উদাহরণ

পোশাকের দৈর্ঘ্য বা ধরন যা-ই হোক না কেন, এই একটি দৃশ্য বলিউড সিনেমায় নারীর আধুনিকতা, স্বাধীনতা এবং পোশাক কেন্দ্রিক বিতর্কের এক চিরন্তন দুয়ার খুলে দিয়েছিল। আজ চলচ্চিত্রের ইতিহাসে ওই দৃশ্যকে অনেকে দেখছেন বলিউড সিনেমায় প্রগতি ও পুরুষতন্ত্র একইসঙ্গে পথ চলার এক অনন্য নমুনা হিসেবে

১৯৫১ সাল। ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে বছরটি বিশেষ কারণে স্মরণীয় হয়ে আছে। রাজ কাপুর তার মাস্টারপিস ‘আওয়ারা’ ছবিতে তৎকালীন শীর্ষ অভিনেত্রী নার্গিসকে এক অভিনব ও সাহসী অবতারে হাজির করেছিলেন। সমুদ্রসৈকতের একটি রোমান্টিক দৃশ্যে নার্গিস পরেছিলেন কালো রঙের ওয়ান-পিস সুইমস্যুট। ১৯৫০-এর দশকের ভারতীয় সমাজের প্রেক্ষাপটে দৃশ্যটি ছিল একপ্রকারের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সুনামি।

লোকমুখে এবং কালক্রমে অনেকে ভুলবশত ওই পোশাককে ‘বিকিনি’ বলে উল্লেখ করে থাকেন। পোশাকের দৈর্ঘ্য বা ধরন যা-ই হোক না কেন, এই একটি দৃশ্য বলিউড সিনেমায় নারীর আধুনিকতা, স্বাধীনতা এবং পোশাক কেন্দ্রিক বিতর্কের এক চিরন্তন দুয়ার খুলে দিয়েছিল। আজ চলচ্চিত্রের ইতিহাসে ওই দৃশ্যকে অনেকে দেখছেন বলিউড সিনেমায় প্রগতি ও পুরুষতন্ত্র একইসঙ্গে পথ চলার এক অনন্য নমুনা হিসেবে।

আধুনিকতার প্রতীক বনাম পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি

‘আওয়ারা’ দৃশ্যটি নিয়ে চলচ্চিত্র সমালোচক এবং নারীবাদী গবেষকদের (যেমন অনুপমা চোপড়া) বিশ্লেষণ অত্যন্ত গভীর। দৃশ্যের শুরুতে নার্গিসকে একজন সুশিক্ষিত, আত্মবিশ্বাসী এবং আধুনিক আইনজীবী (রীতা) হিসেবে পশ্চিমা পোশাকে উপস্থাপন করা হয়। পোশাক দেখে দর্শকের চোখ কপালে ওঠার ঠিক পরের মুহূর্তেই আসে এক চরম মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব। নায়ক রাজু (রাজ কাপুর) তাকে বিরক্ত করলে রীতা তাকে ‘জংলি’ বলে গালি দেয় এবং এর জেরে রাজু তাকে পর পর কয়েকটি চড় মারে। জবাবে রীতা ক্ষিপ্ত না হয়ে উল্টো রাজুর বুকে জড়িয়ে ধরে আরো মারার আকুতি জানায়।

সমালোচকদের মতে, এই দৃশ্যটি মেল গেজ বা পুরুষতান্ত্রিক অবদমন ব্যবস্থার একটি ক্লাসিক উদাহরণ। এখানে একজন আধুনিক ও স্বাধীনচেতা নারীকে পুরুষের শারীরিক নির্যাতনের কাছে আত্মসমর্পণ করিয়ে সেই সহিংসতাকে রোমান্টিক রূপ দেয়া হয়েছে। ফলে পোশাকের আধুনিকতা শেষ পর্যন্ত পুরুষের আধিপত্যের কাছেই হার মেনেছে।

দৃশ্যটির পেছনের আবেগ বুঝতে হলে রাজ কাপুর ও নার্গিসের বাস্তব জীবনের সমীকরণও জানা জরুরি। নার্গিসকে চড় মারেন রাজ কাপুর এবং তিনি তা মুখ বুজে সয়ে নেন—চলচ্চিত্র ইতিহাসবিদদের মতে, এটি শুধু চিত্রনাট্যের অংশ ছিল না। এটি ছিল বাস্তবে রাজ কাপুরের প্রতি নার্গিসের এক ধরনের অন্ধ সমর্পণ বা সাবমিসিভ ভালোবাসার প্রতিফলন

আলোচিত সেই দৃশ্য। ছবি: ইউটিউব

চিত্রনাট্যকার খাজা আহমেদ আব্বাসের দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে বিরোধ

এই ছবির চিত্রনাট্যকার ছিলেন খাজা আহমেদ আব্বাস বা কে এ আব্বাস। তার সঙ্গে রাজ কাপুরের যৌথ প্রয়াসকে হিন্দি সিনেমার সোনালী যুগের অন্যতম সেরা ‘মতাদর্শগত যুগলবন্দী’ বলা হয়। আব্বাস ছিলেন কমিউনিস্ট ভাবধারার (আইপিটিএ বা প্রগ্রেসিভ রাইটার্স অ্যাসোসিয়েশনের সক্রিয় সদস্য) কড়া সমাজতান্ত্রিক লেখক, আর রাজ কাপুর ছিলেন রোমান্টিক ও বাণিজ্যিক ঘরানার চলচ্চিত্র নির্মাতা। ‘আওয়ারা’ ছবির সেই চড় মারার দৃশ্য এবং সেখানে নার্গিসের চরিত্রায়নের দ্বান্দ্বিক রূপটি বুঝতে হলে তাদের এই মতাদর্শগত ফারাকটি জানা প্রয়োজন।

খাজা আহমেদ আব্বাসের লেখা মূল গল্প ও চিত্রনাট্যে রীতা শুধু প্রেমিকা ছিল না, সে ছিল আইনজীবী এবং প্রগতির প্রতীক। তিনি দেখাতে চেয়েছিলেন, অপরাধ জগতের বাসিন্দা রাজুর (যে মূলত সমাজ ও বিচার ব্যবস্থার শিকার) অন্ধকার জীবনে রীতা একজন রক্ষাকর্তা এবং আলোর দিশারী। রীতার আধুনিক পোশাক এবং লাইফস্টাইল ছিল প্রগতিশীল ও স্বাধীনচেতা নারীর রূপক, যা সামন্ততান্ত্রিক ও রক্ষণশীল সমাজকে চ্যালেঞ্জ করে। আব্বাসের আত্মজীবনী ‘আই অ্যাম নট অ্যান আইল্যান্ড: অ্যান অটোবায়োগ্রাফি’ এবং চলচ্চিত্র ইতিহাসবিদ সুরেশ কোহলি সম্পাদিত আব্বাসের বিভিন্ন লেখায় উল্লেখ আছে, নারী চরিত্রগুলোকে তিনি সবসময় পুরুষের চেয়ে মানসিক ও বুদ্ধিগত দিক থেকে শক্তিশালী দেখাতে ভালোবাসতেন। ‘আওয়ারা’র রীতাও তার ব্যতিক্রম ছিল না।

কিন্তু আব্বাসের এই নিখাদ সমাজতান্ত্রিক ও নারীবাদী ভাবনায় রাজ কাপুর যখন দৃশ্যটি পর্দায় রূপান্তর করেন, তখন তিনি নিজের ‘লার্জার দ্যান লাইফ’ মেল-ইমেজ এবং বাণিজ্যিক রোমান্টিকতার মিশ্রণ ঘটান। চলচ্চিত্র ইতিহাসবিদদের মতে, আব্বাস প্রথমে চিত্রনাট্যে রাজুর চড় মারার বিষয়টি রাখতে চাননি। কারণ একজন স্বাধীনচেতা, সুশিক্ষিত নারী কেন একজন অপরাধী ও অসভ্য পুরুষের চড় খেয়ে উল্টো তাকে জড়িয়ে ধরবে—এটি আব্বাসের প্রগতিশীল মনস্তত্ত্বে খাপ খাচ্ছিল না।

কিন্তু রাজ কাপুর বিশ্বাস করতেন, ভারতীয় আমজনতা বা বাণিজ্যিক সিনেমার দর্শকরা তখনই একজন নায়ক-নায়িকার প্রেমকে ‘তীব্র’ বলে গ্রহণ করবে, যখন সেখানে এক ধরনের আদিম পুরুষালি আধিপত্য এবং নারীর নিঃশর্ত সমর্পণ থাকবে। রাজ কাপুর এই চড় মারার দৃশ্যটিকে ‘যৌন আবেদন ও আবেগের তীব্রতা’ প্রকাশের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেন।

মধু জেইনের ‘দ্য কাপুরস: দ্য ফার্স্ট ফ্যামিলি অব ইন্ডিয়ান সিনেমা’ বইয়ে রাজ কাপুরের চলচ্চিত্র নির্মাণের ধরন এবং আব্বাসের প্রগতিশীল চিত্রনাট্যে বাণিজ্যিক কাটছাঁটের নানা উদাহরণ দেয়া হয়েছে। সেখানে উল্লেখ আছে, রাজ কাপুর প্রায়শই আব্বাসের গম্ভীর সামাজিক বার্তাগুলোকে পর্দায় আনার সময় সেগুলোকে রোমান্টিক ও কিছুটা মেল-গেজ নির্ভর করে তুলতেন, যা নিয়ে তাদের মধ্যে তীব্র মতবিরোধ হতো।

১৯৫১ সালের ১৪ ডিসেম্বর মুক্তি পায় ‘আওয়ারা’

ফিল্ম ক্রিটিক ও সমাজবিজ্ঞানী ফিলিপ লুতগেনডর্ফ দেখিয়েছেন, রীতা চরিত্রটি একাধারে ‘আধুনিক’ (যা আব্বাসের অবদান) আবার একইসঙ্গে ‘পুরুষের অধীনস্ত ও ত্যাগী প্রেমিকা’ (যা রাজ কাপুরের বাণিজ্যিক ছোঁয়া)। এই দুইয়ের দ্বন্দ্বই দৃশ্যটিতে ফুটে উঠেছে। শেষ পর্যন্ত রাজ কাপুরের বাণিজ্যিক সিদ্ধান্তই জয়ী হয় এবং দৃশ্যটি শুট করা হয়। খাজা আহমেদ আব্বাস এই বাণিজ্যিক পরিবর্তনের সমালোচনা করলেও রাজ কাপুরের এই পুরুষ আধিপত্যের ছোঁয়াই ছবিটিকে তৎকালীন সাধারণ দর্শকের কাছে তুমুল জনপ্রিয় করে তুলেছিল।

শুধুই চিত্রনাট্য নাকি বাস্তব জীবনের প্রভাব

দৃশ্যটির পেছনের আবেগ বুঝতে হলে রাজ কাপুর ও নার্গিসের বাস্তব জীবনের সমীকরণও জানা জরুরি। নার্গিসকে চড় মারেন রাজ কাপুর এবং তিনি তা মুখ বুজে সয়ে নেন—চলচ্চিত্র ইতিহাসবিদদের মতে, এটি শুধু চিত্রনাট্যের অংশ ছিল না। এটি ছিল বাস্তবে রাজ কাপুরের প্রতি নার্গিসের এক ধরনের অন্ধ সমর্পণ বা সাবমিসিভ ভালোবাসার প্রতিফলন।

নার্গিস জানতেন রাজ কাপুর বিবাহিত, তাও তিনি নিজের সবকিছু বাজি রেখেছিলেন। সমালোচকরা তাই এই দৃশ্যটিকে তাদের বাস্তব জীবনের টক্সিক বা জটিল সম্পর্কের একটি রূপক হিসেবেও ব্যাখ্যা করেন।

ছবির বিখ্যাত গান ‘ঘর আয়া মেরা পরদেশী’র মনস্তত্ত্বের সঙ্গে এই দৃশ্যের একটি চমৎকার বৈপরীত্য ও সংযোগ আছে। স্বপ্নের সেই বিখ্যাত দৃশ্যে রীতাকে দেখা যায় স্বর্গের দেবীর মতো সাবেকি পোশাকে, যেখানে সে রাজুকে নরকের আগুন ও খাঁচা থেকে উদ্ধার করে স্বর্গের দিকে নিয়ে যাচ্ছে । অর্থাৎ, স্বপ্নে রীতা রাজুর রক্ষাকর্তা। আর বাস্তবে সমুদ্রের পাড়ে নার্গিসকে দেখা যায় আধুনিক ওয়ান-পিস সুইমস্যুটে—যা অত্যন্ত বাস্তব, পার্থিব ও স্পর্শযোগ্য; যেখানে সে রাজুর পুরুষালি হিংস্রতার শিকার হয়। রাজ কাপুর এই বাস্তব ও স্বপ্নের বৈপরীত্যের মাধ্যমে দেখিয়েছেন যে—স্বপ্নে যে নারী দেবী ও অধরা, বাস্তবে সে একজন রক্ত-মাংসের আধুনিক ও সমর্পিত প্রেমিকা।

রাজ কাপুরের সিনেমাটিক ভিশন: নান্দনিকতা বনাম পণ্যকরণ

রাজ কাপুর সিনেমায় নারীর রূপ ও লাবণ্যকে অত্যন্ত শৈল্পিক উপায়ে পর্দায় ফুটিয়ে তোলার জন্য বিখ্যাত ছিলেন, যদিও নারীকে পণ্যায়িত করার কলঙ্ক থেকেও তিনি পুরোপুরি মুক্ত ছিলেন না। ‘আওয়ারা’র ওই দৃশ্যে সিনেমাটোগ্রাফার রাধু কর্মকার ‘আলো-ছায়ার খেলা’ এবং সিলুয়েট টেকনিক ব্যবহার করেছিলেন, যাতে দৃশ্যটি সস্তা না দেখিয়ে নান্দনিক হয়ে ওঠে। তবে সমালোচকদের একটি বড় অংশ মনে করেন, রাজ কাপুর প্রগতির আড়ালে মূলত নারীর শরীরকে ব্যবসার হাতিয়ার বা অবজেকটিফিকেশনের দিকে ঠেলে দিয়েছিলেন।

পরবর্তীতে এই ভাবনা পাকাপোক্ত হওয়ার কারণও রয়েছে। ‘আওয়ারা’র এই ওয়ান-পিস সুইমস্যুটই পরবর্তীতে ‘ববি’ (১৯৭৩) ছবিতে ডিম্পল কাপাডিয়ার টু-পিস বিকিনি কিংবা ‘রাম তেরি গঙ্গা মাইলি’ (১৯৮৫) ছবিতে মন্দাকিনীর স্বচ্ছ সাদা শাড়ির বিতর্কিত পথ তৈরি করে দিয়েছিল। এমনকি বিখ্যাত ‘সত্যম শিবম সুন্দরম’ (১৯৭৮) ছবিতে জিনাত আমানের স্বচ্ছ ও মিনিমালিস্ট পোশাকের নান্দনিকতা বনাম প্রদর্শনবাদের বিতর্কও রাজ কাপুরের এই একই সিনেমাটিক ভিশনের অংশ।

রাজ কাপুর সিনেমায় নারীর রূপ ও লাবণ্যকে অত্যন্ত শৈল্পিক উপায়ে পর্দায় ফুটিয়ে তোলার জন্য বিখ্যাত ছিলেন, যদিও নারীকে পণ্যায়িত করার কলঙ্ক থেকেও তিনি পুরোপুরি মুক্ত ছিলেন না। ‘আওয়ারা’র ওই দৃশ্যে সিনেমাটোগ্রাফার রাধু কর্মকার ‘আলো-ছায়ার খেলা’ এবং সিলুয়েট টেকনিক ব্যবহার করেছিলেন, যাতে দৃশ্যটি সস্তা না দেখিয়ে নান্দনিক হয়ে ওঠে। তবে সমালোচকদের একটি বড় অংশ মনে করেন, রাজ কাপুর প্রগতির আড়ালে মূলত নারীর শরীরকে ব্যবসার হাতিয়ার বা অবজেকটিফিকেশনের দিকে ঠেলে দিয়েছিলেন

আন্তর্জাতিক প্রভাব

‘আওয়ারা’ ছবিটির আন্তর্জাতিক প্রভাব ছিল বিশাল। বিশেষ করে সোভিয়েত ইউনিয়নে (রাশিয়া) এ ছবি এবং নার্গিস-রাজ কাপুরকে নিয়ে মানুষের উন্মাদনা ছিল রূপকথার মতো। সেখানকার দর্শকরা নার্গিসের আধুনিক, স্বাধীন এবং একইসঙ্গে আবেগপ্রবণ রূপ দেখে মন্ত্রমুগ্ধ হয়েছিলেন।

তৎকালীন সমাজতান্ত্রিক রাশিয়ায় নার্গিসের এ সুইমস্যুট লুক বা আধুনিক অবতারকে শুধু বিনোদন হিসেবে দেখা হয়নি, বরং এটিকে ‘বুর্জোয়া সমাজের আধুনিক ভারতীয় নারীর এক অনন্য রূপ’ হিসেবে বামপন্থী বুদ্ধিজীবীরা বিশ্লেষণ করেছিলেন।

সহকর্মী ও পরবর্তী প্রজন্মের নায়িকাদের মূল্যায়ন

নার্গিসের এ সাহসী পদক্ষেপের সমকক্ষ বা উত্তরসূরি হিসেবে ভারতীয় সিনেমায় বেশ কিছু মাইলফলক দৃশ্য রয়েছে। ১৯৬৭ সালে ‘অ্যান ইভনিং ইন প্যারিস’ ছবিতে প্রথম সত্যিকারের টু-পিস বিকিনি পরে ইতিহাস গড়েন শর্মিলা ঠাকুর। চলচ্চিত্র গবেষকদের মতে, নার্গিস চার দশকে যে পথ দেখিয়েছিলেন, তা-ই পরবর্তীতে হিন্দি সিনেমার নায়িকাদের জন্য পশ্চিমা পোশাক পরা কিছুটা সহজ করে দিয়েছিল।

অন্যদিকে সমান্তরাল ধারার প্রখ্যাত অভিনেত্রী শাবানা আজমি পোশাকের স্বাধীনতার প্রশংসা করলেও, এই দৃশ্যের পেছনের ‘নারীর ওপর সহিংসতা’র সিনেমাটিক জাস্টিফিকেশনের তীব্র সমালোচনা করেছেন। রাজ কাপুরের নাতনি কারিনা কাপুর খান অবশ্য একে আর কে স্টুডিওর নারীর স্বাধীনতা ও বোল্ডনেস উদযাপনের প্রথম সাহসী পদক্ষেপ হিসেবেই দেখেন।

পারিবারিক মর্যাদা ও দৃষ্টিভঙ্গি

পর্দায় নার্গিসের ভিন্ন ভিন্ন সাহসী রূপ রয়েছে। ‘মাদার ইন্ডিয়া’য় তিনি ডি-গ্ল্যামারাইজড চরিত্রে অভিনয় করে প্রথাগত নায়িকার অবতারকে চ্যালেঞ্জ করেন। আবার ‘আওয়ারা’র সুইমস্যুট লুকে ভারতীয় সিনেমার প্রথাগত ফ্যাশনের দেয়াল ভেঙে চুরমার করেছিলেন।

ব্যক্তিগত জীবনে দৃশ্যটি নিয়ে নার্গিসের পরিবার অর্থাৎ স্বামী সুনীল দত্ত এবং পুত্র সঞ্জয় দত্ত সবসময়ই অত্যন্ত ইতিবাচক ও মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান দেখিয়েছেন। সুনীল দত্ত নার্গিসের অতীত ও রাজ কাপুরের সঙ্গে তার কাজকে নিখাদ পেশাদারত্ব ও শিল্প হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। সঞ্জয় দত্তও মায়ের এই পুরনো ছবিগুলোর গ্ল্যামার ও আধুনিকতা দেখে গর্ব প্রকাশ করেছেন। পারিবারিক স্তরে এটি কোনো সামাজিক ট্যাবু নয়, বরং নার্গিস দত্তর চলচ্চিত্রিক সাহসিকতা ও ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে অমর লিগেসির অংশ হিসেবেই সমাদৃত।

আরও