১৯২৯ সালের ২৪ অক্টোবর। দিনটি ছিল বৃহস্পতিবার। ওয়াল স্ট্রিট থেকে মাত্র দেড় ঘণ্টায় উধাও হয়ে যায় ৯ বিলিয়ন ডলার। রাতারাতি নিঃস্ব হয়ে পড়ে বাজারের অগণিত ছোট বিনিয়োগকারী। সর্বস্বান্ত হয়ে যায় কয়েক হাজার পরিবার। ইতিহাসে দিনটি পরিচিত ‘ব্ল্যাক থার্সডে’ হিসেবে। ওই ঘটনার মধ্য দিয়ে শুরু হয় গত শতকের সবচেয়ে বড় বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বিপর্যয় ‘দ্য গ্রেট ডিপ্রেশন’ বা ‘ত্রিশের মহামন্দা’। এ মহামন্দা শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, গোটা বিশ্বের ছোট-বড় সব অর্থনীতিতেই ছাপ রেখে গেছে।
১৯২৯ সালের অক্টোবরে ধস নামার পর নিউইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জের সামনে ভিড় ছবি: বিবিসি
তবে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে এর প্রভাব ছিল সবচেয়ে মারাত্মক। রীতিমতো ফেটে চুপসে যায় মার্কিন অর্থনীতিতে আগের কয়েক দশকে সৃষ্টি হওয়া বাবল। ১৯৩৩ সালের মধ্যে ২৫ হাজার ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৯ হাজারই দেউলিয়া হয়ে পড়ে। কর্মহীনতার হার বেড়ে দাঁড়ায় ২৫ শতাংশে। চাষের জমি হারিয়ে ভূমিহীন হয়ে পড়েন এক-তৃতীয়াংশ কৃষক।
নৈরাশ্যের ওই সময়টিতে যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ জনগণের মানসিক শান্তির একমাত্র আশ্রয়স্থল হয়ে দাঁড়ায় বিনোদন শিল্প ও ক্রীড়াঙ্গণ। কিন্তু সেখানেও ক্ষতির মাত্রা ভয়াবহ। হলিউড প্রায় দেউলিয়া। বড় স্টুডিওগুলো ভেঙে পড়েছে। অর্থের অভাবে জাতীয় বেসবল লীগ থেকে সরে দাঁড়ায় ১৪টি দল। ‘চূড়ান্ত সর্বনাশের চেয়ে কাল্পনিকভাবে দেউলিয়া হওয়া ভালো’— এমন ধ্যানধারণা থেকে জনপ্রিয়তা বাড়ছিল ‘মনোপলি’ খেলার। ক্যাফেতে সুইং ড্যান্স আর রেডিওতে নাটক শোনা বেড়ে যায় মানুষের। সিনেমা হলে মিউজিক্যাল আর কমেডির জয়জয়কার। জনপ্রিয়তা পাচ্ছিল গ্যাংস্টার চরিত্রগুলোও। তাদের দেখানো হচ্ছিল অভাবী মানুষের বন্ধু হিসেবে। ঠিক যেন রবিন হুড। সময়ের ভয়, আকাঙ্ক্ষা আর আশা হয়ে উঠেছিল বিনোদন শিল্পের মূল উপজীব্য। এর প্রতিফলন দেখা যায় কমিক শিল্পেও। মানুষের মধ্যে হতাশা কাটিয়ে ওঠার পথনির্দেশক হিসেবে কমিক শিল্পে নতুন চরিত্রের আবির্ভাব ঘটাতে কাজে বসে যান ডিসি কমিকসের লেখক, চিত্রশিল্পী ও অ্যানিমেটর বব কেইন। আর তার সহযোগী হিসেবে যুক্ত হন আরেক কমিকস লেখক ও অ্যানিমেটর বিল ফিঙ্গার।
বব কেইন ও বিল ফিঙ্গার ছবি: উইকিমিডিয়া কমন্স
মার্কিন সমাজ ও অর্থনীতির ওই দুঃসময়ে তারা সামনে নিয়ে আসেন ব্রুস ওয়েনকে, যাকে গোটা পৃথিবী চিনেছে ‘ব্যাটম্যান’ হিসেবে। দ্য গ্রেট ডিপ্রেশনের দগদগে ক্ষত ভর সময়ে আবির্ভাব তার। কর্মহীনতা আর আকস্মিক দারিদ্রের কষাঘাতে বিপর্যস্ত সমাজের ভয়াচ্ছন্ন রাতের অন্ধকারে আশার প্রতিনিধি হয়ে ঘুরে বেড়ানো এক ভিজিল্যান্টি। ক্রমেই বেকারত্ব বেড়ে চলায় সমাজ হয়ে পড়ে অপরাধপ্রবণ। আর সমাজের সে অপরাধপ্রবণতাই শৈশবে তার পিতামাতার মৃত্যুর কারণ হয়ে ওঠে। ধনী পরিবারের সন্তান হয়েও তাকে বড় হতে হয় দুঃখকণ্টক পরিবেশে। দিনের বেলায় দানশীল-প্লেবয় ও ভোগীর বাতাবরণ, যা মানুষের জন্য ঈর্ষা ও আকর্ষণ— দুই-ই তৈরি করে। আর রাতের অন্ধকারে বেরিয়ে আসে প্রকৃত চেহারা। তখন সে গথামের পথে-ঘাটে ঘুরে বেড়ানো বাদুড়ের মতো তিক্ত-একাকী এক নিঃসঙ্গ মানুষ, যে কিনা বাদুড়কেই গ্রহণ করে নিজের প্রতীক হিসেবে। হাতে তুলে নেয় হত্যাসহ নানা অপরাধে ভরা আঁকাবাঁকা পথঘাটে অপরাধ দমনের ভার। কেউ জানে না তার প্রকৃত পরিচয়। কিন্তু গথামের বাসিন্দারা জানে, রাতের ভয়ানক পথের বিপদকালে তাদের রক্ষার জন্য এগিয়ে আসতে পারে বাদুড়ে মুখোশপরা কোনো এক ব্যক্তি। কেউ জানে না তার প্রকৃত পরিচয়। কিন্তু সবাই জানে সে আছে। ঠিক যেন মহামন্দার কষাঘাতে সর্বশান্ত মানুষকে নিশ্চয়তা দেয়া, ভয় নেই। কেউ না কেউ একজন তো অবশ্যই আছে।
ব্যাটম্যানের চারণভূমি কল্পিত শহর গথামের গঠনও যেন মার্কিন মুলুকে সদ্য মাথা গজিয়ে ওঠা মেগাসিটিগুলোর এক অশুভ প্রতিরূপ, যেখানে দূর-দূরান্ত পর্যন্ত শুধু কংক্রিটের জঙ্গল। টিনের ঝুপড়ির সারি দিয়ে গড়ে ওঠা সেন্ট্রাল গথামের অপরাধপ্রবণ এলাকা ‘ন্যারোস’ যেন যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা হুভারভিলগুলোর এক হুবহু প্রতিচ্ছবি। প্রসঙ্গত, গ্রেট ডিপ্রেশনে নিঃস্ব হয়ে পড়া জনমানুষের জন্য গড়ে তোলা টিনের বস্তিগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট (১৯২৯-১৯৩৩) হার্বার্ট হুভারের নামে পরিচিতি পেয়েছিল হুভারভিল হিসেবে।
ব্রুকলিনের একটি হুভারভিল ছবি: ব্রাউনস্টোনার/ নিউইয়র্ক সিটি মিউনিসিপাল আর্কাইভ
আর ব্যাটম্যানের গথাম তো আসলে নিউইয়র্কই। ১৮০৭ সালেই এক রম্য ম্যাগাজিনের লেখক শহরটিকে প্রথম গথাম হিসেবে আখ্যা দেন। নামটি নেয়া হয়েছিল ইংল্যান্ডের নটিংহ্যামশায়ারের এক গ্রামের নাম থেকে। প্রচলিত এক লোককথা অনুযায়ী, ত্রয়োদশ শতকের গোড়ায় রাজা জনের সফর এড়াতে গ্রামটির বাসিন্দারা সবাই উন্মাদ সেজেছিলেন। ওই লোককথাই বব কেইন ও বিল ফিঙ্গারকে অনুপ্রেরণা দিয়েছিল গথামকে অরাজকতাপূর্ণ নগরী হিসেবে উপস্থাপন করতে। আর গ্রেট ডিপ্রেশনে নিউইয়র্কই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল সবচেয়ে বেশি।
ডিসি কমিকসের চিত্রনাট্যকার বিল ফিঙ্গারও পরে স্বীকার করেছিলেন, ‘আমরা একে নিউইয়র্ক বলিনি। কারণ আমাদের ইচ্ছা ছিল যাতে সবাই গথামকে নিজের শহরের সঙ্গে মেলাতে পারে।’
আর সেটিই ঘটলো। মানুষের কল্পনায় গথাম হয়ে উঠল দুর্ভাগাদের আশ্রয়স্থল। এক বিক্ষুব্ধ জনবসতি, যেখানে যেকোনো সময় যে কারো ভয় আর হতাশা বেরিয়ে আসত। ব্যাটম্যানের আবির্ভাবকালীন পরিস্থিতি নিয়ে পরে নিউইয়র্কভিত্তিক এক রম্য সংবাদমাধ্যমে লেখা হয়েছিল, ‘ওয়াল স্ট্রিট ধসে পড়ার পর জানালা দিয়ে ঝাঁপ দেয়ার জন্যও লাইন ধরতে হতো। এমনকি ইস্ট রিভারে মরদেহ রাখার জায়গাও নিলামে বিক্রি হচ্ছিল। মার্কিন অর্থনীতির মহাপতনের দৃশ্যকে পুনঃমঞ্চায়িত করতে ম্যানহাটনের সুউচ্চ ভবনগুলোর ছাদে ওঠার জন্য লাইন দিচ্ছিলেন ব্যাংকার আর সর্বস্বান্ত বিনিয়োগকারীরা। আর বাস্তবে সেই সময়টিতেই নিউইয়র্কের ছাদগুলোয় নাটকীয় আবির্ভাবের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন আরেক ব্যক্তি। নীল-কালো পোশাকের এক ব্যক্তি, যার মুখোশে বাদুড়ের মতোই তীক্ষ্ণ ধরনের খাড়া সুঁচালো কানের নকশা।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট তখন ফ্রাঙ্কলিন ডিলানো রুজভেল্ট। যুক্তরাষ্ট্র থেকে মহামন্দার ক্ষত দূর করতে অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিসরে একগুচ্ছ সংস্কার বাস্তবায়ন শুরু করেন তিনি, যা পরিচিতি পায় ‘নিউ ডিল কর্মসূচি’ হিসেবে। জনমানসকে হতাশা থেকে বের করে আনতেও নেয়া হচ্ছিল নানামুখী পদক্ষেপ। এমনই এক সময় ব্যাটম্যানের আবির্ভাব ঘটে ১৯৩৯ সালের মার্চে। ব্যাটম্যান ও সুপারম্যানের মতো সুপারহিরোদের আবির্ভাব ওই রুজভেল্ট প্রশাসনের কাজগুলোকে অনেকটাই সহজ করে দিয়েছিল।
ফ্রাঙ্কলিন ডিলানো রুজভেল্ট (১৮৮২-১৯৪৫)
এমনকি ব্যাটম্যানের অল্টার ইগো ব্রুস ওয়েনের নামকরণের পেছনেও জনমানসকে হতাশা থেকে বের করে এনে তাদের মধ্যে লড়াকু আশাবাদ তৈরির উদ্দেশ্যই কাজ করছিল বলে পরে দাবি করেছেন বব কেইন ও বিল ফিঙ্গার। ব্রুস ওয়েনের নাককরণও করা হয়েছিল বিখ্যাত মাকড়সার জালবোনা কাহিনীর নায়ক স্কটল্যান্ডের রাজা রবার্ট ব্রুস ও যুক্তরাষ্ট্রের ফাউন্ডিং ফাদারদের অন্যতম অ্যান্থনি ওয়েনের নাম থেকে।
তবে ব্যাটম্যানই গ্রেট ডিপ্রেশনের ভুক্তভোগী মার্কিনীদের জন্য সৃষ্ট প্রথম সুপারহিরো নয়। এর আগে মার্কিন সমাজের সঙ্গে ফ্যান্টম বা ফ্ল্যাশ গর্ডনের মতো সুপারহিরোদের পরিচয় করানোর চেষ্টা করা হলেও দুর্দশাগ্রস্ত মার্কিনীরা তাদের সঙ্গে নিজেদের কোনো মিল খুঁজে পায়নি। এগুলো জনপ্রিয়তা পেয়েছিল অনেক ধীরে। কিন্তু সুপারম্যানের ক্ষেত্রে বিষয়টি ছিল পুরোপুরি বিপরীত। ব্যাটম্যানেরও এক বছর আগে বাজারে আসে লেখক জেরি সিগেল ও ইলাস্ট্রেটর জো শুস্টারের হাতে জন্ম নেয়া পরম পরাক্রমশালী সুপারম্যান। গ্রেট ডিপ্রেশন শুরুর পর কয়েক বছর ধরে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে যাওয়া সুপারম্যান পূর্ণতা পায় ১৯৩৮ সালে বাজারে আসার মধ্য দিয়ে।
কমিক শিল্পে রীতিমতো বিপ্লব এনে দিয়েছিল এ সৃষ্টি। গ্রেট ডিপ্রেশনে জর্জরিত মার্কিন আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে সুপারম্যান ছিল আশার প্রতীক। ওই সময়টিতে মানুষের একজন নায়কের প্রয়োজন ছিল। মার্কিন পতাকার লাল-নীল রঙের আঁটসাঁট পোশাকের সুপারম্যানের মধ্যে তারা তাকে খুঁজেও নিল।
সুপারম্যান ছিল মার্কিন সমাজের আপন করে নেয়া প্রথম অভিবাসী সুপারহিরো। এ চরিত্রের জনক জেরি সিগেল ও জো শুস্টারের মতো তারও আবির্ভাব যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থেকে। তারা দুজনেই ছিলেন ইহুদি অভিবাসী পরিবারের সন্তান, যাদের পরিবার মার্কিন জীবনধারাকে গ্রহণ করেছিল। তাদের আবাসস্থল ক্লিভল্যান্ডে লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক রাজনীতির শক্তিশালী ঐতিহ্য ছিল। সুপারম্যান হয়ে উঠেছিল সিগেল ও শুস্টারের আমেরিকা এবং রুজভেল্টের অর্থনৈতিক পদক্ষেপ ‘নিউ ডিলের’ প্রতি দৃঢ় বিশ্বাসের প্রতীক।
জেরি সিগেল ও জো শুস্টার ছবি: উইকিমিডিয়া কমন্স
অন্য সব সুপারহিরো কমিকের মতো সুপারম্যানেরও মূল উপজীব্য ভালো বনাম মন্দের লড়াই। কিন্তু এর কিছু প্রতীকী দিকও ছিল। সুপারম্যানের বসবাস এক কাল্পনিক জগতে। কিন্তু তাকে মোকাবেলা করতে হয় বাস্তব সমস্যার। কার্টুনিস্ট জুলস ফেইফারের ভাষায় ‘সুপারম্যানের জগত হলো নৈরাশ্যজনক বাস্তবতার ভিত্তিতে গড়া এক কল্পনার জগত।’
সে সময় মার্কিন নাগরিক পরিসরে বড় সংকট হয়ে দেখা দিয়েছিল দুর্নীতি ও সামাজিক অবিচার। পাঠকদের এসব সমস্যাকে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গী থেকে দেখার সুযোগ করে দেয় সুপারম্যান কমিকস। তাদের দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলতে শুরু করেছিল সুপারম্যান। ফলে চরিত্রটিকে আপন করে নিতে তাদের সময় লাগেনি। ১৯৩৮ সালে প্রকাশ হয় সুপারম্যানের প্রথম সংস্করণ অ্যাকশন কমিকস #১। প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই দ্রুত বাজার পেয়ে যায় সুপারম্যান। প্রথম সংখ্যার প্রায় আড়াই লাখ কপি বিক্রি হয়। শিগগিরই সুপারম্যান নিজের কমিক বুক, সংবাদপত্রে দৈনিক স্ট্রিপ, এমনকি রেডিও শোও পেয়ে যায়। প্রতিটি সংখ্যা বিক্রি হতো প্রায় ১৩ লাখ কপি, যা সে সময়ের গড় বিক্রির বহু গুণ।
সুপারম্যান অ্যাকশন কমিকস#১ ছবি: সুপারম্যান হোমপেইজ
প্রথম সংখ্যাতেই সুপারম্যানের পরিচয় দেয়া হয়—‘অত্যাচারিতের রক্ষক আর দুর্দশাগ্রস্তের ত্রাণকর্তা’ হিসেবে। সেখানে সুপারম্যান এক নিরপরাধ নারীকে মৃত্যুদণ্ড থেকে রক্ষার পাশাপাশি পারিবারিক সহিংসতা ঘটানো এক ব্যক্তিকে থামিয়ে দেয়। একই সঙ্গে এক দুর্নীতিবাজের স্থানীয় সিনেটরের ওপর প্রভাব খাটানোও বন্ধ করে দেয় সুপারম্যান। পরের সংখ্যাগুলোয়ও সুপারম্যানকে দেখা যায় খনি শ্রমিকদের সুরক্ষা, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সহায়তা, শিশু শিক্ষা, দুর্বল অবকাঠামো নিয়ে লড়াই করতে। সবার মধ্যে ঘুরে বেড়ানো এক সাধারণ মার্কিন নাগরিক ক্লার্ক কেন্টের মধ্যেই লুকিয়ে ছিল সুপারম্যান। যেখানে সুপারম্যান সমস্যার সমাধান করতো, সেখানে তার অল্টার ইগো সাংবাদিক ক্লার্ক কেন্টের কাজ ছিল সমাজের অসঙ্গতি আর দুর্নীতিগুলোকে তুলে ধরা। অর্থনৈতিক দুরবস্থার কষাঘাতে জর্জরিত মার্কিন সমাজের প্রতি রুজভেল্টের প্রতিশ্রুতিগুলোরই প্রতিচ্ছবি ছিল সুপারম্যান।
সুপারম্যানের মধ্যে নিজেদের সংগ্রামী জীবনকে খুঁজে নিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রে এসে জড়ো হওয়া অভিবাসীরাও। বিশেষ করে দ্বিতীয় প্রজন্মের অভিবাসীরা। সুদূর ক্রিপ্টন গ্রহ থেকে আসা এক শিশু, যে বড় হয়েছে পৃথিবীতে তথা যুক্তরাষ্ট্রে। তার গোপন অতীত, অন্যদের মতো স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা, কিন্তু ভেতরে ভেতরে অসাধারণ ক্ষমতার অধিকারী— এগুলোর মধ্যে নিজেদেরই জীবন আর গোপন ইচ্ছাগুলোর প্রতিফলন দেখতে পেত তারা। সুপারম্যান ছিল তাদের ‘আমেরিকান ড্রিমের’ প্রতীক।
ব্যাটম্যান ও সুপারম্যানের সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে পরের এক বছরের মধ্যেই মার্কিন কমিক জগতে আবির্ভাব ঘটে ওয়ান্ডার উওমেন এবং ক্যাপ্টেন আমেরিকার মতো আরো সুপারহিরোদের। তবে তৎকালীন সামাজিক পরিসরে ব্যাটম্যান ও সুপারম্যানের মতো কারোরই প্রভাব এতটা সুদূরপ্রসারী ছিল না।
ব্যাটম্যান ও সুপারম্যান ছবি: এআই নির্মিত