সাপের বিষে জীবন বাজি, নিজের রক্ত দিয়ে তৈরি করলেন অ্যান্টিভেনম

ইমিউনোলজিস্টের সঙ্গে কথা হওয়ার পর টিম বলেন, এই ফোনকলের অপেক্ষাতেই তো এতোদিন ছিলাম!

শরীরে বারবার বিষ ইনজেক্ট করে নিজেকে ‘জীবন্ত পরীক্ষাগারে’ পরিণত করেছিলেন ক্যালিফোর্নিয়ার টিম ফ্রিড নামের এক বাসিন্দা। কেউ ভাবেন তিনি পাগল, কেউ বলেন সাহসী। তবে বিজ্ঞান বলছে, তিনিই হতে পারেন সাপের কামড়ে মৃত্যু ঠেকানোর ইতিহাস বদলে দেয়া মানুষ।

২০১৭ সালে এমনই এক খবর চোখে পড়ে ইমিউনোলজিস্ট জ্যাকব গ্ল্যানভিলের। জানতে পারেন, ১৮ বছর ধরে কোবরা, মাম্বা, র‍্যাটলস্নেকসহ ভয়ংকর সব সাপের বিষ শরীরে নিচ্ছেন টিম। এমনকি নিজের গায়েও সাপের কামড় নিতে দ্বিধা করেননি তিনি। গ্ল্যানভিল বুঝতে পারেন, এ পাগলামির পেছনে লুকিয়ে আছে এক সম্ভাবনার সিন্দুক।

ইমিউনোলজিস্টের সঙ্গে কথা হওয়ার পর টিম বলেন, এই ফোনকলের অপেক্ষাতেই তো এতদিন ছিলাম!

পরের ঘটনা খুবই সহজ। এরপর টিম ল্যাবে পরীক্ষার জন্য নিজের শরীরের ৪০ মিলিলিটার রক্ত দেন গ্ল্যানভিলকে। সেই রক্ত থেকে নিউরোটক্সিন-বিরোধী অ্যান্টিবডি সংগ্রহ করে গবেষণা শুরু হয় কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক পিটার কোয়ংয়ের সঙ্গে। আট বছরের চেষ্টায় তৈরি হয় একটি নতুন ধরনের অ্যান্টিভেনম—যা ১৯ প্রজাতির বিষধর সাপের বিরুদ্ধে কাজ করে।

ল্যাবরেটরিতে অ্যান্টিভেনম নিয়ে কাজ করছেন মার্ক বেলিন ও হানাহ হিরু

তিন উপাদানের এ অ্যান্টিভেনমে রয়েছে দুটি অ্যান্টিবডি—এলএনএক্স-ডি ০৯ ও এসএনএক্স-বি ০৩। এগুলো টিমের রক্ত থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। সঙ্গে আছে ছোট-মলিকিউল ওষুধ ভারেসপ্লাডিব, যা প্রায় ৯৫ শতাংশ সাপের বিষে থাকা প্রাণঘাতী এনজাইমকে রোধ করতে পারে। পরীক্ষাগারে ইঁদুরের শরীরে এটি ১৩টি প্রজাতির বিষে পুরোপুরি এবং ৬টির ক্ষেত্রে আংশিক সুরক্ষা দিয়েছে।

গ্ল্যানভিল বলেন, টিম ফ্রিডের মতো কেউ এতটা গভীরভাবে বিষ নিয়ে কাজ করেননি। তবে কেউ যেন নিজের শরীরে এভাবে বিষ ইনজেক্ট করে এ পথ অনুসরণ না করেন। এটি খুব ঝুঁকিপূর্ণ।

যদিও অ্যান্টিভেনমটি এখনো মানুষের শরীরে পরীক্ষা করা হয়নি। তবে গবেষকেরা বলছেন, প্রচলিত ঘোড়ার অ্যান্টিবডিভিত্তিক অ্যান্টিভেনমের তুলনায় এটি আরো নিরাপদ হতে পারে। কারণ এতে অ্যালার্জি বা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার সম্ভাবনা অনেক কম।

এছাড়া পরবর্তী ধাপে অস্ট্রেলিয়ায় কুকুরের ওপর ফিল্ড ট্রায়াল চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে গবেষকদের। আর টিম ফ্রিড? তিনি এখন অপেক্ষা করছেন, তার রক্ত থেকে পাওয়া অ্যান্টিবডিগুলো যেন হাজারো প্রাণ বাঁচাতে পারে—সে দিনটির জন্য।

—সিএনএন

আরও