আড়াল থেকে
আরো এক দফা প্রকাশ্যে আসলেন রহস্যময় গ্রাফিতিশিল্পী বাঙ্কসি। বরাবরের মতো
শিল্পকর্ম দিয়েই তার আলোয় আসা। এবার তার বিষয়বস্তু ইউক্রেনে রুশ হামলাকে ঘিরে।
দেশটির
রাজধানী কিয়েভ ও সদ্যমুক্ত কয়েকটি অঞ্চলে দেখা গেছে সাতটি গ্রাফিতি। এর তিনটির ছবি
গত শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করার সঙ্গে সঙ্গে ভাইরাল হয়ে যায়।
গ্রাফিতিগুলোতে ওঠে এসেছে ইউক্রেন যুদ্ধের চালচিত্র ও পরিণতি।
সমকালীন রাজনীতি ও বিশ্বব্যবস্থাকে উপজীব্য করে আঁকা গ্রাফিতির জন্য বিখ্যাত বাঙ্কসি। অবশ্য বাঙ্কসি তার ছদ্মনাম। সঠিক পরিচয় কেউ জানে না। পুলিশের কাছেও নেই তথ্য। গেরিলার মতো এসে শহরের দেয়ালে ছবি এঁকে রেখে হারিয়ে যান। রেখে যান শিল্পের ভাষায় করা প্রতিবাদের চিহ্ন। সড়কের নির্দেশক, ভেঙে পড়া দেয়াল কিংবা যে কোনো স্থাপনাই তার চিত্রের সঙ্গে মিশে এক অদ্ভুত ক্যানভাসে পরিণত হয়। বাঙ্কসি তাতে তুলে ধরেন ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ কিংবা মন্তব্য।
ফিলিস্তিন ও
পশ্চিম তীরে গিয়েও নয়টি গ্রাফিতি এঁকেছিলেন আগে। ব্যাপক আলোচনা তৈরি করে সেগুলো।
অধিকাংশই ভাইরাল হয় ইন্টারনেটে। অবশ্য তার আগেও নিজের কাজের জন্য মূলধারার
মিডিয়াতে পরিচিতি পেয়েছেন বাঙ্কসি। ২০১০ সালে তার ‘এক্সিট থ্রু দ্য গিফট শপ’ অস্কারের আসরে বেস্ট ডকুমেন্টারি বিভাগে মনোনয়ন পায়। ২০১৫
সালে অনুষ্ঠিত হয় তার চিত্রকর্ম প্রদর্শনী ‘ডিজমাল্যান্ড’।
নব্বইয়ের দশকের শেষ দিক থেকেই বাঙ্কসি কর্মমুখর। শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে বিদ্রুপাত্মক প্রতিবাদ তার গ্রাফিতির প্রধান বৈশিষ্ট্য। ২০০৯ সালে তার আঁকা ‘ডেভলপড পার্লামেন্ট’-এ দেখা যায় যুক্তরাজ্যের সংসদের নিম্নকক্ষে মানুষের বদলে একদল শিম্পাঞ্জি বসা। রাষ্ট্রের বিধানদাতাদের এমন চিত্র ব্রিটেনের না শুধু, যারা পৃথিবীর মানুষকেই চমকে দেয়।
গত গ্রীষ্মে
ইংল্যান্ডের উপকূলীয় শহরগুলোতে শেষবার গ্রাফিতি এঁকেছিলেন তিনি। তারপর এই প্রথম
প্রকাশ্যে আসা। তাও আবার ইউক্রেনের মাটিতে। যখনই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেই ইউক্রেনের
দেয়ালে গ্রাফিতি আঁকার কৃতিত্ব স্বীকার করেছেন, সঙ্গে সঙ্গেই তাকে ধন্যবাদ জানায়
ইউক্রেনের নাগরিক ও সমর্থকেরা।
বাঙ্কসির জনপ্রিয়তা অনুমান করা যায় গত বছরের ঘটনায়। সামাজিক ও রাজনৈতিক কারণে অর্থসংগ্রহের জন্য পেইন্টিং বিক্রির উদ্যোগ নেন তিনি। নিলামে তোলা হয় কয়েকটি কাজ। সেখানে শুধু একজন নার্সকে সুপারহিরো হিসেবে আঁকা পেইন্টিংটিই ২ কোটি ৩১ লাখ ডলারে বিক্রির রেকর্ড তৈরি করে। প্রতিবাদের ভাষায় সরব থেকেছেন প্রায়ই। বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের সময় ব্রিস্টলে গ্রেফতার হওয়া কর্মীদের সহযোগিতায় বিক্রি করেন টি-শার্ট।
বাঙ্কসিই অস্থির বিশ্বব্যবস্থায় শোষিতের মুখপাত্র। তাকে
আশ্রয় করেই প্রতিবাদের ভাষা ও শিল্প হিসেবে গ্রাফিতি নতুন মাত্রা লাভ করেছে। বর্তমানে
তার প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে অনেক দেশে। বাংলাদেশেও ‘সুবোধ’ গ্রাফিতির পেছনে বাঙ্কসির প্রভাব থাকা অস্বাভাবিক না।