টাইটানিকের ক্যাপ্টেন: বাস্তবের এডওয়ার্ড জে স্মিথ ও পর্দার বার্নার্ড হিল

টাইটানিক প্রেমীদের কাছে এডওয়ার্ড স্মিথ কেবল একটি নাম নয়, বরং এক বিষাদময় বীরত্বের প্রতীক। ১৯৯৭ সালে ঠিক এই চরিত্রটিকেই জেমস ক্যামেরনের ‘টাইটানিক’ সিনেমায় পরম মমতা ও গাম্ভীর্যে পর্দায় ফুটিয়ে তুলেছিলেন ব্রিটিশ অভিনেতা বার্নার্ড হিল।

টাইটানিকের ক্যাপ্টেন এডওয়ার্ড জন স্মিথের নাম জড়িয়ে আছে বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত জাহাজডুবির সঙ্গে। ১৮৫০ সালে জন্ম নেয়া এই ব্রিটিশ নৌ-ক্যাপ্টেন হোয়াইট স্টার লাইনের সবচেয়ে অভিজ্ঞ কর্মকর্তা ছিলেন। টাইটানিক ছিল তার ক্যারিয়ারের শেষ জাহাজ। ১৯১২ সালের সেই ভয়াল রাতে ‘আইসবার্গ’ বা বরফশৈলের সঙ্গে সংঘর্ষের পর যাত্রীদের নিরাপদে নামাতে শেষ পর্যন্ত ব্রিজেই অবস্থান করেন তিনি। উদ্ধার পাননি, কিন্তু থেকে যান দায়িত্ববোধের প্রতীক হয়ে।

টাইটানিক প্রেমীদের কাছে এডওয়ার্ড স্মিথ কেবল একটি নাম নয়, বরং এক বিষাদময় বীরত্বের প্রতীক। ১৯৯৭ সালে ঠিক এই চরিত্রটিকেই জেমস ক্যামেরনের ‘টাইটানিক’ সিনেমায় পরম মমতা ও গাম্ভীর্যে পর্দায় ফুটিয়ে তুলেছিলেন ব্রিটিশ অভিনেতা বার্নার্ড হিল।

টাইটানিক বিধ্বস্তের সেই কালরাতে জাহাজ যখন হিমশৈলের আঘাতে ডুবতে শুরু করে, তখন জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি যাত্রীদের উদ্ধারে অটল ছিলেন। রূপালি পর্দায় বার্নার্ড হিল তার অভিনয়ের মাধ্যমে স্মিথের সেই শান্ত অথচ দৃঢ় ব্যক্তিত্বকে পুনর্জীবিত করেছিলেন। বিশেষ করে জাহাজের হুইল হাউসে পানির প্রচণ্ড চাপের মুখে তার শেষ মুহূর্তের দৃশ্যটি আজও দর্শকদের কাঁদায়।

কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, বার্নার্ড হিলের অভিনয় এতটাই নিখুঁত ছিল যে অনেক দর্শক স্মিথের আসল চেহারার চেয়ে হিলের মুখচ্ছবিকেই ক্যাপ্টেন হিসেবে বেশি মনে রাখেন। কাকতালীয়ভাবে, অভিনেতা বার্নার্ড হিলও ২০২৪ সালের মে মাসে পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন। কিন্তু ২৭ জানুয়ারির বিশেষ দিনে ক্যাপ্টেন স্মিথের জন্মদিন স্মরণ করতে গিয়ে ভক্তরা স্মৃতির আয়নায় বার্নার্ড হিলকেও খুঁজে পান। ইতিহাসের স্মিথ আর পর্দার হিল এভাবেই মিলেমিশে এক হয়ে গেছেন টাইটানিকের অবিনশ্বর গাঁথায়।

আরও